‘ঘরে-বাইরে নারীর নিরাপত্তায় জোর দিতে হবে’

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২০     আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় দেশ জুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে। রোববার রাত থেকে সহপাঠীকে নির্যাতনের বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনার পর আবার নারীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দেশে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়া ও প্রতিকার নিয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন    

দুটি কারণে দেশে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে গেছে। প্রথমত, দেশে লিঙ্গীয় সমতার দিক দিয়ে নারীরা এগিয়ে চলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ব্যক্তিক অর্জন দিয়ে নারীর উন্নয়ন মাপা হচ্ছে। এতে নারী নিপীড়নের বিষয়গুলো আড়ালে থাকছে। আর নিপীড়নকারীরা এতে উৎসাহিত হচ্ছে। এ কারণে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে 

দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান আইনি ব্যবস্থায় ধর্ষণের ঘটনাগুলো মীমাংসা হতে ১০ থেকে ১৫ বছর লাগে। মামলা ও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলেও অধিকাংশ ঘটনাতেই অভিযুক্তের কোনো শাস্তি হয় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর সেই মামলা চলতে থাকায় নির্যাতিতা নারী এক সময় হাল ছেড়ে দেন। তাছাড়া, ধর্ষণকারীরা বুঝে গেছে, ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে কিছুদিন আলোচনা চলে, তারপর সবাই সেটা ভুলেও যায়। এ ধরনের আইনি ব্যবস্থাও ধর্ষণকারীদের সাহস জোগাচ্ছে। 

ধর্ষণের ঘটনা রোধে নারীর অর্জনকে ব্যক্তিক অর্জন হিসেবে না দেখে, অবস্থা বিবেচনার পাশাপাশি ঘর-বাইরে নারীর নিরাপত্তায় জোর দিতে হবে। তাদের মতাদর্শকে প্রাধান্য দিতে হবে। 

সাধারণত ধর্ষণের ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে, সেটা বন্ধে কী করা যায়- এখন সে বিষয়গুলো চিন্তা করা দরকার। ধর্ষণকারীর মধ্যে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, সামাজিক রাজনীতি ছাড়া আর কোন কোন বিষয় কাজ করছে সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। শুধু আইন নয়, কীভাবে ধর্ষণের ভয়াবহতা বন্ধ করা যায় সেদিকেও মনোযোগ দিতে হবে।