পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৭৪টি পশুর হাট বসছে। এর মধ্যে ৯ উপজেলায় রয়েছে ৭০টি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকায় ৪টি হাট। ইতোমধ্যে পশুর হাটে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। হাটগুলোতে অন্তত ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে বলে প্রত্যাশা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের।

চলতি বছর জেলায় ১২ হাজার ৪০০ খামারে ১ লাখ ৮০ হাজার ১১৮টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। পশুর চাহিদা ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২০টি। উদ্ধৃত রয়েছে ৯ হাজার ৫৯৮টি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদ সামনে রেখে প্রতিটি খামারেই ব্যস্ত সময় পার করছেন মালিক-কর্মচারীরা। প্রতিটি খামারে কাজ করেন ৮-১০ জন লোক। গরুকে নিয়মিত গোসল করানো, সময় মতো খাবার দেওয়া, ঘর পরিস্কারসহ বিভিন্ন কাজ করছেন তাঁরা।

সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চিনাইর-আলাকপুর গ্রামের খামারি এইচ এম মাহবুব আলম বলেন, দুই বছর ধরে খামারে কোরবানির গরু লালনপালন করছেন। এবার তাঁর খামারে দেশি ও ফ্রিজিয়ান জাতের ৩৮টি ষাঁড় রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার গোকর্ণঘাটের নিউ প্রিন্স ডেইরি ফার্মে এবার ১১০টি গরু প্রস্তুত। খামারের মালিক মো. নাসিরউদ্দিন বলেন, অনলাইনসহ বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে ৩২টি গরু ইতোমধ্যে বিক্রি করেছেন। ঈদের আগেই বাকি গরু বিক্রি হয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা তাঁর।

পৌর এলাকার নয়নপুর গ্রামের রূপচান্দ বিবি ডেইরি খামারের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম জানান, এবার শতাধিক দেশি গরু পালন করেছেন তাঁরা। তাঁদের কাছে মাঝারি আকারের গরু বেশি। কোরবানির বাজারে মাঝারি গরুর চাহিদা থাকে বেশি।

আখাউড়ার স্বপ্ন বহুমুখী প্রকল্পের স্বত্বাধিকারী জহির রায়হান বলেন, ১০টি গরু রয়েছে তাঁর খামারে। এর মধ্যে চারটি বড় গরু। বড় গরুর দাম প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

খামারিরা জানান, মাস তিনেক আগে ৪০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা ভুসির দাম ছিল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। এখন সেই ভুসি ১ হাজার ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনতে হয়। ৪০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা খৈলের দাম আগে ছিল ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। এখন তা ২ হাজার টাকায় কিনতে হয়। এ ছাড়া ধানের কুঁড়ার দামও বেড়ে দ্বিগুণ। এত দামের খাবার কিনে খাওয়ানোর পর গরু বিক্রি করে তেমন লাভ হবে না।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ বি এম সাইফুজ্জামান বলেন, অনলাইন কোরবানির পশুর হাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামে ফেসবুক পেজটি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত। এর মাধ্যমে পশু বিক্রিতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।