দেশে ভয়ংকর মাদক লাইসার্জিক এসিড ডাইমিথালাইড বা এলএসডি চক্রের অন্যতম হোতা নাজমুল ইসলাম বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার বাসা থেকে জব্দ করা হয় ১৩৮ পিস এলএসডি (৯৬ পিস রঙিন প্রিন্টেড ব্লট পেপার ও ৪২ পিস হোয়াইট ব্লট পেপার স্ট্রিপ)।

ডিএনসি বলছে, ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে বিটকয়েন ব্যবহার করে বিদেশ থেকে এই মাদক ঢাকায় এনে বাজার সৃষ্টির চেষ্টা চালান নাজমুল। এর আগে ২০২১ সালেও তিনি এলএসডিসহ গ্রেপ্তার হন। জামিনে বেরিয়ে আবারও তিনি এই কারবারে জড়িয়ে পড়েন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪০ পিস এলএসডি দেশে নিয়ে আসেন।

এ ব্যাপারে জানাতে বুধবার অনলাইনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ডিএনসির ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক জাফরুল্লাহ কাজল বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির খিলগাঁও সার্কেলের পরিদর্শক আবদুর রহিমের নেতৃত্বে একটি দল মঙ্গলবার ক্রেতা সেজে এ অভিযান চালায়। এ সময় ভাটারার জামিয়া মাদানি মসজিদ রোড থেকে নাজমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছে পাওয়া যায় ২৫ পিস রঙিন প্রিন্টেড ব্লট পেপার স্ট্রিপ।

‘পরে তার দেওয়া তথ্যে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি-ব্লকের সাত নম্বর সড়কে তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৭১ পিস রঙ্গিন প্রিন্টেড ব্লট পেপার ও ৪২ পিস হোয়াইট ব্লট পেপার স্ট্রিপ এলএসডি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে তার ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।’ যোগ করেন তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ২০১৭ সালে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে পরিবেশবিজ্ঞানে স্নাতক পড়ার সময় তিনি এই মাদকের সংস্পর্শে আসেন। তখন বিদেশে পড়ালেখা করা তার বন্ধুদের কাছ থেকে তিনি এই মাদক সংগ্রহ করতেন। পরে ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে বিটকয়েন দিয়ে এই মাদক কিনে দেশে আনতেন। তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনে তাৎক্ষণিক অনুসন্ধানে মাদক বিক্রির একটি নেটওয়ার্ক গড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিএনসির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উপ-পরিচালক মাসুদ হোসেন সমকালকে বলেন, এই চক্রে আরও ২০-৩০ জন সদস্য রয়েছে। তারা প্রত্যেকে সেবনের পাশাপাশি নিজেরাই মাদক বিক্রি করে। এক পিস এলএসডির দাম চার-পাঁচ হাজার টাকা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ডিএনসি জানায়, এলএসডি এক ধরনের সাইকাডেলিক ওষুধ, যা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের জন্য পরিচিত। এটি প্রধানত প্রমোদমূলক ওষুধ হিসেবে এবং আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। এলএসডি জিভের নিচে বা ধোঁয়ার সাহায্যে বা ইনজেকশনের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। এর প্রভাবে প্রতিকূল মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া, যেমন উদ্বেগ ও বিভ্রম ঘটার শঙ্কা থাকে। এলএসডি হেলুসিনেশন তৈরি করে।

এটি সেবনের পর মস্তিস্কে হেলুসিনোজেনিক এফেক্ট তৈরি হয়, যা ব্যক্তির ব্যবহার ও চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি গ্রহণের পর সাধারণভাবে যে ধরনের রং প্রকৃতিতে দেখা যায়, তার চেয়েও বেশি রং দেখতে পাওয়া যায়। এলএসডির প্রভাবে মানুষের হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ, শ্বাস-প্রশ্বাসের মাত্রা এবং শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াসহ নানা সমস্যা শুরু হয়। অনেকের অনিদ্রা, ক্ষুধামন্দা, অতিরিক্ত ঘামসহ বিভিন্ন মানসিক সমস্যাও তৈরি হয়।