দম্পতির বিরুদ্ধে একে একে মামলা হয়েছে ১৪টি। এর মধ্যে সাতটি মামলায় সাজাও হয়েছে। বাকি সাতটিতে রয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। তাঁরা এই সাজা ও গ্রেপ্তার এড়াতে নাম-পরিচয় গোপন করে পালিয়ে ছিলেন আট বছর। তবে শেষরক্ষা হয়নি। গত বুধবার রাতে ময়মনসিংহ থেকে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজস্ব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার দম্পতি হলো- মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম শানবান্ধা গ্রামের মাসুদ রানা ওরফে ইন্তাজ (৪৩) এবং তাঁর স্ত্রী লিলি বেগম (৩৫)।

সিআইডি মানিকগঞ্জের বিশেষ পুলিশ সুপার মীর্জা আবদুল্লাহেল বাকী জানান, অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মাসুদের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি মামলায় আদালত থেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। বাকি সাতটি মামলায় রয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। ১৪টি মামলার মধ্যে লিলির বিরুদ্ধে রয়েছে সাতটি। তাঁরা আমানতকারীদের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০০১ সালে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন মাসুদ। এরপর বন্ধুদের পরামর্শে ২০১১ সালে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বালিরটেক বাজারে গ্রামীণ শক্তি নামে ঋণদান সমবায় সমিতির কার্যালয় খোলেন মাসুদ ও লিলি বেগম। কয়েক মাস গ্রাহকদের ঋণদান করেন।

এরই মধ্যে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে শাখা খুলে মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেন। তবে কথা মতো টাকা ফেরত দিতে না পারায় কয়েকজন মামলা করেন। ২০১৪ সালে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ওই দম্পতি পালিয়ে যায়।

সিআইডির অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাসুদ নিজেকে সাজেদুল ইসলাম নাম দিয়ে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। দীর্ঘদিন সবার চোখে ফাঁকি দিয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানা এলাকায় জনশক্তি কৃষি সমবায় সমিতি নামে একই ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। সেখানে তিনি এক নারীকে বিয়ে করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মানিকগঞ্জ সিআইডির পরিদর্শক মো. আনারুল ইসলাম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে মাসুদ ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।