অতিরিক্ত ফ্যাট শুধু ওজনের ওপরই প্রভাব ফেলে না, বরং শরীরে অন্যান্য জটিল সমস্যাও সৃষ্টি করে। শরীর সুস্থ রাখতে সব ধরনের খাদ্যোপাদানই প্রয়োজন। ডায়েটে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ইত্যাদি সবই থাকা চাই সঠিক পরিমাণে। তবেই আপনি হবেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। অতিরিক্ত সব উপাদানই শরীরে কোনো না কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে। তবে ফ্যাটের ক্ষেত্রে সমস্যার লিস্ট মনে হয় একটু বেশিই বড়। আসলে শরীরে ফ্যাটের প্রয়োজনীয়তা যতটা, আধুনিক লাইফস্টালের দাক্ষিণ্যে তার তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ ফ্যাট আমরা গ্রহণ করে ফেলি। ফলস্বরূপ ওবেসিটি, কোলেস্টেরল ইত্যাদি সমস্যাও দেখা দিচ্ছে ঘরে ঘরে। তবে ফ্যাটের কুপ্রভাব শুধু অতিরিক্ত ওজন কিংবা হার্টের সমস্যাতেই আটকে নেই। অতিরিক্ত ফ্যাট শরীরে এর থেকেও অনেক জটিল সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

সাধারণত ফ্যাট শরীরে প্রবেশ করলে বাকি সব ধরনের খাবারের হজম প্রক্রিয়াই ধীরে হয়ে যায়। অতিরিক্ত ফ্যাট গ্রহণ করলে পাকস্থলী কম পরিমাণে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড তৈরি করে। ফলে হজমেও সমস্যা হয়। লিভারেরও এই অতিরিক্ত ফ্যাট ভাঙতে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। অতিরিক্ত ভাজাভুজি মানে আবার অতিরিক্ত তেলও। নিয়মিত এই জাতীয় খাবার খেলে শরীরে অনেক বেশি পরিমাণে ফ্রি র‌্যাডিকাল তৈরি হয়, যা সেল ড্যামেজ করে। এই ড্যামেজড সেল থেকে টিউমার, ক্যান্সার, হার্টের সমস্যা, গল ব্লাডারের সমস্যা, ফ্যাটি লিভারের মতো নানাবিধ জটিল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ডায়াবিটিস, ব্লোটিং, বদহজম, গ্যাস, অ্যাসিডিটি, ইমোশনাল ইমব্যালেন্স, দুর্বল দৃষ্টিশক্তির মতো সমস্যা তো রয়েছেই। ডায়েটে অতিরিক্ত ফ্যাটের কারণে জয়েন্ট পেন, ইমফ্ল্যামেশন, মাসল ক্র্যাম্পও দেখা দেয়। তাই দৈনিক ফ্যাট গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়াই স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী।

আর যাই করুন, দুম করে সব ধরনের ফ্যাট খাওয়া বন্ধ করে দেবেন না যেন। হঠাৎ ফ্যাট খাওয়া বন্ধ করে দিলে শরীরে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত খিদে পাওয়া, সব খাবার বিস্বাদ লাগা ইত্যাদি কারণে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি খাবার খাওয়া হয়ে যেতে পারে। বরং ধীরে ধীরে ডায়েটে ফ্যাটের পরিমাণ কমান। যখনই আপনি কম পরিমাণে ফ্যাট খেতে শুরু করবেন, তখনই লিভার ডিটক্সিফিকেশন শুরু করবে। কিছুদিনের মধ্যে নিজেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন। শরীর অনেক বেশি হালকা এবং ফ্রেশ লাগবে। এবার আসি ফ্যাটের পরিমাণের ওপর। আমাদের শরীরে ফ্যাটের অন্যতম প্রধান উৎস তেল। তাই দৈনিক কতটা তেল শরীরে যাচ্ছে, সেদিকে নজর রাখুন। একজন সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষের প্রতিদিন ডায়েটে তেলের পরিমাণ থাকা উচিত তিন-চার চা-চামচ। মোনো-আনস্যাচুরেটেড তেল শরীরের পক্ষে সবচেয়ে ভালো। অলিভ অয়েল খেতে পারেন। এ ছাড়া তিলের তেল এবং সরিষার তেলও স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ফ্যাটের গুণমানের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
[ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ]