রেলের মিটার গেজ ইঞ্জিনসহ অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগে রাজধানী ঢাকার রেল ভবনে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জেসমিন আক্তার ও উপসহকারী পরিচালক মো. কামিয়াব আফতাহি-উন-নবীর সমন্বয়ে গঠিত এনফোর্সমেন্ট টিম ওই অভিযান চালিয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি রেলের ১০টি মিটার গেজ লোকোমোটিভ ইঞ্জিন ক্রয়ে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ আসে দুদকে। পরে অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়। এরপর কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে রেল ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে টিমের সদস্যরা রেল সচিব ও মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তাদের সহায়তায় 'বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য লোকোমোটিভ রিলিফ ক্রেন এবং লোকোমোটিভ সিমুলেটর সংগ্রহ' শীর্ষক প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, রেলের লোকোমোটিভ ইঞ্জিন ক্রয়ের লক্ষে ২০১৫ সালে ওই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফায় বৃদ্ধি করে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মেয়াদকাল নির্ধারন করা হয়।

দুদক টিম কর্তৃক প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইঞ্জিনগুলোতে তিনটি ক্যাপিটাল কম্পোনেন্টের ভিন্নতা আছে, যা চুক্তি বহির্ভুত। চুক্তিতে তিন হাজার হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন দেওয়ার কথা থাকলেও দুই হাজার হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন ক্রয় করা হয়েছে। টিএ-১২ মডেলের অল্টারনেটরের পরিবর্তে টিএ-৯ মডেল সংযোগ করা করা হয়েছে। এছাড়াও ২৯০৯-৯ মডেলের পরিবর্তে ২৯০৯ মডেল কেনা হয়েছে। যা ক্রয় সংক্রান্ত শর্তাবলীতে ছিল না।

রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা শেষে টিমের সদস্যরা অভিযোগটি প্রকাশ্যে অনুসন্ধানের সুপারিশ করে শিগগির কমিশনে প্রতিবেদন পেশ করবে।