যেসব অভিযোগে জায়েদ খানকে নিষিদ্ধ করা হলো

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২০     আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২০   

বিনোদন প্রতিবেদক

নিষিদ্ধ করা হলো বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানকে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৭টি সংগঠন এফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাব হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জায়েদকে সব ধরণের কর্মকাণ্ডে  অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাকে নিষিদ্ধের বিষয়টি তুলে ধরেন। 

সম্মেলনে জায়েদ খানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয় ১৮ সংগঠনের পক্ষ থেকে। লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, 'আপনারা জানেন, চলচ্চিত্র নির্মাণে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নির্মাণ ব্যয় কমানাের লক্ষ্যে এবং সুষ্ঠ পরিবেশ ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে এ বছরের শুরুর দিকে আমরা চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠন একত্রে মিলিত হয়ে 'চলচ্চিত্র নির্মাণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি' নামে একটি কমিটি গঠন করি। সব সমিতি এই কমিটির নীতিমালার সাথে একমত পােষণ করলেও শুধু ব্যক্তিস্বার্থের কারণে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি এর বিরােধিতা করে। আমরা তাদের বােঝানাের জন্য বেশ কয়েকজন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় সিনিয়র শিল্পী নিয়ে একটা সভা করি। যাদের অধিকাংশই আবার শিল্পী সমিতির সম্মানিত উপদেষ্টা। তারাও আমাদের নীতিমালার প্রশংসা করেন এবং চলচ্চিত্রের স্বার্থে নীতিমালাটি মেনে নেবার জন্য শিল্পী সমিতির নেতৃবৃন্দকে অনুরােধ করেন। কিন্তু তারপরও শিল্পী সমিতির নেতৃবৃন্দ আমাদের সকলের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি নীতিমালাকে মেনে নেননি।'

জায়েদ খানের নাম উল্লেখ করে ১৮ সংগঠনের পক্ষে গুলজার বলেন, 'আমরা বিশ্বস্তসূত্রে জানতে পেরেছি, এই নীতিমালার সবচেয়ে বেশি বিরােধিতা করছেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। তার কারণেই শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নীতিমালাটি মেনে নিতে পারছেন না। এছাড়াও জায়েদ খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শিল্পী-কুশলীকে হয়রানি করা, মিথ্যা মামলা দেয়া এবং ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করার অনেক অভিযােগ এসেছে।'

জায়েদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে বলা হয়, 'শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান ২০১৯ সালের ৩ এপ্রিলের জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে খরচের জন্য নগদ ৬ লক্ষ টাকা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের নিকট থেকে সরাসরি গ্রহণ করেন। কিন্তু জাতীয় কমিটি কর্তৃক গঠিত অর্থ সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বাচ্চু, জায়েদ খানকে বারবার চিঠি দিয়ে সভায় উপস্থিত থেকে ৬ লক্ষ টাকার হিসাব প্রদান করার জন্য অনুরােধ করলেও তিনি কোনো সভায় উপস্থিত হননি এবং হিসাবও দেননি। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন পরিচালক সমিতির সভাপতি ছাড়াও সাধাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম খোকন, ফিল্ম ক্লাবের নেতা অমিত হাসান ও ওমর সানী এবং ১৮ সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গতকাল ১৪ জুলাই চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৮ সংগঠনের এক জরুরি সভায় জায়েদ খানকে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকান্ড থেকে বয়কট অর্থাৎ বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য তার সাথে কেউ কাজ করবেন না এবং তার সাথে কেউ কোনো কাজে অংশগ্রহণ করবেন না। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নিয়ে গঠিত চলচ্চিত্র পরিবারের প্রণয়নকৃত নীতিমালা মেনে যারা কাজ করবেন শুধু তাদের নিয়েই এখন থেকে চলচ্চিত্র নির্মিত হবে। যারা এই নীতিমালা মেনে কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করবেন তাদের নিষিদ্ধ করা হবে।

নিষিদ্ধ শিল্পী-কুশলীদের নিয়ে যে সকল প্রযােজক অথবা পরিচালক কাজ করার উদ্যোগী হবেন কিংবা কাজ করবেন তাদের নিজ নিজ সমিতির সদস্যপদ থেকে গঠনতন্ত্র মােতাবেক বহিষ্কার করা হবে অর্থাৎ তাদের সদস্যপদ বাতিল করা হবে।