ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর ছিদ্দিক আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

গত বুধবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের সময় তাঁর পেটে ৩৫ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ছিদ্দিককে গত মঙ্গলবার রমনা এলাকা থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে ডিবির মতিঝিল বিভাগ। তাঁর বিরুদ্ধে রমনা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে ডিবি। তাঁর বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফের উলুচামারি গ্রামে।

এজাহারে বলা হয়েছে, রমনা থানার ইস্কাটন গার্ডেন সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারের সামনে থেকে ছিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর শরীর তল্লাশি করে ১ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা এনে ঢাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করতেন তিনি।

রমনা থানার মামলায় ছিদ্দিককে বুধবার দুপুরে ঢাকার আদালতে নেওয়ার সময় তিনি পেটে ব্যথা অনুভব করেন। এরপর তাঁকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায় ডিবি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে নেওয়া হয় আদালতে।

ডিবির মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রিফাত রহমান শামীম সমকালকে বলেন, ইয়াবা কারবারি ছিদ্দিককে বুধবার আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের সময় তাঁর পেটে ইয়াবা পাওয়া গেছে।

সুরতহাল রিপোর্টে পুলিশ উল্লেখ করেছে, ছিদ্দিকের দুই পায়ে, কপালের ডান পাশে, হাঁটুর নিচে ও গোড়ালির বিভিন্ন স্থানে পুরোনো কালো দাগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর লাশ নিতে কোনো স্বজন ঢাকায় আসেননি। লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মৃত ব্যক্তির স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এলে মৃতদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা রয়েছে বিভিন্ন থানায়। একটি টেকনাফে এবং অপর দুটি নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানায়।