'ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট' ধারণার প্রবক্তা বিবি রাসেল প্রাকৃতিক তন্তু ও টেকসই ফ্যাশন নিয়ে কাজ করছেন কয়েক দশক ধরে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঐতিহ্যবাহী বয়নশিল্প ও প্রাকৃতিক তন্তু উদ্ধারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিবি রাসেল ১৯৭২ সালে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশনে পড়তে যান। ১৯৭৫ সালে নিজের স্নাতক প্রদর্শনীর আগেই ভোগ, কসমোপলিটান প্রভৃতি ম্যাগাজিনে মডেল হিসেবে সাড়া ফেলেন। ১৯৯৪ সালে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে এসে তাঁত, বস্ত্র ও হস্তশিল্প সংরক্ষণ এবং উন্নয়নে 'বিবি প্রডাক্টস' প্রতিষ্ঠা করেন। বিবি রাসেল ২০০৮ সাল থেকে জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত। তিনি ২০০৪ সালে ইউনেস্কো পিস প্রাইজ, ২০১০ সালে স্পেনের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক 'ক্রস অব অফিসার অব দ্য অর্ডার অব কুইন ইসাবেলা' এবং ২০১১ সালে জার্মানির 'ভিশন অ্যাওয়ার্ড' লাভ করেন। ২০১৫ সালে লাভ করেন 'রোকেয়া পদক'।
সমকাল: ফেসবুকে দেখেছি, আপনি পশ্চিমবঙ্গের ফুলিয়া গিয়েছিলেন। সেখানেই তো আমাদের টাঙ্গাইলের বসাকদের বড় একটি অংশ দেশভাগের পর চলে গিয়েছিল।
বিবি রাসেল: ঠিকই ধরেছেন; ফুলিয়া তাঁতশিল্পের জন্য বিখ্যাত। এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হস্তচালিত তাঁত ফুলিয়াতে। এখান থেকে টাঙ্গাইল শাড়ি, ফুলিয়া শাড়ি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। আমার মা- নানিদেরও ফুলিয়া শাড়ি পরতে দেখেছি। ওই এলাকায় গিয়ে তাই নস্টালজিক হয়ে পড়েছিলাম। প্রথমবার জুন মাসে ২০ দিনের জন্য; এই আগস্ট মাসে ১০ দিনের জন্য গিয়েছিলাম।
সমকাল: সেখানে বিশেষ কোনো কাজে গিয়েছিলেন?
বিবি রাসেল: দেখুন, ফুলিয়ার মতো বিশ্ববিখ্যাত তাঁত অঞ্চলেও সিনথেটিক তন্তু ও পাওয়ারলুম বা যান্ত্রিক তাঁতের দাপটে প্রাকৃতিক তন্তু ও হস্তচালিত তাঁত হারিয়ে যেতে বসেছে। যদিও এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বেশি হস্তচালিত তাঁত রয়েছে ফুলিয়াতে। সেখানে হস্তচালিত তাঁতশিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। ঐতিহ্যবাহী অনেক ডিজাইন ও বুনন হারিয়ে যেতে বসেছে। সেগুলো ফিরিয়ে আনার কাজের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
সমকাল: হস্তচালিত তাঁতশিল্প ধরে রাখা যাবে? আপনি কতটা আশাবাদী?
বিবি রাসেল: আমি আশাবাদী। গত তিন মাসে ফুলিয়ার নারী তাঁতীদের নিয়ে যে ১০টি ডিজাইনের কাজ করেছি; যেসব ফ্যাব্রিকস নিয়ে কাজ করেছি, সেগুলোর প্রদর্শনী হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে; গত ৭ আগস্ট ভারতের ন্যাশনাল হ্যান্ডলুম দিবসে। তা বেশ সাড়া ফেলেছে; সব বিক্রি হয়ে গেছে। শিল্পী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী- সর্বস্তরের মানুষ এসে কিনে নিয়েছেন।
সমকাল: আপনি তো ভারতের রাজস্থানেও কোটা শাড়ি পুনরুদ্ধার নিয়ে কাজ করেছিলেন?
