ফেনীর পরশুরামে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে নিহত কৃষক মেজবাহ উদ্দিনের লাশ ১৭ দিন পর ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে তাঁর মরদেহ হস্তান্তর করে ভারতীয় পুলিশ।

বিলোনিয়া স্থলবন্দরের চেকপোস্ট দিয়ে মরদেহ হস্তান্তরের সময় বিজিবির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পরশুরামের খেজুরিয়া কোম্পানি কমান্ডার জেসিও সুবেদার ওমর ফারুক ও পরশুরাম মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম।

বিএসএফের পক্ষে ছিলেন সারসীমা কোম্পানি কমান্ডার এসি সত্যিয়া পাল সিং ও ভারতের বিলোনিয়া থানার ওসি পরিতোষ দাস। মেজবাহর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৩ নভেম্বর উপজেলার বাঁশপদুয়া গ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় ধান কাটতে গেলে মেজবাহকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। তিন দিন পর তাঁর মরদেহ ভারত সীমান্তের ১০০ গজ ভেতরে পড়ে থাকতে দেখে বিজিবিকে জানায় স্থানীয়রা। রাত ৩টার দিকে মরদেহ সেখান থেকে নিয়ে যায় বিএসএফ।

চার মেয়ের বাবা মেজবাহর বাড়ি পরশুরাম পৌর এলাকার উত্তর গুথুমা গ্রামে। তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগমের অভিযোগ, বিএসএফ তাঁর স্বামীকে ধরে নিয়ে গিয়ে বিনা অপরাধে হত্যা করেছে। তাঁর স্বামীর মরদেহ চেনারও উপায় নেই।

পরশুরামের মজুমদারহাট সীমান্ত ফাঁড়ির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মনিরুজ্জামান জানান, বিজিবি-বিএসএফ ও পুলিশের উপস্থিতিতে আইনগত প্রক্রিয়ায় লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিএসএফ কর্মকর্তা সত্যিয়া পাল সিং জানান, ভারতীয় সীমান্ত থেকে তাঁরা অর্ধগলিত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করেন। ভারতীয় আইন অনুযায়ী ময়নাতদন্ত করার জন্য লাশটি আগরতলা পাঠানো হয়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাশ ফেরত দেওয়া হয়েছে।

ভারতের বিলোনিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক পরিতোষ দাস জানান, মেজবাহর শরীর ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বাংলাদেশ পুলিশকে দেওয়া হবে।

পরশুরাম থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার (আজ) লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।