হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাই স্পিড ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে। ফলে চলতি মাসের শুরু থেকেই বিমানবন্দরে চালু হয়েছে ২৪ ঘণ্টা ফ্লাইট ওঠানামা। তবে ইমিগ্রেশন, বোর্ডিংসহ সব জায়গায় যাত্রীদের ভোগান্তি ও হয়রানি রয়েছে আগের মতোই। যাত্রীরা বলছেন, দেরিতে ফ্লাইট ছাড়ার ঘটনা যেমন ঘটছে, তেমনি দেশে আসা যাত্রীদের লাগেজ পেতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। 

এছাড়া বিমানের দুর্বল গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কারণেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। 

এদিকে বিমান সংস্থাটির কয়েকজন কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে বিমানবন্দরে ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা। তবে এ সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। 

শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রীরা অপেক্ষা করছেন। ইমিগ্রেশন পাসপোর্ট তল্লাশিতে দীর্ঘ লাইন রয়েছে। এমনকি শুল্ক পরিশোধের জন্য ব্যাংকের বুথও অনেক দূরে। 

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিমানবন্দরে রাতে বিমান চলাচল শুরু হলেও ফ্লাইট সিডিউল আগের মতোই রয়েছে। লাগেজ পেতে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এমনকি কনভেয়ার বেল্ট মাঝে মাঝে বন্ধ থাকে। 

জানা গেছে, বিমানবন্দর পরিদর্শন করে নানা অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প-বাণিজ্য বিভাগের উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পচিালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো: কামরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সালমান এফ রহমানের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে এ বিষয়ে বৈঠক করা হয়েছে। শুল্ক যুক্ত পণ্যের শুল্ক পরিশোধের জন্য যাত্রীদের সুবিধার্থে বিমানবন্দর কাষ্টমস কর্মকর্তাদের টেবিলের পাশেই ৩টি ব্যাংকের বুথ বসানো হয়েছে। 

নির্বাহী পরিচালক কামরুল আরও বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ কাজের জন্য সম্প্রতি বিমানবন্দরে প্রতিদিন রাতে ৮ ঘন্টা বিমান চলাচল বন্ধ ছিল। এ কারণে বিমানসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সিডিউল পরিবর্তন করা হয়। ১ মে থেকে বিমানবন্দরে রাতের বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সীগুলো আগের ওই ফ্লাইট সিডিউল অনুযায়ী যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি করে। এ কারণে নতুন ফ্লাইট সিডিউল অনুযায়ী বিমানবন্দরে এসে ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা। বিমানবন্দরে এ সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।