বিবি রাসেল: কোটা শিল্প, ঐতিহ্যবাহী খাদি বস্ত্র পুনরুদ্ধার নিয়ে আমি ১২ বছর রাজস্থান সরকারের সঙ্গে কাজ করেছি। বিভিন্ন সময়ে গেছি। তারা আমার ওপর যে দায়িত্ব দিয়েছিল, আমি তা সম্পন্ন করেছি। এখন এর জিআই বা ভৌগোলিক নির্দেশক মেধাস্বত্বও পেয়ে গেছে রাজস্থান। তারা বিবেকানন্দ ডিজাইন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেছে। এ বছর জুলাই মাসে এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
সমকাল: আমরা জানি, আপনি উত্তর-পূর্বাঞ্চল, হায়দরাবাদ, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের নানা অঞ্চলের বস্ত্র ও হস্তশিল্প পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়নে কাজ করেছেন।
বিবি রাসেল: শুধু ভারত নয়; গোটা বিশ্বেই কাজ করতে হয়। আমি তো সব আমন্ত্রণ রক্ষাও করতে পারি না সময়ের অভাবে। যেমন উজবেকিস্তানে পাঁচ বছর ধরে কাজ করেছিলাম। তাদের 'ইকাট' নামে ঐতিহ্যবাহী শিল্প রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষায়িত প্রাকৃতিক তন্তু ও ঐতিহ্যবাহী নকশা রয়েছে। এগুলো পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নে কাজ করছে ইউনেস্কো। ইউনেস্কো থেকেই আমাকে এ ব্যাপারে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
সমকাল: এভাবে আর কোথায় কোথায় বস্ত্রশিল্প ও হস্তশিল্প পুনরুদ্ধারে কাজ করছেন?
বিবি রাসেল: কত দেশের নাম বলব! লাতিন আমেরিকার কলাম্বিয়ায় কাজ করেছি। ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্প পুনরুদ্ধারে দেশটির রাজধানী বোগোটায় একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হয়েছে। সেখানে কলাম্বিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নারীরা এসেছিল; তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। পশ্চিম আফ্রিকার সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, ক্যামেরুনেও কাজ করেছি। এ সবই ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে।
সমকাল: আমার মনে আছে, বেশ আগে কম্বোডিয়াতে গিয়েছিলেন। সেখানকার বিচিত্র খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আমার কাছে গল্প করেছিলেন।
বিবি রাসেল: সে একটু ভিন্ন বিষয়। সেখানে যাদের প্রশিক্ষণ দিতে গিয়েছিলাম, সেই নারী সবাই এইচআইভি পজিটিভ। কিন্তু তারাও যে সমাজে নিজের কাজ নিয়ে থাকতে পারে এবং ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পারে- এটাই ছিল আইডিয়া।
সমকাল: বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র ও হস্তশিল্প পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষায় কী করছেন?
বিবি রাসেল: বাংলাদেশের তাঁতশিল্প, বস্ত্রশিল্প, হস্তশিল্প, নকশা নিয়ে কাজ করার জন্যই তো ইউরোপ ছেড়ে দেশে ফিরে এসেছিলাম। আপনি জানেন, বাংলাদেশের কৃষক ও শ্রমিকের কাঁধে অবহেলায় পড়ে থাকা গামছাকে আজ গোটা বিশ্ব চেনে ও সমাদর করে। গামছা একটি অদ্বিতীয় পণ্য। এর সুতা, বুনন, নকশা- সবই অদ্বিতীয়। আমি এর সঙ্গে যোগ করে দেখিয়েছি- গামছা দিয়ে শুধু গা মোছা নয়; সব ধরনের পোশাক বানানো সম্ভব। বাংলাদেশের গামছা আজকে ইউরোপ-আমেরিকার সুপার মডেলদের গায়ে উঠেছে।
সমকাল: মসলিন পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার সঙ্গেও তো জড়িত ছিলেন?
বিবি রাসেল: ছিলাম তো! আমি বাংলাদেশের কচুরিপানা দিয়ে তৈরি হস্তশিল্প সুপারস্টোরের শেলফে তুলে দিয়েছি। কিন্তু মুশকিল হলো, আরও কী কী সম্ভব- এ দেশে কেউ জানতে চায় না! সবাই আমদানি করতে চায় শুধু। বিদেশের চাকচিক্যময় সুতা, নকশা, কাপড়ের পেছনে ছুটতে চায়। আমার তো এত শক্তিশালী জনসংযোগ বিভাগ নেই যে, কাজ যা করব তার চেয়ে বেশি আওয়াজ দেব। আমি নিজের মতো করে কাজ করি। কেউ আমন্ত্রণ জানালে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করি। আপনি দেখবেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার সময় নেই। এই অক্টোবরে স্পেন যেতে হবে। গোটা দুনিয়া ডাকছে, কিন্তু আমার সময় নেই। কারণ দেশের তাঁতীদের নিয়ে, হস্তশিল্পীদের নিয়ে কাজ করতে হয়। আপনার সঙ্গে যখন কথা বলছি, তখনও টাঙ্গাইল থেকে আসা একজন তাঁতশিল্পীকে অপেক্ষায় রাখতে হয়েছে।
সমকাল: আপনার কাজের কোন দিকটার প্রতি বিশ্বের বস্ত্রশিল্প-জগৎ আকৃষ্ট হয়েছে?
