খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করায় স্থাপত্য বিভাগের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র এস এম নাহিন রহমানকে রোববার মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  

কুয়েট ছাত্র নাহিন রহমান অভিযোগ করে বলেন, রোববার রাত ১টা ১৮ মিনিটে তিনি ক্যাম্পাসের দুর্বার বাংলা সংলগ্ন রাস্তায় হামলার শিকার হন। ৫/৬ জন তার মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে মারতে মারতে তাকে বাইক থেকে নিচে ফেলে দেয়। এছাড়া তারা মোটর সাইকেলটি ভাঙচুর করে। হামলাকারীদের মধ্যে একজনকে তিনি চিনতে পারেন। তিনি কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের অনিকুর রহমান। 

তিনি জানান, অনিকুর রহমান কুয়েট শিক্ষক ড. সেলিমের মৃত্যুর ঘটনায় কুয়েট থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিল। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বহিষ্কারাদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।

হামলার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, অধ্যাপক ড. সেলিমের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবিতে গত ডিসেম্বর মাসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আন্দোলন করেছিল। ওই আন্দোলনে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। সে কারণে তার ওপর হামলা হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। বিষয়টি তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্টের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর লিখিতভাবে জানিয়েছেন। ওই আবেদনে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে থাকা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখলে হামলাকারীদের শনাক্ত করা যাবে।

এ ব্যাপারে কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আনিসুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন, তবে লিখিত কোনো অভিযোগ পাননি।

কুয়েটের জনসংযোগ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম সোহাগ বলেন, এ ঘটনায় ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহানকে প্রধান করে সোমবার ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কুয়েট কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটিকে আগামী ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান তার মনোনীত ছাত্রকে লালন শাহ হলের ডাইনিং ম্যানেজার নিযুক্ত করার জন্য হলের প্রভোস্ট ড. সেলিমকে চাপ প্রয়োগ করেন। গত ৩০ নভেম্বর সেজান নেতাকর্মীদের নিয়ে আবারও ড. সেলিমকে চাপ প্রয়োগ এবং তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এই চাপ সহ্য করতে না পেরে বাসায় গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে ড. সেলিমের মৃত্যু হয়েছিল।