চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন

আ'লীগে 'ক্ষোভের আগুন', আশা দেখছে বিএনপি

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০     আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে দলীয় প্রার্থী না দিলেও এবারের নির্বাচনে একক প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ফলে মনোনয়নবঞ্চিতদের মধ্যে জ্বলছে 'ক্ষোভের আগুন'। ইতোমধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ওয়ার্ডে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে ফরম সংগ্রহ করেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা। এর সঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল তো রয়েছেই। তবে আওয়ামী লীগের এমন অবস্থায় নিজেদের আশা দেখছে বিএনপি। দলটির নেতারা আশা করছেন, আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক ভাগ হয়ে গেলে তার সুবিধা পাবেন বিএনপি প্রার্থীরা। কেউ যাতে 'বিদ্রোহী' প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সে চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মনোনয়নবঞ্চিতদের 'বিদ্রোহ' থেকে বিশেষ সুবিধা নিতে চাচ্ছে বিএনপি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ড ও নারীদের জন্য সংরক্ষিত ১৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দলের কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। গত শনিবার নগরীর নাসিমন ভবনে নগর বিএনপি কার্যালয়ে কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয় বিএনপি। দলটির  কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীমের নেতৃত্বে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলে।

এমনিতেই মামলায় জড়িয়ে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী চাপে রয়েছেন। ফলে আগ্রহ থাকলেও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে অনেকেই নির্বাচনে অংশ নিতে চান না। সাধারণ ও সংরক্ষিত ৫৫টি ওয়ার্ডে মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দলটির ৪০৬ জন নেতা। বিপরীতে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন ২২৫ জন। এতেই বোঝা যায় আওয়ামী লীগের তুলনায় বিএনপিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা কতটা কম। এ কারণে বিএনপিতে 'বিদ্রোহ' করে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। গত নির্বাচনে ৪১টি ওয়ার্ড ও নারীদের জন্য সংরক্ষিত ১৪টি ওয়ার্ডের বেশিরভাগই পায় আওয়ামী লীগ। বিপরীতে বিএনপি জয় পায় মাত্র সাতটিতে। এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে জয় পান পাঁচজন এবং বাকি দু'জন জয় পান সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে।

জানা গেছে, নগরীর পাথরঘাটা, লালখান বাজার, পাহাড়তলী, দক্ষিণ পাহাড়তলী, জালালাবাদ, দক্ষিণ বাকলিয়া, দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড, শুলকবহর ওয়ার্ডসহ আরও কয়েকটি ওয়ার্ডে এক থেকে একাধিক 'বিদ্রোহী' প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে মূল দল আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারাও দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। সাধারণ কাউন্সিলর পদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংরক্ষিত ওয়ার্ডেও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে 'স্বতন্ত্র' প্রার্থী হচ্ছেন অনেক আওয়ামী লীগ নেত্রী। গত নির্বাচনে সিটি করপোরেশনের ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মধ্যে ১১টিতে জয় পান আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। এর মধ্যে এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি পাঁচজন। দলের মনোনয়ন না পেলেও তারা জানিয়েছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এর বাইরে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল তো রয়েছেই।

নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি দুই ধারায় বিভক্ত। এক পক্ষের নেতৃত্ব রয়েছেন সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা। আরেক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এবার মনোনয়ন চেয়েও পাননি নাছির। তার পরিবর্তে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরীকে। তিনি আবার মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। কাউন্সিলর পদেও মনোনয়ন নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। আর এসব বিষয়কে এবার বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিএনপি নেতারা।

চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম সমকালকে বলেন, কাউন্সিলর পদে বিএনপির পক্ষ থেকে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা হয়েছে। এজন্য আমরা মনোনয়নপ্রত্যাশী সবার সঙ্গে কথা বলেছি। ফলে দলের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে মনে হয় না। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপিতে এখন আর কোনো কোন্দল নেই। এটাও আমাদের এগিয়ে রাখবে।

তবে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে একাধিক বিএনপি নেতা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথা মাথায় রেখে নির্বাচনের কৌশল সাজানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে দলের কেউ যাতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নামে বিদ্রোহী প্রার্থী হতে না পারেন, সেজন্য বিশেষভাবে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনামতো কাজ হলে বিএনপি এবার বাড়তি সুবিধা পাবে।