কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সালিশে হামলায় আহত ওয়াসিম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের খিরণশাল গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে। মঙ্গলবার ওয়াসিমের বড় বোন রিনা আক্তার খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৮ জুন রাতে লনিশ্বর গ্রামে সালিশ বসে। সভায় আর্থিক দেনা-পাওনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে ওয়াসিমসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। স্থানীয়রা ওয়াসিমকে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই গত সোমবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়। ওয়াসিমের পাঁচ বছর ও আড়াই বছর বয়সী দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাহাব উদ্দিন মজুমদার বলেন, লনিশ্বর গ্রামের সাদ্দাম ও তার সঙ্গীরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সালিশ আয়োজন করেছিল। আগেই তারা পার্শ্ববর্তী শুভপুরের পাশাকোট গ্রাম থেকে বেশ কিছু ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে জড়ো করে রাখে। বিষয়টি ওয়াসিমরা জানতেন না। সালিশ বসানো ছিল কেবল নাটক। সেখানে গ্রামের কোনো বিচারক ছিলেন না। সভা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এর জেরে ওয়াসিমকে কুপিয়ে ও রড দিয়ে পিটিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা। 

ওয়াসিমের বড় বোন রিনা বলেন, পরিকল্পনা করে তাঁর ভাইকে সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, লনিশ্বর গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত যুবক ওয়াসিমের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি। এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।