হৃদরোগে সহজ সাত (সিম্পল সেভেন) বিষয় দৈনন্দিন জীবনে শুধু সাতটি সহজ বিষয় রপ্ত করতে পারলেই হৃদরোগজনিত মৃত্যু ২০ শতাংশ কমে যাবে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এ কথা বলেছে।

১. শরীরের বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেলুন। সঠিক ওজন রাখুন। ২. ধূমপানকে না বলুন। ৩. সুস্থতার জন্য আপনাকে সচল বা সক্রিয় থাকতে হবে। দৈনন্দিন কাজকর্মের বাইরে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিটি। ৪. দিনে কমপক্ষে পাঁচ রকমের তাজা ফল ও শাকসবজি খেতে হবে, পাঁচবার। ৫. রক্তে ক্ষতিকর চর্বির মাত্রা কমাতে হবে। সে জন্য লাল মাংস, ভাজা-পোড়া খাবার, ঘি-মাখন, ফাস্টফুড ও বেশি চর্বিযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো। ৬. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। আর তার জন্য লবণ খাওয়া কমানোটা খুবই জরুরি। ৭. রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করুন। চিনি, মিষ্টি, সহজ শর্করা কমিয়ে প্রোটিন ও সবজি খান বেশি করে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে আট ভুল ধারণা
রক্তচাপ বাড়লে ঘাড়ব্যথা হয়
ঘাড়ে ব্যথা হলে কেউ কেউ মনে করেন, নিশ্চয়ই রক্তচাপ বেড়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রক্তচাপ বৃদ্ধির কোনো উপসর্গ বোঝা যায় না। সাধারণত হাড়ের জোড়া বা সন্ধির সমস্যায় ঘাড়ব্যথা হয়ে থাকে।
রক্তচাপ বেশি থাকলে দুধ-ডিম নিষেধ দুধ-ডিম-মাংস খেলে রক্তচাপ বাড়ে- এ ধারণা ভুল। রক্তচাপ বাড়তি দেখলে কেউ কেউ দুধ-ডিম খাওয়া ছেড়ে দেন। আসলে ঝুঁঁকি এড়াতে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তেল-চর্বিযুক্ত খাবার (দুধের সর, চর্বিযুক্ত মাংস ইত্যাদি) ও লবণ খেতে নিষেধ করা হয়।

টক খেলে রক্তচাপ কমে
এই ধারণাও ভুল। রক্তচাপের পরিমাণ বেশি দেখলে কেউ কেউ তেঁতুলের পানি বা টক খান। লবণ মিশিয়ে এসব খেলে রক্তচাপ আরও বাড়তে পারে।

লবণ ভেজে খাওয়া যাবে
উচ্চ রক্তচাপের জন্য কাঁচা লবণ খেতে নিষেধ
করায় অনেকে লবণ হালকা ভেজে খান বা রান্নায় লবণের মাত্রা বাড়িয়ে দেন। লবণ যেভাবেই খান না কেন, তা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেবে।

রক্তচাপ কমে গেলে ওষুধ নয়
উচ্চ রক্তচাপের অনেক রোগী রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলে ওষুধ সেবন বন্ধ করে দেন, যা একেবারেই ঠিক নয়। উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, এমনকি জীবনের ঝুঁকিও থাকে।

সমস্যা নেই ওষুধ নেই
রক্তচাপ বাড়তি থাকলেও শরীরে কোনো সমস্যা হচ্ছে না, এমন অজুহাতে কেউ কেউ ওষুধ খাওয়া বন্ধ করতে চান। আসলে উচ্চ রক্তচাপে তেমন কোনো উপসর্গ না থাকলেও এটি ধীরে ধীরে হৃদরোগ, পক্ষাঘাত, দৃষ্টিহীনতা ও কিডনি অকার্যকারিতার ঝুঁকি বাড়াবে। দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা এড়াতেই আপনাকে ওষুধ দেওয়া হয়। অনেকে বলেন, এই ওষুধ শুরু করলে সারাজীবন খেতে হবে, তাই শুরু না করাই ভালো। এটাও বিপজ্জনক চিন্তা।

রক্তচাপ বৃদ্ধির কারণ টেনশন
মানসিক চাপ, উদ্বেগ ইত্যাদি কিছুটা দায়ী বটে। তবে কেবল মানসিক উৎকণ্ঠা উচ্চ রক্তচাপের একমাত্র কারণ নয়। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, ওজানাধিক্য, ধূমপান, মদ্যপান, তেল-চর্বি জাতীয় খাবার, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ প্রভৃতি উচ্চ রক্তচাপের প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। জীবনাচরণ পরিবর্তন করে রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারবেন।

অন্যের ওষুধে ভালো কাজ হয়
উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে আপনার বয়স, উচ্চ রক্তচাপের তীব্রতা, আনুষঙ্গিক অন্য রোগ (যেমন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস, হাঁপানি, প্রোস্টেটের সমস্যা, গর্ভাবস্থা ইত্যাদি) অনেক বিষয় বিবেচনা করেই রক্তচাপ কমানোর ওষুধ দেওয়া হয়। কোনো ওষুধ কারও জন্য প্রয়োজনীয়, আবার একই ওষুধ অন্য কারও জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তাই যে ওষুধে অন্যের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এসেছে, সেটা আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়ার চিন্তা করা ঠিক নয়। া
[সাবেক অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, বারডেম]