কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি অংশ না নিলেও ভোটের মাঠে ছিলেন দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। বহিস্কৃত হলেও দলের দু'নেতার ভোটের ফলাফলে তা স্পষ্ট। বুধবার নির্বাচনে নৌকা মাত্র ৩৪৩ ভোটে বিজয়ী হয়েছে। অথচ বিএনপির দু'নেতা নৌকা প্রার্থীর চেয়ে ২৮ হাজার ৭৫৬ ভোট বেশি পেয়েছেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩১০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী (বিএনপি থেকে বহিস্কৃত) মনিরুল হক সাক্কু টেবিল ঘড়ি প্রতীকে ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট পেয়েছেন। বিএনপির অঙ্গ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিস্কৃত নিজাম উদ্দিন কায়সার ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯৯ ভোট। দু'জনে মিলে ভোট পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬৬।

বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, দলীয় সিদ্ধান্তে মনিরুল হক সাক্কু এবং নিজাম উদ্দিন কায়সার বহিস্কার হলেও নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিপুল ভোট পেয়েছেন তাঁরা। কুমিল্লা বরাবরই বিএনপি অধ্যুষিত। এরই প্রভাব ভোটে স্পষ্ট হয়েছে। এবারও একক প্রার্থী থাকলে জয় বিএনপি শিবিরেই থাকত।

সদর থানা ছাত্রদলের মহিউদ্দিন বাবলু জানান, কেন্দ্র থেকে ভোটের কার্যক্রমে অংশ নিতে নিষেধ করা হলেও কর্মী-সমর্থকরা নীরবে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন। দ্বারে দ্বারে ভোট চেয়েছেন। নারী ভোটারদের বড় অংশের ভোটও তাঁরা টানতে পেরেছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, কুসিক নির্বাচনের পরপরই ফলাফলসহ বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছে বিএনপি। দলের চেইন অব কমান্ড, কোন্দল, ভোটের সমীকরণ ছাড়াও ইভিএম, নতুন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার চুলচেরা বিশ্নেষণ করা হচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিংবা সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিজেদের কৌশল নির্ধারণেই এ বিশ্নেষণ করছে বিএনপি।

ক্ষমতাসীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন বয়কট করে আসছে বিএনপি। কিন্তু দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে দুই নেতা কুসিক নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দলের চেইন অব কমান্ড নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ছেন অনেকে। এটি সংসদ নির্বাচনেও প্রকাশ পেলে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।

এসব বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শওকত আলী বকুল সমকালকে বলেন, নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। দলের কোনো নেতাও সম্পৃক্ত ছিলেন না। তবে বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় বহিস্কৃতদের নিজের প্রার্থী ভেবে তৃণমূল নেতাকর্মীরা ভোট দিয়েছেন বলে আমি মনে করি। এ ছাড়া কুমিল্লা বিএনপিতে কোনো কোন্দল নেই। সরকারবিরোধী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হয়েই আমরা রাজপথে থাকব।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বয়কট করা নির্বাচন নিয়ে বিএনপির কোনো বক্তব্য নেই। তবে ভোট প্রক্রিয়ার চিত্রে স্পষ্ট- সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা এতদিন যে দাবি করছি, তা ফের প্রমাণিত। এই সরকার এবং ইভিএম পদ্ধতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।