চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

বিএনপির প্রথম পছন্দ ডা. শাহাদাত

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন তারেক রহমান

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০     আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা চট্টগ্রাম বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি করেছিল। সে কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অনীহা দেখা গেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। তাদের এমন দোটানার মধ্যেই দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। ফলে সিটি নির্বাচনে যে দলটি অংশ নিচ্ছে, এটা প্রায় নিশ্চিত। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর দলের স্থায়ী কমিটির সভা করে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে বিএনপি। তবে মেয়র পদে প্রার্থীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন লন্ডনে অবস্থান করা দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকা একেবারে ছোট। নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর দলের মনোনয়ন চান। নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানের নাম আলোচনায় থাকলেও নির্বাচনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না তিনি। চট্টগ্রাম-৮ আসনের নির্বাচন ও পরবর্তী অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে 'বাজেভাবে' হেরে যাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন তিনি। এর বাইরে আলোচনায় রয়েছেন মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদউল্লাহ ও সহসভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খানও। অবশ্য বড় কোনো 'অঘটন' না ঘটলে ডা. শাহাদাতের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তফসিল ঘোষণার দু-একদিন পর দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চসিক নির্বাচন সামনে রেখে গত ১১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক প্রতিনিধি সভায় অংশ নেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই দিন তিনি দলের সম্ভাব্য দুই প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ও আবুল হাশেম বক্করের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তারা দু'জনই নিজেদের প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন। তবে দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক, তার জন্য কাজ করার কথা বলেন তারা। তবে তাদের মূল ভাবনা হচ্ছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।

গত ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেন ডা. শাহাদাত। কারাগারে থেকেই নির্বাচন করেন তিনি। সেই নির্বাচনে বিপুল ভোটে হেরে যান বর্তমান শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কাছে। এর পর থেকে অবশ্য সিটি নির্বাচন সামনে রেখে কাজ শুরু করেন তিনি। অন্যদিকে, জাতীয় কিংবা স্থানীয় কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। এবার সেই সুযোগ নিতে জোরেশোরেই মাঠে নেমেছেন তিনি।

ডা. শাহাদাত হোসেন সমকালকে বলেন, 'দলের মহাসচিবসহ হাইকমান্ডকেও আমার পক্ষ থেকে নির্বাচনের কথা জানিয়েছি। তারা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। এ জন্য আমি নির্বাচনের মাঠ গুছিয়েছি। আশা করি মনোনয়ন পাব। অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলেও ধানের শীষের হয়ে কাজ করব।'

আবুল হাশেম বক্কর বলেন, 'ইতোপূর্বে আমি কোনো নির্বাচনে অংশ নিইনি। দলের প্রার্থীদের জন্যই কাজ করেছি। ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে শাহাদাত হোসেনের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়ে কাজ করেছি। ফলে এবার আমি সুযোগ চাই।'

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার পর দু-একদিনের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হতে পারে। সেখানে চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেয়র পদ ছাড়াও ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৪টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দেবে বিএনপি। এ জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে দলটি। দলের পক্ষ থেকে কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা তৈরির কাজও চলছে।

'প্রার্থী হিসেবে রেজাউল করিম চৌধুরীই ভালো' :নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী দলের মনোনয়ন পাওয়ায় খুশি স্থানীয় বিএনপি নেতারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিএনপি নেতা সমকালকে বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে কেউ মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব খাটাতেন। তাদের বিপুলসংখ্যক অনুসারী ও নেতাকর্মী থাকায় তারা নিজ নিজ এলাকায় দাপট দেখাতেন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের বাইরে যেত না। এসব দিক থেকে রেজাউল করিমই ভালো।