ঢাকা শনিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৩

দেশি ওষুধ বিদেশি বলে বিক্রি, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার ৩

নারী-শিশুর জরুরি ওষুধ নিয়ে জালিয়াতি

প্রতীকী ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৩ | ২১:৫৮ | আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০২৩ | ১৩:১৬

অন্তঃসত্ত্বা, শিশু ও কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত জরুরি ওষুধ নিয়ে চলছে জালিয়াতি। একটি চক্র দেশীয় কোম্পানির ওষুধের মোড়ক ও লেবেল পাল্টে বিদেশি ব্র্যান্ডের দামি ওষুধ বলে বিক্রি করে আসছিল। এর সঙ্গে জড়িত পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার কিছু অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ী। জালিয়াত চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর আজ বুধবার এসব তথ্য জানায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– আশফাক আহম্মেদ আলী ওরফে সুমন, জসিম উদ্দিন ও শুভ বর্মণ। গত মঙ্গলবার মোহাম্মদপুর ও কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি মতিঝিল বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ দল।

ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ আজ তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান,  মোহাম্মদপুরের মাদ্রাসা রোড এলাকার একটি বাসায় নকল ওষুধ তৈরির খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে আশফাককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় সেখান থেকে ৯০ প্যাকেট নকল রোফিল্যাক ৩০০, ২৮ বাক্স কোনাকিওন এমএম ও ২০ প্যাকেট গ্রিফলস অ্যালবুমিন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। 

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আশফাক মিটফোর্ড থেকে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি আইটি ভ্যাক্স ইনজেকশন কেনেন। এর পর মোড়ক-লেবেল বদলে সেগুলো সুইজারল্যান্ডের তৈরি রোফিল্যাক হিসেবে বিক্রি করেন। এতে তৈরির খরচ পড়ে ১০০ টাকা। আর বিক্রি করা হয় ৪ হাজার ১৫ টাকায়। অন্তঃসত্ত্বার চিকিৎসায় এই ওষুধ ব্যবহার হয়।

একইভাবে ইনসেপ্‌টা ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি কেএমএম ইনজেকশন ফ্রান্সের তৈরি কোনাকিওন হিসেবে রূপান্তর করা হতো। ওষুধটি শিশুদের জন্ডিস ও ভিটামিন কে-এর ঘাটতি রোধে ব্যবহার করা হয়। আর ভারতের তৈরি অ্যালবুমিন ইনজেকশন পাইকারিভাবে কিনে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি গ্রিফলস অ্যালবুমিন হিসেবে লেবেল সেঁটে বিক্রি করা হতো। এটি কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত হয়। ৫০০ টাকার এই ওষুধ বিক্রি করা হতো ১০ হাজার ৫৮৭ টাকায়। এগুলো কিনতেন মিটফোর্ড এলাকার জসিম। 

হারুন অর রশীদ জানান, আশফাকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জসিমকে কেরানীগঞ্জ মডেল টাউন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জসিমের দেওয়া তথ্যমতে কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নকল ইনজেকশন তৈরির স্টিকার ও প্যাকেট সরবরাহকারী শুভ বর্মণকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবি মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার এরশাদুর রহমান। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন