মিশা জায়েদের পদত্যাগের বিকল্প কিছু নেই: খসরু

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২০     আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২০   

এমদাদুল হক মিলটন

খোরশেদ আলম খসরু। প্রযোজক। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দুই নেতা মিশা সওদাগর ও জায়েদ খানের বহিস্কার প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র কর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে বিভক্তি। চলমান এ ঘটনা ও সিনেমা সংশ্নিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে-

মিশা-জায়েদের পদত্যাগ আগে, পরে আলোচনা- এ সিদ্ধান্তে এখনও অনড় আপনারা...

১৮ সংগঠনের সবার সম্মতিতেই আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ব্যাপারে পুরোপুরিই অনড়। মিশা-জায়েদের পদত্যাগের বিকল্প কিছু নেই। তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার সব প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। ২০১৯ সালে চলচ্চিত্র দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের খরচ বাবদ ছয় লাখ টাকা নিয়েছিলেন জায়েদ খান। চলচ্চিত্র উদযাপন কমিটির আহ্বায়ককে সে খরচের হিসাব দেননি তিনি। এ ছাড়া অনেক অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এতসব অভিযোগ পেয়েছি বলেই আমরা তাদের পদত্যাগ চেয়েছি।

'শিল্পীর কোনো সীমানা নেই। শিল্পীকে কখনও বয়কট করা যায় না'- বলেছেন অভিনেতা ও সাংসদ আকবর হোসেন পাঠান ফারুক...

তিনি নিজেই একটা সময় চলচ্চিত্র পরিবার থেকে শাকিব খানেক বয়কট করেছিলেন। শাকিব সুপারস্টার। শাকিবের মতো ইমেজ জায়েদের নেই। শিল্পীদের অবশ্যই বয়কট করা যায় না। জায়েদ কি শিল্পী? একজন শিল্পী হতে হলে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। তিন-চারটি ছবি করেই তার কিসের এতো বাহাদুরি?  শিল্পী সমিতির নেতাদেরও বলতে শুনেছি, আমাদের নাকি পদত্যাগ চাওয়ার এখতিয়ার নেই। প্রযোজক ও পরিচালক সমিতি হলো চলচ্চিত্রের অভিভাবক সংগঠন। চলচ্চিত্রের কতিপয় শিল্পী চলচ্চিত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবেন, দুর্নীতি করবেন। আমরা শুধু দেখে যাব। পদত্যাগ চাইতে পারব না। এটা হতে দেওয়া যায় না।

অনেকে বলেন, এগুলো কোনো সংগঠনের দ্বন্দ্ব নয়। ব্যক্তিস্বার্থের লড়াই, বিষয়টি কি তাই?

এটি মোটেও ব্যক্তিস্বার্থের লড়াই নয়। চলচ্চিত্রের স্বার্থে সব সংগঠন মিলে একটি নীতিমালা করেছি। কিন্তু নীতিমালা বাস্তবায়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে মিশা ও জায়েদ। আমরা যে শুধু শিল্পীর খরচ কমাতে চাচ্ছি তা কিন্তু নয়, চলচ্চিত্রের ১৮ সংগঠনের মধ্যে মেকআপম্যান, চিত্রগ্রাহকসহ অনেকের সম্মানী কাটছাঁট করেছি। তারা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু জায়েদ খান শিল্পীদের উস্কে দিয়েছেন।

অনিয়ম রোধে কী নীতিমালা বেঁধে দিয়েছেন?

চলচ্চিত্র থেকে সবার স্বার্থ সংরক্ষিত হয়- সেটাই নীতিমালায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। প্রথমত, শিল্পীদের সেটে আসার কল টাইম হবে ৯টায়। কারণ, অনেক শিল্পী বিকেল ৫টায়ও সেটে আসেন। গুলশান থেকে একজন শিল্পী এফডিসিতে এলে মূল সম্মানীর বাইরে তাকে আরও চার হাজার টাকা যাতায়াত ভাড়া দিতে হবে। ঢাকার বাইরে গেলে ১২ হাজার টাকা। আউটডোর শুটিংয়ে নায়িকার গোসলের জন্য বিশুদ্ধ পানি! এদের অত্যাচার আমরা এতদিন সহ্য করে আসছি। আর পারছি না। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আগে অনেক সিনেমা হতো। লাভও ছিল। তখন আমরা ওভারলুক করেছি। এখন প্রযোজকরা বিনিয়োগ করছেন না। ছবি করলেই লোকসান গুনতে হয়। তাই যে নীতিমালা তৈরি হয়েছে, সেখানে অবান্তর খরচের বিষয় কাটছাঁট করা হয়েছে।

প্রযোজক সমিতির অনেক নেতা একসময় মিশা-জায়েদকে সমর্থন দিয়েছিলেন। হঠাৎ কেন সবাই উল্টে গেল?

শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আমি নিজেও মিশা-জায়েদের সমর্থন করেছি। আসলে তখন আমরা ভেতরের অনেক কিছুই জানতাম না। এখন জেনেছি, তাই সাবধান হয়েছি। সে কারণেই এখন আমরা তাদের পদত্যাগ চাইছি