কাঁচামরিচের কেজি ২০০ টাকা

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২০     আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

করোনার কারণে এমনিতেই রাজধানীর কাঁচাবাজারে পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে শুরু হয়েছে অতিবৃষ্টি ও বন্যা, যার প্রভাব পড়েছে সবজির দামে। হঠাৎ করেই বেড়েছে কাঁচামরিচ, করলা, টমেটো, বরবটি, শসা, বেগুনসহ সব ধরনের সবজির দাম। ক্রেতাদের এখন ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ ২০ টাকার বদলে কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকায়। যেসব সবজির দাম কিছুদিন আগেও ২০-৩০ টাকা কেজি ছিল এখন তা ৫০-৬০ টাকা।

রাজধানীর নিউমার্কেট কাঁচাবাজারে এক কেজি কাঁচামরিচের দাম উঠেছে ২০০ টাকা। বিক্রেতা জহিরুল ইসলাম জানালেন, এক সপ্তাহ আগেও এই কাঁচামরিচ ছিল ৮০ টাকা। এর আগে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন। হঠাৎ লাফিয়ে দাম বাড়ছে। পাইকারি আড়ত থেকে এখন এক পাল্লা (৫ কেজি) ৭৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

নিউমার্কেট ছাড়াও পশ্চিম আগারগাঁও, উত্তর পীরেরবাগ, মিরপুর-১ ও ২ নম্বর কাঁচাবাজার ঘুরে সবজির মূল্যবৃদ্ধির চিত্র দেখা যায়। সবজির দামবৃদ্ধির বিষয়ে মিরপুর-১নং বেড়িবাঁধ আড়তের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, বন্যার কারণে আড়তে এখন উত্তরবঙ্গের সবজি আসছে না। এখন যে সবজি আসছে তা মানিকগঞ্জ, সাভার ও নরসিংদীসহ ঢাকার আশপাশ থেকে। এতে সবজির সরবরাহ কম হচ্ছে। এ আড়তে আগে প্রতিদিন প্রচুর সবজির স্তূপ থাকত। এখন যে পরিমাণ সবজি আসছে তা সবই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মরিচের মৌসুম শেষ হয়েছে। এখন বর্ষকালীন মরিচ আসছে। অতিবৃষ্টির কারণে মরিচ নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। তাছাড়া করোনার কারণে আমদানি করা মরিচ বাজারে কম আসছে। ফলে দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে।

উত্তর পীরেরবাগ বাজারে সবজি বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, পাইকারিতে সবজির দাম বেশি থাকায় বাজারেও কম সবজি আনছেন। সব ধরনের সবজির দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। তার দোকানে এক কেজি টমেটোর দাম চান দেড়শ' টাকা। অন্যান্য সবজির মধ্যে গাজর ও শসার কেজি ৮০-১০০ টাকা। করলা, বেগুন ও বরবটির কেজি ৬০-৭০ টাকা। ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, পেঁপে, পটোল, ঢেঁড়সের কেজি ৪০-৫০ টাকা। এর মধ্যে কিছু সবজির সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ দাম বেড়েছে। আলুর দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দোকানির মতো অন্য খুচরা বাজারে প্রায় একই দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে।

সবজির এমন চড়া দামে দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ। এর সঙ্গে মাছ, মাংস সবকিছুর দাম চড়া। মহামারি করোনার প্রকোপে এমনিতেই আয় কমেছে। বেকার হয়েছেন অনেকে। এ পরিস্থিতিতে এই নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে আছেন সাধারণ ক্রেতারা।

এদিকে বাজারে ডিম ও মুরগির দামও চড়া। এখন ডিমের ডজন ১০০-১০৫ টাকা। বয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা। লাল লেয়ার মুরগি ২২০-২৫০ টাকা এবং পাকিস্তানি সোনালি মুরগি ২৭০-২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর গরুর মাংস ৫৮০ টাকা ও খাসি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। দেশি পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, চলতি মাসের শুরুতে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমে ২০ টাকায় নেমেছিল। তখন দেশি পেঁয়াজের দাম কমে যায়। এখন আমদানি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। তবে রসুন আগের সপ্তাহের মতো কম দামেই বেচাকেনা হচ্ছে। এখন প্রতি কেজি রসুন ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য পণ্যের দাম অনেকটা স্থিতিশীল আছে।