নাছিরপন্থিদের মাঠে নামানোই রেজাউলের মূল চ্যালেঞ্জ

চসিক নির্বাচন

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দ্বিতীয় দফায় দলের মনোনয়ন পাবেন- এমনই প্রত্যাশা করেছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। কিন্তু এবার তাকে 'হটিয়ে' দলের মনোনয়ন পেয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন চৌধুরীপন্থি হিসেবে পরিচিত এ আওয়ামী লীগ নেতা কি নাছিরপন্থিদের মন জয় করতে পারবেন? চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি রাজনীতিসচেতন মানুষের আলোচনার মূল বিষয় এখন এটি। তারা বলছেন, নির্বাচনের আগে নাছিরপন্থি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে মাঠে নামানোই রেজাউলের মূল চ্যালেঞ্জ।
কষ্টটা মনোনয়নবঞ্চনার। সেই কষ্ট লুকানোর চেষ্টা করলেও তার চাপ থাকে মুখাবয়বজুড়ে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পর মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনও নিজের কষ্ট লুকানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পারেননি। নাছিরের মলিন মুখের ফিকে হাসিতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার সেই কষ্ট। নিজেকে সামলিয়ে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও তাকে ঘিরে থাকা অনুসারীদের চোখে গড়িয়ে পড়ছিল অশ্রুধারা। গত সোমবার আ জ ম নাছিরকে সামনে পেয়ে এভাবে বেদনার সাথি হন তারা। এ অবস্থায় আশাহত এই নেতাকর্মীরা দলের প্রার্থী রেজাউলের করিম চৌধুরীর জন্য কতটা আন্তরিকভাবে কাজ করবেন- সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ দুই ধারায় বিভক্ত। একপক্ষে নেতৃত্বে ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং আরেক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর ওই পক্ষের হাল ধরেন তার বড় ছেলে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
মহিউদ্দিনের মৃত্যুর পর চট্টগ্রামে দলের হাল ধরেন মেয়র নাছির। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। নওফেলের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পর বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। বিশেষ করে, চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের একটি অনুষ্ঠানে মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাছিনা মহিউদ্দিনকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ার চাপা কোন্দল ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এভাবে বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের মধ্যে দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। ফলে মহিউদ্দিনের মৃত্যুর পর নগর আওয়ামী লীগে গ্রুপিংয়ের রাজনীতি কমে আসবে বলে মনে করা হলেও কার্যত তা মহিরুহ আকার ধারণ করে। ব্যারিস্টার নওফেলকে ঘিরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন মহিউদ্দিনপন্থিরা। সম্প্রতি নওফেল বিভিন্ন গণমাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় তুলে ধরে মেয়র নাছিরের কঠোর সমালোচনা করেন এবং মেয়র পদে মনোনয়নে চমক আসছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন। এমনকি নিজেও পরিবর্তনের পক্ষে বলে অভিমত দেন। রেজাউল করিম দলের মনোনয়ন পাওয়ার পর নওফেলের সেই মন্তব্যই সত্য হয়। ফলে নির্বাচনের মাঠে এর রেশ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বলেছেন, নির্বাচনের মাঠে মেয়র নাছির এখনও সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে তার অনুসারী রয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের এসব কমিটির বড় একটি অংশের নেতাকর্মী তার কথামতো চলেন। রেজাউলের জন্য এটিই ভাবনার বিষয়। ফলে তাদের যদি মাঠে নামানো না যায়, তাহলে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে রেজাউলকে। যদিও এরই মধ্যে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে দলের প্রার্থীর জন্য কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন নাছির উদ্দীন।
এ ব্যাপারে আ জ ম নাছির বলেন, আমার মধ্যে কোনো হতাশা নেই। কর্মীদের মধ্যে কিছুটা আবেগ হয়তো আছে। সেটাও কেটে যাবে। রেজাউল করিম চৌধুরীকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের মনোনয়ন দিয়েছেন। নৌকার প্রার্থী হিসেবে আমি তাকে বিজয়ী করতে জীবনবাজি রেখে কাজ করব।
দলের মনোনয়ন পাওয়া রেজাউল করিম চৌধুরী অবশ্য দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। তিনি বলেন, আমি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। তাই আশা করি, নৌকার বিজয়ে সবাই কাজ করবেন। আমি নিজেও সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। এ জন্য সবাইকে নিয়ে বসব, প্রচার চালাব।