‘শত প্রতিকূলতার মধ্যেও ভালো কাজ হচ্ছে’

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ২২ আগস্ট ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

অনিন্দ্য মামুন

মোশাররফ করিম। অভিনেতা।  আজ এ তারকার জন্মদিন। ১৯৭১ সালের ২২ আগস্ট ঢাকায় জন্ম নেওয়া এই অভিনেতার পৈতৃক বাড়ি বরিশাল। ১৯৮৬ সালে মাধ্যমিক পাসের পরই অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা অন্য মাত্রা নেয়। প্রথমে মঞ্চ নাটক, এরপর টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন তিনি। যেকোনো চরিত্রে নিজেকে সাবলীলভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন নানা সম্মাননা। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- অনিন্দ্য মামুন

অন্যান্য ঈদের চেয়ে এবার আপনার নাটক অনেক কম দেখা গেল। কারণ কী?

কম করেছি না বেশি করেছি জানি না। আমি যে কাজগুলো করি সেখানে নিজেকে ভাঙতে চেষ্টা করি। অনেক সময় সম্ভব হয় না। যেখানে নিজেকে ভাঙতে পারি তাতে সন্তুষ্টি পাই। এবারের ঈদে সন্তুষ্টি নিয়ে বেশ কিছু কাজ করেছি। সংখ্যা হিসেবে করিনি। এখন যদি বলেন, আগে তো আরও বেশি সংখ্যক নাটক থাকত, এখন সে সংখ্যা কমে এল কেন? যখন বেশি করেছি তখনও বলা হতো নাটক এত বেশি করি কেন? প্রশ্ন থাকবেই। আমি শুধু আমার অভিনয়টা করতে চাই। সংখ্যার হিসাবে কম না বেশি এটা দেখি না। 

তাহলে বলছেন এবার ঈদের নাটকগুলোতে কাজ করে তৃপ্তি পেয়েছেন?

একজন অভিনেতা কখনও তৃপ্ত হন না। আমি নিজে অনেকবার ভেবেছি তৃপ্তির ব্যাপারটা আসলে কোথায়! সম্পত্তি, গাড়ি, বাড়ি ওগুলো আমাকে তৃপ্তি দেয় না। একটা দৃশ্য যখন মনের মতো করে 'ওকে' হয় তখনই আসল তৃপ্তিটা আসে। এই তৃপ্তির জন্যই ছুটি। প্রতিনিয়ত ছুটি। অভিনেতার তৃপ্তির কোনো লিমিট নেই। এটা আনলিমিটেড। একজন অভিনেতার চাওয়া-পাওয়া আনলিমিটেড হওয়া উচিত।

নাটকে একঘেয়েমির একটা বিষয় রয়েছে। একই গল্প ঘুরে ঘুরে দেখা যাচ্ছে নাটকে ...

আমাদের উপমহাদেশে একটা জিনিস দেখা যায়, কিছু হিট হলে সবাই তার পেছনেই ছোটে। মাথা না খাটিয়ে ওই অনুকরণে চলতে থাকে। এতে হয় কী, যারা ক্রিয়েটিভ না তাতেই তাদের হয়ে যায়। এটা একটা বন্ধ্যত্ব নিয়ে আসে। কিন্তু আমরা যারা একটু সৃষ্টিশীল কাজ করতে চাই, শিল্পসম্মত কাজ চাই তারা একটু অসহায় হয়ে যাই।

এখনকার নাটকে অশ্নীল শব্দের ব্যবহার বেশি দেখা যাচ্ছে। এটা কি খুবই দরকার?

নাটক কিন্তু সিনেমা হলে গিয়ে দেখা হয় না। এটা ড্রয়িংরুমের বিনোদন মাধ্যম। এখানে অনেক হিসাব করে চলতে হবে। বাবা, মা, ভাই, বোন সবাই একসঙ্গে ঘরে বসে নাটক দেখেন। এখানে এমন কিছু দেখানো উচিত নয়, যাতে পরিবার একসঙ্গে দেখতে পারে না। নাটকে অশ্নীল শব্দ না থাকাটাই নাটকের সৌন্দর্য। তবে গল্পের প্রয়োজনে দুয়েকটি 'স্ল্যাং ওয়ার্ড' ব্যবহার হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ওই শব্দগুলোও মিউট করে রাখা দরকার। তবে শুধু শুধু নাটকে অশ্নীল শব্দ ব্যবহার করাও একটা বন্ধ্যত্ব। 

নাটকে শত শত সংকটের কথা বলা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভালো নাটক হচ্ছে না বলেও অনেকে মন্তব্য করছেন। আপনি এ ক্ষেত্রে কী বলবেন?

নাটকের অবস্থা ভালো। কোনো সংকট নেই। এই প্রশ্নের উত্তরে এ বাক্য ব্যবহার করতে পারলে আনন্দ পেতাম। কিন্তু পারছি না। কারণ যেভাবে এখন চলছে, এভাবে চলতে দেওয়া ঠিক নয়। এখানে এখন এত এত সংকট যে বিস্মিত হওয়া ছাড়া উপায় নেই। তবে এটা ভাবলেও অবাক হই যে, শত সংকটের মাঝেও কিন্তু ভালো নাটক ঠিকই হচ্ছে। এখানে ভালো কাজ উপহার দেওয়ার মতো সেই মানের কোনো ইনস্টিটিউশন নেই। যেখান থেকে বড় বড় ক্যামেরাম্যান বের হবে, এডিটর বের হবে, অভিনেতা বের হবে, পরিচালক বের হবে। তার কিছুই নেই। তবুও এখানে ভালো নাটক হচ্ছে। 

নাটক নিয়ে অনেক কথা শোনা যায়। অনেক শিল্পীই নাকি নিজেদের কোরামের বাইরে কাজ করছেন না?

আমি এসব বিষয়ে খুব একটা জানি না। আমি যে নাটকে অভিনয় করি, সেখানে আমার বিপরীতে কে অভিনয় করবে সেটি নির্ধারণ করবেন পরিচালক। তার আগে উনি আমার সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন যে অমুককে নেওয়ার কথা ভাবছি। এটা হতে পারে! কিন্তু আমরা আর মামারা মিলে কাজ করলাম, আর কেউ করবে না; পৃথিবীর কোথাও এমনটা আছে কি না আমার জানা নেই। এর আগে একই নাটকে ফরীদি ভাই, আফজাল ভাই, তারিক আনাম ভাইকে দেখেছি। আমি, চঞ্চল, মিলনসহ অনেকেই একই নাটকে কাজ করেছি। নির্দিষ্ট শিল্পী ও পরিচালকদের সঙ্গে কাজ শিল্পের ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্ব নিয়ে আসবে। আমি আমার ক্ষেত্রে বলছি, পৃথিবীর কোনো শিল্পীর সঙ্গে আমার কাজ করতে অসুবিধা নেই যদি কাজটি ভালো হয় এবং আমার মনে তৃপ্তি এনে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

এখন শিল্পী সম্মানী এত বেশি যে নাটকের বাজেটের অর্ধেকই দিতে হয়... এটা কেন?

একজন শিল্পী পারিশ্রমিক চাইতেই পারে। কারণ তিনি চাকরি করেন না। তবে শিল্পীর পারিশ্রমিক চাহিদার ধরনটা সবক্ষেত্রে একই হওয়া উচিত। এতে সবাই উপকৃত হবে।