পবিত্র ঈদুল আজহায় নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এবার তারা কোনো ওয়ার্ডেই কোরবানির জন্য স্থান নির্ধারণ করে দেয়নি। অন্যদিকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়ে মাত্র তিনটি ওয়ার্ডে এই সুযোগ রেখেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বাকি ওয়ার্ডে নগরবাসী ইচ্ছামতো সুবিধাজনক স্থানে পশু কোরবানি করতে পারবেন।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে অতীতে রাজধানীতে পশু কোরবানির জন্য স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিল দুই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। ওইসব স্থানে নগরবাসী যাতে সুন্দর ও সুচারুভাবে পশু কোরবানি করতে পারেন, তার যাবতীয় বন্দোবস্ত করেছিল। এসব সুবিধা থাকার পরও নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানিতে আগ্রহ দেখাননি নগরবাসী। ইচ্ছামতো যত্রতত্র কোরবানি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির মুখপত্র আবু নাছের সমকালকে বলেন, যে কয়েক বছর পশু কোরবানির স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল, তাতে নগরবাসীর খুব একটা সাড়া পাওয়া যায়নি। এ জন্য কাউন্সিলরদের মতামত নিয়ে বোর্ডসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা পশু কোরবানির জন্য আর কোনো জায়গা নির্ধারণ করে দেব না।
ডিএনসিসির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসেন বলেন, কয়েক কোটি টাকা খরচ করে পশু কোরবানির স্থান নির্ধারণ করে সেখানে যাবতীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। কিন্তু নগরবাসী পশু কোরবানি দিতে না আসায় টাকা পানিতে যায়। এ জন্য এই উদ্যোগ থেকে ডিএনসিসিও সরে আসতে চায়। যদিও ডিএনসিসির ৪১, ৪৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা এবারও কয়েকটি স্থান পশু কোরবানির জন্য নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও সচেতন নগরবাসী বলছেন, ঈদুল আজহার সময়ে যত্রতত্র পশু কোরবানির ফলে বর্জ্য জমে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মুসলিম অধ্যুষিত বিভিন্ন দেশে নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি করা হয়। ঢাকা শহরে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে সিটি করপোরেশনের জন্য বর্জ্য অপসারণ সহজ হতো। এমন চিন্তা থেকেই গত কয়েক বছর স্থান নির্দিষ্ট করা উদ্যোগ নিয়েছিল সিটি করপোরেশন। সেখানে পানি, ব্লিচিং পাউডার, কসাই, শামিয়ানা, চটসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছিল।

এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান সমকালকে বলেন, নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানির উদ্যোগ ছিল প্রশসংনীয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাতে বাধ্যবাধকতা আরোপ না করায় সাফল্য আসেনি। পাইলটিং করে নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানির তাৎপর্য নগরবাসীকে বোঝানো দরকার ছিল। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যেত। তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া, ইরান, তুরস্কের মতো মুসলিমপ্রধান অনেক দেশে নির্দিষ্ট স্থানেই পশু কোরবানি হয়।