বিবি রাসেল: আমি বলছি, সিনথেটিক বা কৃত্রিম তন্তুর আগ্রাসন থেকে বের হয়ে আসতে হবে। কেমিকেল রং ব্যবহার করা যাবে না। আর কোনো কিছুই ফেলনা নয়; সবই রিসাইকেল করা সম্ভব। আপনি দেখবেন, বাংলাদেশে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বা সিমেন্টের ব্যাগ থেকে আমি হ্যান্ডব্যাগ নকশা ও তৈরি করছি। সেগুলোর রিসাইকেল ভ্যালু দেখে শুধু ইউরোপের লোকজনই ব্যবহার করছে না; এর নকশা, রংও তারা পছন্দ করছে।
সমকাল: বিভিন্ন দেশ নিজেদের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র ও হস্তশিল্প পুনরুদ্ধারে আপনাকে আমন্ত্রণ জানানোর কি এটাই কারণ?
বিবি রাসেল: দেখুন, কোথাও গিয়ে আমি বাংলাদেশের ডিজাইন কপি করি না। বাংলাদেশ থেকে কোনো ধারণা বা উপকরণও কপি করি না। আসলে কোনো দেশেরটাই কোনো দেশে কপি করি না। ভারতের নকশা উজবেকিস্তানে নিয়ে যাই না। আমি যেখানে যাই, সেখানকার সুলভ উপকরণ দিয়ে তাদের ঐতিহ্যবাহী শিল্প পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করি। আমি নিজে শুধু কৌশলটি শিখিয়ে দিই। বাকি কাজ সেখানকার মানুষ, বিশেষত নারীরা করে থাকে। কাজটি কঠিন, কিন্তু টেকসই। এই যে ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্য; আমি মনে করি, সেটাই বিভিন্ন দেশকে উৎসাহিত করছে। সেটাই সম্ভবত ইউনেস্কোকে উৎসাহিত করেছে। আরেকটি কথা, এগুলোর আমি কিন্তু কনসালটেন্সি করি না। ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট ধারণার প্রসারেই তা করি।
সমকাল: বাংলাদেশে আপনার এই ধারণার কি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় প্রসার ঘটেছে?
বিবি রাসেল: দেখুন, আমি সারাজীবনের সঞ্চয়, পারিবারিক অর্থ ও সম্পদ দিয়ে একা একা যতদূর পারি, করছি। যতদূর পারছি তাঁতশিল্পী, হস্তশিল্পীদের সঙ্গে রাখছি। বাকিরা যদি না শোনে তাহলে আমার কী করার আছে! রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে' আমার খুব পছন্দের কথা। এই থিমে আমি বিভিন্ন নকশা ও হস্তশিল্প করেছি। আমার কথা কেউ না শুনলে আমি একাই কাজ করে যাই।
সমকাল: এই যে সাসটেইনেবল বা টেকসই বস্ত্রশিল্প, তা বাংলাদেশের জন্য আরও জরুরি।
বিবি রাসেল: এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও অনেক সমৃদ্ধ। কারণ আমাদের সবকিছু এখনও সিনথেটিকের কাছে হারিয়ে যায়নি। ফুলিয়াতে দেখলাম 'বাম্পার' নামে একটি সিনথেটিক তন্তু বেশ চলছে। এটা রীতিমতো নাইলন ছাড়া আর কিছু নয়। ১০-১২ বছরেও এটা নষ্ট হয় না কিংবা রং যায় না। অথচ সেই সুতা দিয়ে বোনা বস্ত্র আপনি যখন গায়ে দিচ্ছেন, তখন এর ফলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি করছেন। আমি আশঙ্কা করি, এখনই সতর্ক না হলে বাংলাদেশেও এটা ব্যাপক মাত্রায় চালু হবে।
সমকাল: বিশ্ব তো প্রাকৃতিক তন্তুর কাছেই ফিরে যাচ্ছে।
বিবি রাসেল: ফিরতেই হবে। কারণ করোনা দেখিয়ে দিয়েছে- কৃত্রিম তন্তুর পেছনে ছুটে আমরা নিজের কী ক্ষতি করেছি! এর ফলে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে, পরিবেশ দূষণ হচ্ছে; বস্ত্রশিল্পের টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব হয়ে পড়ছে। দেশীয় বস্ত্রশিল্প বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। কর্মসংস্থান হারাচ্ছে। ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশে কৃত্রিম তন্তুর পোশাক তো আরও অনুপযোগী।
সমকাল: সিনথেটিক বা কৃত্রিম বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে যে রাসায়নিক ব্যবহার হয়, তা নদীদূষণের জন্যও তো দায়ী?
বিবি রাসেল: এই বিষয়টি আপনার চেয়ে ভালো আর কে জানবে! প্রাকৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্প হারিয়ে ফেলায় আমরা ইতোমধ্যে পানিসম্পদ, কৃষি, মৎস্যসম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি করে ফেলেছি।
সমকাল: একটা অভিযোগ রয়েছে- প্রাকৃতিক বা অর্গানিক তন্তু দিয়ে তৈরি বস্ত্রশিল্প ব্যয়বহুল, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে না।
বিবি রাসেল: এগুলো করপোরেটের অপপ্রচার। আমি যে শাড়ির নকশা করি, এর দাম তো কখনোই ১২শ টাকার বেশি হয় না। যখন বাজার বাড়বে, তখন আরও কম দামে সম্ভব। মূল বিষয়টি হচ্ছে, দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করবেন। আপনি ইউরোপের অর্গানিক তন্তু দিয়ে বাংলাদেশে বস্ত্র বুনন করলে খরচ তো বাড়বেই। আপনাকে বাংলাদেশেই আশপাশ থেকে উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে। আমদানির চিন্তা বাদ দিতে হবে। মূল বিষয় হচ্ছে, অপরিমিত মুনাফা বাদ দিয়ে ন্যায্য ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের কথা ভাবতে হবে। আমি যদি বিজনেসই করতাম, তাহলে তো ইউরোপেই থেকে যেতে পারতাম। সেখানে ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য আমার নামটাই যথেষ্ট ছিল। দেশের গামছা নতুন করে তুলে ধরতে হতো না।
সমকাল: প্রাকৃতিক তন্তুর বাজার কতটা বড়?
বিবি রাসেল: অনেক বড় ছিল। মাঝে সিনথেটিকের কারণে পড়ে গিয়েছিল। এখন দেশে দেশে সিনথেটিকের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। মানুষ সচেতন হচ্ছে; প্রাকৃতিক তন্তুর দিকে ঝুঁকছে। ঐতিহ্যবাহী শিল্পের প্রতি ঝুঁকছে। ইউরোপে 'রেসপনসিবল ইকোনমি' বা দায়িত্বশীল অর্থনীতির ধারণা দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। আপনি শুধু খরচ করলেই হবে না; ভোক্তা হলেই হবে না। কোথায় কী জন্য খরচ করছেন, বুঝেশুনে করতে হবে। সম্প্রতি ফ্রান্সে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এ ব্যাপারে কথা বলতে।
সমকাল: বাংলাদেশে এর ভবিষ্যৎ দেখেন?
বিবি রাসেল: অবশ্যই। আপনি এক বেলা না খেয়ে রাস্তায় বের হতে পারবেন। কিন্তু কাপড় ছাড়া বের হতে পারবেন না। এত জনসংখ্যার দেশে এত প্রাকৃতিক উপকরণের মধ্যে প্রাকৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্প যদি দাঁড়াতে না পারে, এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে! মানুষকে শুধু জানাতে হবে এবং উপযুক্ত নীতি নির্ধারণ করতে হবে।
সমকাল: বিশ্ব প্রাকৃতিক তন্তুর কাছে পুরোপুরি ফিরে যেতে পারবে?
বিবি রাসেল: আপনি খোঁজ নিয়ে দেখুন, বিশ্বজুড়েই প্রাকৃতিক তন্তুর কদর আবার কীভাবে বাড়ছে। বাংলাদেশকেও জেগে উঠতে হবে। মসলিন, জামদানি, গামছার মতো অদ্বিতীয় বস্ত্রশিল্পের দেশ এ ক্ষেত্রে সামনের সারিতে থাকতে পারে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের যে অভিঘাত আমরা দেখছি, সেটা এসেছিল শিল্পবিপ্লবের হাত ধরে। এখান থেকে বাঁচতে হলে আমাদের সর্বক্ষেত্রেই প্রকৃতির কাছে ফিরে যেতে হবে। বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়া সবচেয়ে সহজ ও লাভজনক।
সমকাল: আপনিও প্রকৃতির কাছে, দেশের কাছে ফিরে এসেছিলেন। এই সাক্ষাৎকার যেদিন প্রকাশ হবে, সেদিন আপনার জন্মদিন। আপনাকে আগাম শুভেচ্ছা জানাই।
বিবি রাসেল: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। সমকালের জন্য শুভেচ্ছা সবসময়।