ঢাকায় আজ (বুধবার) যানজটে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রাজধানীবাসী। সকালের বৃষ্টি ও ঈদে বাড়ি ফেরার প্রভাব পড়েছে সড়কে। সেই সঙ্গে ভ্যাপসা গরম মাত্রা বাড়িয়েছে ভোগান্তির। 

সকাল সাড়ে ৯টায় সরেজমিনে দেখা গেছে, খিলক্ষেতে যানজটে আটকে আছে আবদুল্লাহপুরগামী যানবাহন। সড়কের অপর পাশে আব্দুল্লাহপুর থেকে বনানীগামী লেনেও দেখা গেছে ধীরগতি। শত শত মানুষ গাড়ির অপেক্ষায় ফুটপাতে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে ধীরগতিতে চলা গাড়ির সামনে দিয়ে ছুটে যাচ্ছেন গন্তব্যের বাসে উঠতে। 

৬০ বছর বয়সী মহুয়া বেগম প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বাসে ওঠার চেষ্টা করেছেন। এরপর ক্লান্ত হয়ে বসে পড়েছেন ফুটপাতের কংক্রিটের বেঞ্চিতে। সমকালকে তিনি বলেন, বনানী যাইব। কিন্তু বাস যা আসতেছে সব ভরা। পাউ রাখার জায়গা নাই। আমার বয়স হইছে হুড়াহুড়ি কইরা তো উঠতে পারি না। তাই বইসা আছি। দেখি আল্লায় কখন নেয়।

রাজধানীর খিলক্ষেতে যানজটে। ছবি- সমকাল।  
মহুয়ার পাশেই বসে ছিলেন তার বোন দিলারা। তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। বাস ছাড়া গতিক নাই। গতরে বলও নাই যে হাইটা যাইব। 
খিলক্ষেতে শত শত মানুষ গাড়ির অপেক্ষায় ফুটপাতে দাঁড়িয়ে আছেন। ছবি- সমকাল। 

এদিকে বেলা সাড়ে ১০টায় সরেজমিনে দেখা গেছে, আর্মি স্টেডিয়ামে থেকে মহাখালী পর্যন্ত যানজট থাকলেও ফ্লাইওভার দিয়ে বিজয় সরণি পর্যন্ত সড়কে চাপ নেই। বিপরীত লেনেও গাড়ির গতি স্বাভাবিক।  

ফার্মগেটের চিত্র/ সমকাল। 

তবে মহাখালী থেকে সাতরাস্তাগামী সড়কে গাড়ির তীব্র চাপ রয়েছে। বিপরীত লেনেও প্রায় একই রকম চাপ দেখা গেছে। ফার্মগেট থেকে শাহবাগ যেতেও ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে ট্রাফিক সিগন্যালে। 

মহাখালী থেকে সাতরাস্তাগামী সড়কে গাড়ির চাপ। ছবি- সমকাল। 

সাতরাস্তায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. কিরণ সমকালকে বলেন, জ্যাম তো প্রায় প্রতিদিনই থাকে এখানে। তবে আজ সকাল থেকেই জ্যাম সীমা অতিক্রম করেছে। সকালে বৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া ঈদে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন রাজধানীবাসী। এর প্রভাব পড়েছে সড়কে।