১৯৫৮ সালে প্রথম বানরের বসন্ত মাঙ্কিপক্স নির্ণীত হয়। মধ্যম ও পশ্চিম আফ্রিকার গ্রীষ্ফ্মমণ্ডলীয় রেইন ফরেস্টের কাছে প্রত্যন্ত গ্রামে প্রকৃতিতে এ রোগ পাওয়া যায়। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (সাবেক জায়ার) ১৯৭০ সালে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এ ছাড়া লাইবেরিয়া, নাইজেরিয়া, আইভরি কোস্ট, ক্যামেরুন, সিয়েরা লিওন, সুদানেও রোগী পাওয়া গেছে (এ পর্যন্ত প্রায় ২০০)।

আমেরিকায় ২০০৩ সালে প্রথম রোগী পাওয়া যায়, বহিরাগত প্রাণীর বাণিজ্যের মাধ্যমে এ রোগ ছড়িয়েছে বলে ধারণা। ইঁদুর সম্ভাব্য পোষক। প্রাথমিক রক্ষণাবেক্ষণ হোস্ট : শিম্পাঞ্জি, অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী বা ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীর ভূমিকা পরিস্কার নয়। মাঙ্কিপক্স অনেকটা ভুল নাম বরং 'রডেন্ট পক্স' সঠিক নাম; কারণ বিভিন্ন ধরনের কাঠবিড়ালি, ইঁদুর সন্দেহজনক রিজাভার যদিও বা সুনিশ্চিত নয়। বেশিরভাগ মানুষ (রোগী) বানরের সংস্পর্শে এসেছে কিংবা বানরের মাংস খেয়েছে। শুকনা ঋতুতেও শিশুদের বেশি হয়। মাঙ্কি বসন্ত ভাইরাস অন্যান্য বসন্ত রোগের ভাইরাসের মতো। অসুস্থ প্রাণীর রক্ত, রস বা চামড়ার ক্ষতের সংস্পর্শে বা শ্বাসনালির মাধ্যমে ছড়ায়। মানুষ থেকে মানুষে সাধারণত ছড়ায় না। অসুস্থ মানুষের সংস্পর্শে এলে রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশ। Incubation period

৫-১৭ (১২) দিন। গুটিবসন্তের মতো ক্ষত ২-৪ দিনের মধ্যে হয়, ২-৩ সপ্তাহে পূর্ণ আরোগ্য। মৃত্যুর সম্ভাবনা কম। গুটিবসন্তের টিকা পাওয়া মানুষের মাঙ্কিপক্স হয় না।

উপসর্গ : দুটি পর্যায় ২-৫ দিন জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, মাংসপেশি ব্যথা, পিঠ ব্যথা, দুর্বলতা, লাসিকা গ্রন্থি (লিম্প নোড) বড় হওয়া ঘাড়, গলায়।
৩-৫ দিন পর ফুসকুড়ি হয়, একসঙ্গে আলাদা আলাদা ফুসকুড়ি (Papule) - মুখ, হাত-পা, গায়ে কম, হাতের ও পায়ের তালু; ফুসকুড়ি থেকে পুসসহ (Pustule) মাঝখানে গর্ত; ১০ দিন পর চামড়া পড়ে যায়; কিছু দাগ থাকে।
কয়েকটি হতে কয়েক হাজার; মুখে ঘা ৭০ শতাংশ, যৌনাঙ্গ ৩০ শতাংশ, চোখে ২০ শতাংশ, স্থায়িত্বকাল ২-৩ সপ্তাহ।
জটিলতা :কেরাটাইটিস এনকেফালাইটিস, নিউমোনিয়া, ইনফেকশন, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট।
অন্যান্য রোগ : নির্মূলকৃত গুটিবসন্ত, জলবসন্ত, হাম, স্ক্যাবিস, সিফিলিস, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে পার্থক্য করা সহজ নয়।
রোগ নির্ণয় :উপসগগুলো, রোগের প্রাদুর্ভাব, বানর, কাঠবিড়ালি বা ইঁদুরের সংস্পর্শ, লিম্প নোড বড় হওয়া।
নিশ্চিতভাবে বলা যাবে : পিসিআর পরীক্ষা, ভাইরাস এন্টিজেন পরীক্ষা, ভাইরাস কালচার, অ্যান্টিবডি।
চিকিৎসা :উপসর্গ অনুযায়ী আনুষঙ্গিক চিকিৎসা, জটিলতা চিকিৎসা, পুষ্টিকর খাবার, সংক্রমণের চিকিৎসা, অ্যান্টিভাইরাস ওষুধ-টেকো ভাইরিমেট দেওয়া যেতে পারে।

প্রতিরোধ :প্রাদুর্ভাবের সময় সংস্পর্শ সতর্কতা, অসুস্থ প্রাণীর সংস্পর্শ পরিহার।া