বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বরখাস্ত হওয়া অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানকে বাসা ছাড়তে দেওয়া নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। এর ফলে অধ্যাপক মোর্শেদ হাসানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার বাসা ছাড়তেই হবে।

আদালতে মোর্শেদ হাসানের করা আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরসেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল কালাম খান দাউদ।

২০১৮ সালের ২৬ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকের স্বাধীনতা দিবস সংখ্যায় অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান ‘জ্যোতির্ময় জিয়া’ শিরোনামে এক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। নিবন্ধে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য রয়েছে এমন অভিযোগ আনে ছাত্রলীগ।

এ ঘটনায় তাকে বরখাস্ত করার দাবিতে আন্দোলনের পাশাপাশি উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে অভিযোগের সত্যতা থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও নিবন্ধের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। এরপর ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেটের এক সিদ্ধান্তে অধ্যাপক মোর্শেদ হাসানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

জানা গেছে, উত্তর ফুলার রোডের ৩৭ নম্বর আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় ২৮০০ বর্গফুটের বাসায় থাকছেন মোর্শেদ হাসান খান। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তার বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু পরে তিনি অব্যাহতির বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করলেও কোনো স্থগিতাদেশ না দিয়ে শুধু রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ জুন অধ্যাপক মোর্শেদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার বাসা ছাড়তে নোটিশ দেয় ঢাবি কর্তৃপক্ষ। পরে ওই নোটিশের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি।