চামড়ার বাজার শেষ

কোনো উদ্যোগই কাজে আসেনি

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

মিরাজ শামস

সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে এবারও চামড়ার ব্যবসায় ধস। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে ঈদের পর সড়কে ফেলে চলে যান মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর আতুরার ডিপো এলাকার ছবি	- মো. রাশেদ

সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণে এবারও চামড়ার ব্যবসায় ধস। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে ঈদের পর সড়কে ফেলে চলে যান মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর আতুরার ডিপো এলাকার ছবি - মো. রাশেদ

গতবারের মতো এবারও ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়ার দরে বিপর্যয় হয়েছে। কোরবানির চামড়া বিক্রি হয়েছে নামমাত্র দরে। অনেক জায়গায় বিক্রিই করা যায়নি। সরকার গত বছরের চেয়ে চামড়ার আরও কম দর নির্ধারণ করে দিলেও কোথাও এর অর্ধেক দামেও বেচাকেনা হয়নি। চামড়ার দরে বিপর্যয়ের কারণে গরিব, অসহায় মানুষ এবং মসজিদ-মাদ্রাসা ও এতিমখানার ভাগ্যেও বিপর্যয় ঘটেছে। সরকারের নেওয়া উদ্যোগও কোনো কাজে আসেনি।
দেশের অনেক এলাকায় কোরবানিদাতারা বিক্রি করতে না পেরে চামড়া দান করে দিয়েছেন। চামড়া ফেলে দিয়েছেন অনেকে। সরাসরি ঢাকায় আনতে দীর্ঘ সময়ে চামড়া নষ্ট হয়েছে। ঈদের দিন প্রতিটি গরুর চামড়া সর্বনিম্ন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত লবণযুক্ত চামড়ার দরের সঙ্গে হিসাব করলে এই দর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাঁচ ভাগের এক ভাগ। আর ছাগলের চামড়ার কোনো দরই ছিল না। কোরবানিদাতারা বিনামূল্যে দিয়ে দিয়েছেন। বিনামূল্যে নেবে এমন লোকও পাওয়া যায়নি কিছু ক্ষেত্রে।
গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে দর বিপর্যয় ও চামড়া নষ্ট হওয়া ঠেকাতে ঈদুল আজহার আগে চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা। এমনকি ট্যানারি মালিকদের অর্থের ঘাটতি মেটাতে বিশেষ ঋণ সুবিধাও অব্যাহত রাখতে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেস টু কেস ভিত্তিতে কাঁচা ও ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর পরও চামড়ার দর পাওয়া যায়নি।
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার সারাদেশে এক কোটি পশু কোরবানি হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঢাকায় ২০ শতাংশ এবং ঢাকার বাইরে ৩০ শতাংশ কম চামড়া সংরক্ষণ হয়েছে। চামড়ার ন্যায্যমূল্য কেন পাওয়া গেল না, তার জন্য জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্প সচিব কে এম আলী আজম। তিনি বলেছেন, যদি কোথাও কোনো অপূর্ণতা থাকে, আমরা সেখান থেকে শিক্ষা নিতে চাই। গত রোববার সাভারে চামড়া শিল্পনগরীর সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করে এ মন্তব্য করেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ট্যানারি মালিক ও আড়তদাররা বেশি লাভের আশায় নির্ধারিত দামের অনেক কম দামে চামড়া কিনেছেন। অন্য বছর আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দোষারোপ করলেও এবার মিলেমিশে কম দামে চামড়া কিনেছে তারা। এ কারণে অনেক ক্ষুদ্র মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া কেনার ঝুঁকি নেননি। তাই অনেক এলাকায় চামড়ার ক্রেতা মেলেনি। আবার কিছু এলাকায় ক্রেতা থাকলেও তারা অনেক কম দামে কিনেছেন। এর ফলে অনেক এলাকায় চামড়া নষ্ট হওয়ায় ফেলে দিতে হয়েছে। চট্টগ্রামে হাজার হাজার চামড়া রাস্তাতেই নষ্ট হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হিসাবে ২২ হাজার চামড়া রাস্তায় নষ্ট হয়েছে। সিলেটে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে মাঠে নামেননি। মাদ্রাসাগুলোতে চামড়া দিলেও তারা বিক্রি করতে পারেননি। প্রতিবাদস্বরূপ নদী ও সড়কে ফেলে রেখে গেছেন অনেকে। সিলেটের প্রায় ৯০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে। রাজশাহীতেও চামড়ার ক্রেতা না থাকায় নদীতে হাজার হাজার চামড়া ফেলে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকে মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন।
সাতক্ষীরা জেলার বারুইহাটি গ্রামের আবদুল্লাহ আল মাসুদ সমকালকে জানান, কয়েক বছর ধরে চামড়ার দর কম হলেও কেউ না কেউ কিনতে আসতেন। তবে এবার তাদের এলাকায় কেউ চামড়া কিনতে আসেননি। যে কারণে গরুর চামড়া সবাই মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দান করে দিয়েছেন। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের আবদুল বাতেন তালুকদার সমকালকে বলেন, ক্রেতার আশায় দু'দিন ধরে চামড়া ফেলে রেখেছেন। ক্রেতার দেখা মেলেনি, তাই বাধ্য হয়ে মাটিতে পুঁতে রেখেছেন।
