জন্মদিনে শিশুদের সঙ্গ খুব মিস করব: ববিতা

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২০     আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২০   

এমদাদুল হক মিলটন

ববিতা। বরেণ্য এই অভিনেত্রীর জন্মদিন আজ। এই দিনটি নিয়ে তার পরিকল্পনা, শিল্পীজীবন এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে- 

জন্মদিনে দৈনিক সমকাল পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে শুভেচ্ছা। এবারে জানতে চাই, দিনটি কীভাবে কাটানোর পরিকল্পনা করছেন?

শুভেচ্ছার জন্য সমকাল পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ। এ দিনটি কখনও ঘটা করে পালন করি না। আত্মীয়-স্বজন ফোনে করে। তারপরও প্রতিবছর যেমন হয় পরিচিত বন্ধু ও সহকর্মীদের কেউ কেউ শুভেচ্ছা জানাতে সরাসরি বাসায় আসেন। এবার করোনাকালে সে সুযোগ নেই। গত কয়েক বছর আমাকে ডিসট্রেসড চিলড্রেন অ্যান্ড ইনফ্যান্টস ইন্টারন্যাশনালের [ডিসিআইআই] ছোট ছোট শিশুরা শুভেচ্ছা জানিয়ে আসছে। এই দিনে তারা আমাকে নেচে-গেয়ে আনন্দে মাতিয়ে রাখত। খাওয়া-দাওয়াও হতো। এ সম্মিলনও এবার হচ্ছে না। জন্মদিনে শিশুদের সঙ্গ খুব মিস করব। বরাবরই এই দিনে নিজের মতো করে থাকি। সবাই দোয়া করবেন যেন ভালো ও সুস্থ থাকি।

জন্মদিন এলে প্রথম কোন কথা মনে পড়ে?

জন্মদিন আসা মানেই হলো আরও একধাপ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া। বয়স বেড়ে যাচ্ছে, আয়ু কমছে। এটা ভেবেই এই দিনে অন্যদের মতো আনন্দ-ফুর্তি করি না। তেমন কিছু করার আসলে প্রয়োজন আছে বলেও মনে করি না। তার মানে এটা বলছি না যে, সেলিব্রেট করা যাবে না। করা যাবে, তা যেন হয় স্বল্প পরিসরে।

বাসায় আছেন। সময় কীভাবে কাটছে?

বাসায় ছাদবাগান করেছি। সেখানে নিয়মিত ক্ষেতখামারি চলছে। শাকসবজিসহ নানা রকম ফুল-ফলের গাছও আছে। দিনের বড় একটা সময় সেখানে ব্যস্ত থাকি। নির্বাচিত বই পড়ছি। নিয়মিত নামাজ, দোয়া, ব্যায়াম ও বাসার কাজ চলছে। ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলে লম্বা সময় কাটে যাচ্ছে। সত্যজিৎ রায়ের পাশাপাশি আরও কিছু নির্মাতার সিনেমাও দেখছি। চেষ্টা করছি, কোনো না কোনো কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকতে। যেন বিষণ্ণতাকে দূরে রাখা যায়।

করোনাকালে পরিবারের সদস্যরা কেমন আছেন?

খুব একটা ভালো নেই। মনটা বেশ খারাপ। ফুফাতো বোনসহ আমার পরিবারের পাঁচ-ছয়জনকে কেড়ে নিয়েছে করোনা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেশি চিন্তা হচ্ছে। মন খারাপের অনেক কারণ রয়েছে। আমার ছেলে অনিক কানাডায়। বছরে দু'বার ছেলের কাছে গিয়ে বেড়িয়ে আসতাম। এ বছরের মে মাসে যাওয়ার কথা ছিল। করোনার কারণে পারিনি। ছেলেটাকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছি। বড় বোন সুচন্দাও আটকে আছে আমেরিকায়। মেজ ভাইও সেখানেই। আরেক ভাই অস্ট্রেলিয়ায়। তাদের সঙ্গে ফেসবুকে ভিডিও কলে কথা হয়। চম্পা দেশে আছে। থাকলে কী হবে, দেখা-সাক্ষাৎ নেই। ভিডিও কলে কথা হয়। করোনা কতদিন থাকবে, তারও তো নিশ্চয়তা নেই।

ঘরবন্দি জীবনে নতুন কী উপলব্ধি হলো?

পৃথিবীর সবাই একা একাই ভালো থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অন্যকে ভালো না রেখে, কখনও নিজে ভালো থাকা যায় না। এমন সংকটময় পরিস্থিতি বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে। তা ছাড়া মানুষ যেভাবে প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে, সেটি ছিল চরম অন্যায়। প্রকৃতি দ্বারা যে আমরা নিয়ন্ত্রিত- এ বিষয়টি মানুষ আগামীতে ভুলে যাবে না বলেই বিশ্বাস। আমার একটাই অনুরোধ, মানুষের যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের অধিকার আছে, প্রাণীকুলেরও তেমনটি রয়েছে। প্রকৃতি ও মানুষের ভারসাম্য যদি ধরে রাখা না যায়, এমন বিপর্যয় বারবার ফিরে আসবে বলে আমার ধারণা।

জন্মদিন ও করোনা প্রসঙ্গে কথা হলো। এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসা যাক। অভিনয়ে ফেরা নিয়ে কী ভাবছেন?

অভিনয়ে তো ফিরতেই চাই। আমার অভিনয়ের মতো গল্প নিয়ে কেউ এগিয়ে আসছে না। তাই অভিনয়ে আমাকে দেখা যাচ্ছে না। ভালো কাজের ক্ষুধা তো আমার আছে। অভিনয় থেকে শিল্পীর বিদায় বলতে কিছু নেই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একজন শিল্পী অভিনয় করতে পারেন।