হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়লে সবাই ঘাবড়ে যান। সাধারণত শিশু ও বৃদ্ধদের নাক দিয়ে রক্ত পড়ার ঘটনা বেশি ঘটে। নানা কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। বেশিরভাগ সময় নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রকৃত কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। নাকে দুটো ছিদ্র। এগুলো একটি পর্দা দিয়ে পৃথক থাকে। এর ঠিক নিচের অংশকে বলা হয় লিটলস এরিয়া। এখানে অনেক ধমনি এসে মিলিত হয়। সাধারণত লিটলস এরিয়াতে আঘাতের ফলেই বেশিরভাগ সময় নাক দিয়ে রক্ত পড়ে। এ ছাড়া নাক দিয়ে রক্ত পড়ার অন্যান্য কারণ-
- নাকের ভেতরে কোনো অতিরিক্ত পদার্থ বা ফরেন বডি আটকে থাকলে রক্ত পড়তে পারে।
- অনেক সময় নাকে পাথর জমে রাইনোলিথ হয়। এটাও নাক দিয়ে রক্ত পড়ার উল্লেখযোগ্য কারণ।
- অনেকেরই ঘন ঘন নাকের ভেতরে হাত দেওয়ার অভ্যাস রয়েছে। এতেও নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।
-নাকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে রক্ত পড়তে পারে।
- নাকের ভেতরে কোনো টিউমার থাকলে রক্ত পড়তে পারে।
- উচ্চ রক্তচাপ সরাসরি নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ না হলেও এর উপস্থিতিতে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার আশঙ্কা বাড়ে।
-রক্তের বিভিন্ন রোগ যেমন লিউকেমিয়া, হিমোফেলিয়া ও ক্রিসমাস ডিজিজ হলে নাক দিয়ে রক্ত পড়ে।
- পর্বতারোহীরা যখন অনেক উঁচুতে ওঠেন তখন বাতাসের চাপ কম থাকায় তাদের নাক দিয়েও রক্ত পড়তে পারে।
নাক দিয়ে রক্ত পড়লে করণীয়
-রক্ত পড়া শুরু হলে নাকে চাপ দিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে বসে পড়তে হবে। নাকের ছিদ্র চাপ দিয়ে ধরতে হবে যেন পর্দার নিচের লিটলস এরিয়ার ধমনিতে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়।
- সম্ভব হলে ফ্রিজ থেকে বরফ এনে দ্রুত চাপ দিয়ে ধরতে হবে। মুখের তালুর যে অংশ নাক বরাবর সেখানে বরফ চাপ দিয়ে ধরলে সবচেয়ে ভালো হয়।
- হাতের কাছে সার্জিক্যাল গজ, কাপড় কিংবা প্যাক থাকলে তার সঙ্গে একটু প্যারাফিন মিশিয়ে নাকের ভেতরে ঢুকিয়ে রেখে সাময়িকভাবে রক্তপাত বন্ধ রাখা যায়।
- সর্বোপরি নাক দিয়ে রক্ত পড়লে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক করণীয়গুলো করে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। া
[কনসালট্যান্ট, নাক-কান-গলা বিভাগ]

বিষয় : নাক দিয়ে রক্ত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ

মন্তব্য করুন