পুড়ে যায়নি এমন লোক আছে খুঁজে পাওয়া দুস্কর। আবার পুড়ে গেলেই পেস্ট, ডিমের সাদা অংশ, মাখন ইত্যাদি লাগাতে লোকের অভাব পড়ে না। ফোসকা পড়লে তো কথাই নেই। ফোসকার তরল বের না করা পর্যন্ত শান্তি পান না অনেকেই। এগুলো কিন্তু খুবই ক্ষতিকর। অনেক ক্ষেত্রে রান্নার সময় কাপড়ে আগুন লেগে পুড়ে যায়। এমনটি হলে দেরি না করে মাটিতে গড়াগড়ি দিন। কাপড় খুলে ফেলুন। তেলের ছিটা, চায়ের গরম পানি হাতে এসে পুড়তে পারে হাত। যে কোনো পোড়াই হোক না কেন প্রথমে দেখতে হবে পোড়া কোন ধরনের। পোড়াকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়- ফার্স্ট ডিগ্রি, সেকেন্ড ডিগ্রি ও থার্ড ডিগ্রি বার্ন।

সুপারফিসিয়াল বার্ন বা ফার্স্ট ডিগ্রি বার্ন ত্বকের একেবারেই ওপরের অংশে হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কোনো ফোসকা পড়ে না। ত্বক লালচে আকার ধারণ করে। কিন্তু এটি বেশ ব্যথাযুক্ত থাকে। ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। সেকেন্ড ডিগ্রি বার্ন ত্বকের আরও একটু ভেতর পর্যন্ত যায়। এ ধরনের পোড়ায় ফোসকা পড়ে। এ ধরনের পোড়ায় ব্যথা থাকে বেশ। ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। থার্ড ডিগ্রি বার্ন হলো সবচেয়ে গুরুতর। এতে দেহের ভেতরের অংশও আক্রান্ত হতে পারে। এ ধরনের পোড়ায় কিন্তু ব্যথা থাকে না। তার মানে কিন্তু ভালো না। দেহের স্নায়ু পুড়ে যায় বলেই ব্যথা থাকে না।
পুড়ে গেলে প্রথমে দেখতে হবে কী পরিমাণ জায়গা পুড়ে গেছে। যদি পুড়ে যাওয়ার পরিমাণ বেশি হয়, তাহলে দেরি না করে হাসপাতালে যান।

কোনো রাসায়নিক পদার্থ ও গরম তেল দিয়ে পুড়লে নিশ্চিত হতে হবে, সেটি শরীরে আর লেগে নেই। গায়ের কাপড় ও কোনো অলংকারাদিতেও যদি তা লেগে থাকে, তবে অতি দ্রুত সরাতে হবে।

স্বাভাবিক তাপমাত্রার জলের ধারার (টেপে) পোড়া অংশ ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে রাখুন। এতে জ্বলুনি ও ব্যথা অনেকটা প্রশমিত হবে। তা যদি সম্ভব না হয় তবে পোড়া অংশ শীতল জল দিয়ে ঢেকে দিন। তবে বরফ সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না। পোড়ার খুব অল্প সময়ের মধ্যে পোড়া অংশে বরফ লাগালে বরফ ছ্যাঁকা লাগতে পারে। অনেকে পুড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ক্রিম, ডিমের সাদা অংশ, পেস্ট, গোবর লাগান। এগুলো কিন্তু ভয়ংকর হতে পারে। ক্রিম, পেস্ট, ডিমের সাদা অংশ তাপ আরও ধরে রাখে। ফলে ত্বক আরও বেশি পরিমাণে পুড়তে থাকে। গোবরে খারাপ ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে। এগুলো ইনফেকশন সৃষ্টি করতে পারে। তাই পুড়লে এগুলো লাগানো থেকে বিরত থাকুন।

পুড়ে যাওয়া অংশে অ্যান্টিবায়োটিক অয়েন্টমেন্ট লাগাতে হবে। প্রয়োজন বোধে সুপ্রাটুলি নিয়ে ড্রেসিং করতে হবে। এরপর তার ওপর দিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক অয়েন্টমেন্ট লাগাতে হবে। ফলে পোড়া যাওয়া ত্বকে ইনফেকশন হবে না। এটি একসঙ্গে ব্যান্ডেজের কাজও করবে। যদি পুড়ে যাওয়ার পরিমাণ বেশি হয়, তাহলে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের প্রয়োজন হতে পারে। ব্যথা কমার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন।

যদি তরল জাতীয় পদার্থে পূর্ণ ফোসকা পড়ে যায়, তবে তা ফাটানোর চেষ্টা করবেন না। তবে ফোসকাটি যদি খুব চাপযুক্ত থাকে এবং ব্যথা বাড়তে থাকে তবে একটি জীবাণুমুক্ত সুচ দিয়ে ফোসকার এক পাশে ছোট্ট ছিদ্র করে দিতে পারেন। আর ফোসকা গলে গেলে জীবাণুনাশক লোশন বা সাবান এবং পানি দিয়ে তা পরিস্কার করা জরুরি। এরপর অ্যান্টিবায়োটিক মলম লাগাতে হবে। শরীরের অনেকটা অংশ পুড়ে গেলে (২ ইঞ্চি বা তার বেশি), পোড়া অংশটি খুব গভীর হলে অতি জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তার দেখাতে হবে।া

বিষয় : আগুনে পুড়া

মন্তব্য করুন