শুক্রবার বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সিনেটের বিশেষ অধিবেশন। এ অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্ট অনুযায়ী সিনেটরদের ভোটে তিন সদস্যের উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যাদের মধ্য থেকে একজনকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি ও আচার্য। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতি। প্রশ্ন উঠছে কে হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী উপাচার্য।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ থেকে একটি এবং ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’র দুটি প্যানেল থেকে তিনজন করে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৯জন অধ্যাপক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমের নেতৃত্বে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’-এর সভাপতি, গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের ডিন ও পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার এবং বর্তমান শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ একটি প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

এ ছাড়া ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’-এর আরেকটি অংশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফি, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক তপন কুমার সাহা এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ-জেইউ) অধ্যাপক মো. মোতাহার হোসেনকে প্রার্থী করে আরেকটি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. আমির হোসেনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই পক্ষের অন্য দুই সদস্য হলেন- প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক পৃথ্বিলা নাজনীন নীলিমা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক এমএ মতিনের নেতৃত্বে আরও তিনজন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে তাদের পক্ষ থেকে প্রার্থীতালিকা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ আটবছর পরে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সিনেটরদের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে এমন কেউ উপাচার্য হয়ে আসবেন যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান বজায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেবেন। তবে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনে কোন পক্ষ বা কারা এগিয়ে থাকবেন এই হিসেব-নিকেশ মেলানো কঠিন বলে মনে করছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি এবায়দুল্লাহ তালুকদার বলেন, ‘উপাচার্য নির্বাচনে অনেকেই অনেক ‘রোল’ (ভূমিকা) পালন করে। তবে শেষ পর্যন্ত কী হবে তা বলা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় যাতে ভালো চলে, স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় থাকে এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। প্রশাসনিকভাবে দক্ষ, সৎ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দরদ রয়েছে এমন কাউকে যিনি মেরুদণ্ড শক্ত করে দায়িত্ব পালন করতে পারবে তাকে আমরা ভোট দিতে চাই।’

নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসন গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাসী। তারই ধারায় উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের জন্য সিনেটরসহ সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।’

আরেক পক্ষের নেতৃত্ব দেওয়া অধ্যাপক মো. আমির হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কাজ করার লক্ষে আমরা প্যানেল ঘোষণা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষেই আমরা নির্বাচনে এসেছি। নির্বাচিত হলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজ করবো। এজন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটরদের সমর্থন প্রত্যাশা করছি।’

বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের একাংশের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে ছাত্ররা যাতে সর্বোচ্চ সুবিধা পায় এ বিষয়গুলো আমরা দেখবো। সিনেটরদের প্রতি আহ্বান, এমন কাউকে নির্বাচন করুন যিনি ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করতে পারে। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম, কাজ করার সুযোগ পেলে নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান রেখে কাজ করবো।’