লিচুর ভরা মৌসুমে কিশোরগঞ্জের ত্রিমোহনা (কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া ও সদর উপজেলার) পাকুন্দিয়ার পুলেরঘাট বাজারের চেহারাই বদলে যায়। ভোর না হতেই লিচু ব্যবসায়ীদের আগমনে মুখর হয়ে ওঠে বাজার এলাকা। মাত্র তিন ঘণ্টায় এখানে ১৫ লাখ টাকার লিচু বিক্রি হয়ে যায়।

বাজারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছোট বিচির মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু। চেহারা দেখেই ক্রেতা শনাক্ত করেন কোনটা পাকুন্দিয়ার মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু।

বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই খুচরা বিক্রেতারা ভোররাতে এসে ভিড় জমান বাজারে।

পাইকারি ব্যবসায়ী রবিন মিয়া জানালেন, স্থানীয় ব্যাপারীদের কাছ থেকে লিচু কিনে তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ অনেক এলাকায় এ লিচু চালান করেন। এত তার বেশ ভালো আয় হয়।

আলী মিয়া, রজত আলী, কালীদাসসহ হাওর এলাকা থেকে লিচু কিনতে আসা ব্যাপারীরা বলেন, হাওরে লিচুর আবাদ হয় না। তবে এ মৌসুমি ফলের ভীষণ

চাহিদা গোটা হাওরে। তাই তারা কয়েকজন প্রতি বছর এ পুলেরঘাট বাজার থেকে লিচু কিনে হাওরে নিয়ে ব্যবসা করেন।
এবার মঙ্গলবাড়িয়ায় দুই শতাধিক বাগানে লিচু চাষ করা হয়েছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত লিচু বাজার সরগরম থাকবে।
পাকুন্দিয়ার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, এবার লিচুর ফলন ভালো হওয়ায় পুলেরঘাট বাজারে লিচু ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ টাকার লিচু বিক্রি হচ্ছে। এ মৌসুমে মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর বিক্রি ১০ কোটি টাকা অতিক্রম করবে বলে মনে হচ্ছে।