পূর্ণিমার প্রথম রোজার স্মৃতি

‘সেহেরিতে না ডেকে দিলে শুরু হয়ে যেতো কান্নাকাটি’

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২০     আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২০   

বিনোদন প্রতিবেদক

শুরু হচ্ছে রমজান মাস। পবিত্র মাস।  ইবাদতের মাস। স্রষ্টার রহমতের মাস। এ মাসে ইসলাম ধর্মের আসমানী কিতাব পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়। মুসলমান এই মাসটি পানাহার থেকে বিরত থেকে স্রষ্টার ইবাদতে মশগুল হন।  

প্রতিটি মুসলমান মানই এই রমজান মাসে রোজা রেখে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করেন। এই রোজা রাখা নিয়ে  আমাদের রয়েছে ছোটবেলার অনেক মধুর স্মৃতি। ব্যতিক্রম নন সেলেব্রেটিরাও। ছেলেবেলার সেই স্মৃতি রোমন্থন করেছেন ঢাকাইয়া চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা পূর্ণিমা। 

রোজা নিয়ে তার স্মৃতিচারণ করে পূর্ণিমা বলেন, ছোটবেলায় রোজার অনেক স্মৃতি রয়েছে। সেসব সত্যিই খুব মজার। শৈশবের সেই সোনালি দিনগুলো আমার খুব মনে পড়ে। এক মাস ধরে মা-চাচিরা রোজা রাখতেন। তাদের দেখাদেখি আমিও রাখতাম। অবশ্য সবসময় পারতাম না। তবে আমরা দেখে দেখে যা শিখি তা অনেক বড় পাওয়া। আর ১০টা দিনের চেয়ে সাহরি-ইফতারিতে একটু ভালো খাওয়ার চেষ্টা করা শিশুবেলা থেকেই শেখা।'

তবে এবারের রমজান মাস অন্য বছরের রমজান মাসের মতো নয়। যখন রমজন মাস শুরু হচ্ছে ঠিক সময়ে  করোনা ভাইরাসের মতো মহামারিতে বিশ্বব্যাপী মৃত্যু হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের। এতো মধ্যে রমজানের তারাবাহি মসজিদে না গিয়ে বাসায় পড়ার  আহ্বান জানিয়েছেন সরকার। এমন আহ্বান রাখতে কষ্ট হবে প্রতিটি মুসলমানের। তবুও কিছু করার নেই। সবাইকে নিরাপদে রাখতে এটি মানা আবশ্যক বলেই মন্তব্য পূর্ণিমার। 

পূর্ণিমা যখন ছোট ছিলেন সে সময় রোজা শীতের মধ্যে হতো। বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন,  শীতের সময় সাহরি খেতে ওঠতে কষ্ট হতো। তবুও বাসার সবাই তা খেতে উঠতেন। আমার কষ্ট হবে ভেবে উঠাতেন না। আমি টের পেয়ে উঠে যেতাম। না উঠালে কান্নাকাটি করতাম। অনেক সময় দেখতাম শীতকালে কনকনে ঠাণ্ডায় ভোররাতে উঠে মা সাহরি রান্না করতেন। আবার রান্না করা খাবার গরম করতেন। ইফতারের সময় হলে বাইরে থেকে সবাই বাসা চলে আসতেন। আসলে রমজান আমাদের শৃঙ্খলায় রাখত। এখনও সেই শৃঙ্খলার মধ্যেই আছি।

ছোটবেলার রোজা মানেই অন্যরকম আনন্দ। ভাবতেও ভালো লাগে। বর্তমানে ছোটরা সেরকম পরিবেশ পাচ্ছে না। অতিরিক্ত নগরায়ণে সবকিছু হারিয়ে যাচ্ছে। এখন শৈশব বলতে আর কিছু থাকছে না। সবকিছুই বাক্সবন্দি হয়ে গেছে । যোগ করে বলেন পূর্ণিমা। 

রোজার স্মৃতিচারণ শেষে দেশের মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানান এ নায়িকা। বলেন, ‌'করোনা ভাইরাস এমন একটি ভাইরাস যার কোন ভ্যাকসিন আবিস্কার হয়নি। তাই আপাতত এ ভাইরাসের ওষুধ হচ্ছে ঘরে থাকা। আপনি আমি ঘরে থাকলেই নিরাপদ থাকবো। তাই আসুন সবাই আপাতত ঘরে থাকি। আশা করি এই রোজাতেই মহান আল্লাহ করোনা ভাইরাসের মতো এই মহামারি থেকে সবাইকে মুক্তি দেবেন। '