গত শনিবার বিকেলে ধানমন্ডিতে চামড়া কেনেন ট্যানারির প্রতিনিধি মো. আপন মিয়া। তিনি বলেন, ছোট গরুর চামড়া কিনেছেন দেড়শ' টাকায়। গরুর চামড়ার সঙ্গে ছাগলের চামড়া যারা নিয়ে এসেছেন, তারা ফ্রি দিয়ে গেছেন। পোস্তার আড়তদার শফিকুর রহমান বলেন, একজন গরুর চামড়ার সঙ্গে চার পিস ছাগলের চামড়া নিয়ে এসেছেন। তাকে ১০ টাকা দিলে তিনি রেখে যান। প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩ থেকে ১৫ টাকা ও বকরির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা।
নির্ধারিত দরের ধারেকাছে নেই :দেশে করোনা মহামারি, বন্যার দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক বাজারের দর বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে দর নির্ধারণ করে সরকার। এবার গত বছরের চেয়েও প্রায় ২৩ থেকে ২৯ শতাংশ কমিয়ে দর নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত এই দর গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল। ঢাকার নির্ধারিত দর ছিল প্রতি বর্গফুট গরুর লবণযুক্ত চামড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। নির্ধারিত দর ৩৫ টাকা বর্গফুট ধরে লবণযুক্ত একটি ২০ বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম পড়ে ৭০০ টাকা। প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) লবণের দাম ৮০০ টাকা। এমন আকারের একটি চামড়ায় ৭ কেজি লবণ ব্যবহার করলে খরচ ১১২ টাকা। শ্রমিকের মজুরি ১০ টাকা ও আড়ত কমিশন ৮ টাকা ধরা হলেও মোট ব্যয় হবে ১৩০ টাকা। এই ব্যয় করে প্রতিটি চামড়ায় ৭০ টাকা মুনাফা করলেও ৫০০ টাকায় কেনার কথা। অথচ পোস্তার আড়তে এই আকারের চামড়া ১০০ থেকে ২০০ টাকায় ব্যবসায়ীদের কিনতে দেখা গেছে।
পোস্তার আবদুল মাজেদ আড়তে চামড়া কিনেছেন ব্যবসায়ী তাজউদ্দীন। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় (গড়ে ৪০ বর্গফুট) চামড়া কিনেছেন ৬০০ টাকায়। মাঝারি চামড়া (৩০ বর্গফুট) ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ১৮ থেকে ২০ বর্গফুট আকারের ছোট চামড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় কিনেছেন। পোস্তার আড়তগুলোর সামনে এবং আশপাশের সড়কে আড়তদাররা চামড়া কিনেছেন। আবার পান্থপথ থেকে সায়েন্সল্যাব পর্যন্ত ট্যানারির প্রতিনিধিরা সরাসরি এমন দামে চামড়া কিনেছেন। অথচ নির্ধারিত দর বিবেচনায় নিলে লবণ ছাড়া প্রতিটি বড় চামড়া ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বেচাকেনা হওয়ার কথা। মাঝারি চামড়া ৮০০ থেকে ৯০০ ও ছোট চামড়ার দর হওয়া উচিত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
এবার দাম এত কম কেন জানতে চাইলে আড়তদার ক্রেতারা জানান, ট্যানারিগুলো টাকা দেয়নি। ট্যানারি টাকা না দিলে কোনো বছরই কেনাবেচা জমে না। দুই বছর ধরে ট্যানারি মালিকরা টাকা না দেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লোকসানে :ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. শহীদুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে ১২টি চামড়া কেনেন। চামড়া নিয়ে বিক্রির জন্য পান্থপথে কেনার অপেক্ষায় থাকা একটি ট্যানারির প্রতিনিধির সঙ্গে দরদাম শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত সেখানে প্রতিটি চামড়া গড়ে ৩০০ টাকায় কিনতে রাজি হন ট্যানারি প্রতিনিধি। তার গাড়ির সঙ্গে ছুটতেই সামনে এগিয়ে চামড়ার অনেক স্তূপ দেখা যায়। সেখানে দাম আরও কম। শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে দেখা হয় পোস্তার আড়তে গিয়ে। তিনি বলেন, কেনা দামে বিক্রি করতে পারেননি। ট্যানারি ও আড়তদারদের যোগসাজশে এবার সবাই কম দামে চামড়া কিনছেন। এভাবে চামড়ায় লোকসান হওয়ায় এবার হাতেগোনা অল্পসংখ্যক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী চামড়া কিনেছেন। বেশিরভাগ চামড়া মাদ্রাসাগুলো নিয়েছে। তারা যে দাম পেয়েছেন তা খুবই কম।
ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড রিটেইল স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নওয়াব আলী বলেন, বেশি লাভের আশায় চামড়া শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে ট্যানারি মালিকরা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের তারা টাকা দেয়নি। ফলে তারা মাঠে নামেনি। এতে অনেক এলাকায় ক্রেতা না পাওয়ায় চামড়া নষ্ট হয়েছে। আবার আড়তে দেরিতে আনার কারণেও চামড়া নষ্ট হয়েছে। সবচেয়ে বেশি নষ্ট হয়েছে ছাগলের চামড়া।
আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা যা বললেন :কাঁচা চামড়ার আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান বলেন, পুরান ঢাকার পোস্তার আড়তে ৪ লাখ চামড়া সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। এবার পোস্তার আড়তে ১ লাখ ৭০ হাজার পিস চামড়া এসেছে। তবে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চামড়া সংরক্ষণ করেছেন আড়তদাররা। সব মিলিয়ে সাড়ে তিন লাখ পিস হবে। চামড়া নষ্ট হওয়ার বিষয়ে বলেন, সবাইকে চামড়া সংরক্ষণের জন্য বলা হলেও অনেকে গ্রাম থেকে ঢাকায় চামড়া নিয়ে এসেছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান সমকালকে বলেন, মূলধন লুণ্ঠন হলে কিছুই করার থাকে না। বকেয়া পাওনা দেয়নি ট্যানারিগুলো। মাত্র ৪টি ট্যানারি সম্পূূর্ণ টাকা দিয়েছে। আর ৫ থেকে ৩০ শতাংশ টাকা দিয়েছে ১৫টি ট্যানারি। ব্যাংকগুলো ৬৮০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলছে। বাস্তবে নগদ ১৮০ কোটি টাকা পেয়েছে ট্যানারিগুলো। এর ফলে চামড়া কেনাবেচায় বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন সমকালকে বলেন, ট্যানারি মালিকরা লবণযুক্ত চামড়া নির্ধারিত দরেই কিনবেন। যারা নির্ধারিত দরের তুলনায় দাম অনেক কমিয়ে কিনেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মধ্যস্বত্বভোগীরা অতি মুনাফা করতেই চামড়ার দাম কমিয়ে কিনছেন। তিনি বলেন, লবণ না দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যারা বিক্রির জন্য অপেক্ষা করেছেন, তাদের চামড়া নষ্ট হয়েছে। এমন যারা করেছেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের ভুলের কারণে চামড়া নষ্ট হয়েছে। ট্যানারিগুলো আগেই ঘোষণা দিয়েছে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করার জন্য। যারা লবণ দিয়েছেন, তাদের চামড়া আগামী দুই মাস কিনবেন তারা।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ সমকালকে বলেন, যখন দাম বেশি ছিল তখনও নষ্ট হতো। গত দুই বছর দাম কম থাকায় সবার নজরে আসছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অজ্ঞতার কারণে চামড়া নষ্ট হয়েছে। তারা দ্রুত লাভের আসায় চামড়া নিয়ে না ঘুরে এবং ফেলে না রেখে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করলে সবাই ভালো দাম পেতেন। তিনি বলেন, এবার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে চামড়া নষ্ট হয়েছে। সরকার মূল্য বেঁধে না দিয়ে সচেতনতা ও ব্যবস্থাপনায় নজর দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হতো। এ জন্য আধুনিক জবাইখানা ও হিমাগার করা প্রয়োজন। চালের মতো সরকারের চামড়া ব্যবস্থাপনায় যেতে হবে। এবার টিসিবি চামড়া কিনে তাদের গুদামে সংরক্ষণ করতে পারত। শুধু ট্যানারির পক্ষে সারাদেশের পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব নয়। সবাই মিলে তা করতে হবে।
মনিটরিং টিমের চোখে পড়েনি :কম দামে বেচাকেনা হলেও তা দেখতে পায়নি মনিটরিং টিম। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টিম মাঠে ছিল। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুম আরেফিন ও বিকাশ চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে বাজার তদারকির একটি দল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে চামড়ার কেনাবেচা পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেন। মাসুম আরেফিন সমকালকে জানান, তারা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন, সরকার-নির্ধারিত দরেই চামড়া কেনাবেচা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মত :গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সমকালকে বলেন, অর্থনৈতিক মূল্য বিবেচনায় নিয়েই চামড়ার দাম নির্ধারণ হওয়া উচিত ছিল। এবার কাঁচা চামড়া ও ওয়েট ব্লু রপ্তানির ঘোষণা যেভাবে হতে পারত, সেভাবে হয়নি। এটি উন্মুক্ত থাকলে ভালো হতো। তা ছাড়া ঘোষণা হয়েছে ঈদের দু'একদিন আগে। আগেভাগে হলে ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিয়ে চামড়া কিনতেন। তিনি বলেন, দেশে চামড়ার উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি। এ ক্ষেত্রে চামড়া থেকে পণ্য তৈরি করে রপ্তানিতে জোর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পরিবেশসম্মত উৎপাদন ব্যবস্থা দ্রুত চালু করতে হবে। এলডব্লিউজি সনদ নিয়ে উৎপাদন করতে পারলে ব্র্যান্ডের ক্রেতাদের কাছে ভালো দামে চামড়া রপ্তানি করা সম্ভব হবে। তখন মূল্যবান এ সম্পদের অপব্যবহার হবে না।