ঢাকা-রাজশাহী হাইওয়েতে ওঠার পরই রাজশাহীগামী ন্যাশনাল ট্রাভেলসের চালক বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছিলেন বাসটি। যাত্রীদের শত অনুরোধেও তিনি গতি কমাতে রাজি হননি। তার গোয়ার্তুমিতেই প্রাণ গেল সাত যাত্রীর।’

নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের মহিষভাঙ্গা এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কথা জানাচ্ছিলেন ওই বাসের যাত্রী এনামুল হক (৪৭)।

একই বাসের যাত্রী আক্তারী খানম (৪১) বলেন, ‘গাড়িটি অযথাই বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছিলেন চালক। অনেক যাত্রীর অনুরোধেও গতি কমান নাই । অবশেষে দুর্ঘটনায় পড়তে হলো। কেড়েল নিল ৭টি তাজা প্রাণ..।'

শনিবার সকাল ১১টার দিকে মহিষভাঙ্গা এলাকায় গাজী অটো রাইস মিলের সামনে মহাসড়কে রাজশাহীগামী ন্যাশনাল পরিবহন ও ঢাকাগামী সিয়াম পরিবহনের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। 

এতে প্রাণ যায় সাত যাত্রীরা। তাদের মধ্যে পাঁচ জন পুরুষ ও তিন জন নারী। 

ন্যাশনাল পরিবহনের যাত্রী আরইবির রাজশাহী বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (এসি) এনামুল হক দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, গাজী অটোরাইস মিলের সামনে পৌঁছালে ন্যাশনাল বাসটি সামনে থাকা অপর একটি বাসকে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা সিয়াম পরিবহন নামের অপর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। 

এ সময় সিয়াম পরিবহন ছিটকে গিয়ে গাজী অটোরাইস মিলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। ন্যাশনাল পরিবহনও মহাসড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে কিছুটা নেমে যায়। 

ন্যাশনাল পরিবহনের চার যাত্রী ও সিয়ামের দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। উভয় বাসের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে উভয় বাসের অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে থানা, বড়াইগ্রাম থানা ও বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহত যাত্রীদের বনপাড়া,নাটোর ও রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

দুপুর ১২টার দিকে দুর্ঘটনায় আহত মোহনা আক্তার মিলি (২৬) নামে এক যাত্রীকে বনপাড়ার আমেনা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া গ্রামের রুহুল আমীনের স্ত্রী।

বনপাড়া হাইওয়ে থানা নিহতদের পরিচয় জানিয়েছে। তারা হলেন, সিয়াম পরিবহনের যাত্রী নাটোর সদর থানার পাইকোরদল এলাকার প্রবাসী শাহজাহান মিয়ার ছেলে কাউছার রহমান (১৭) এবং মেয়ে সাদিয়া আক্তার (১৩) ও শ্যালক নাটোর সদর থানার পাইকোরদল এলাকার আলমগীর হোসেন (৪৮) ; ন্যাশনাল পরিবহনের যাত্রী নাটোরের লালপুর থানার ওয়ালিয়া এলাকার মোহনা আক্তার মিলি (২৬), মাগুরা সদর থানার মিজানুর রহমান (৩০), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার মশিউর রহমান (২৫) ও টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানার বেঙ্গুনিয়া গ্রামের আব্দুল জলিল (২৬)।

খবর পেয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ, পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, বনপাড়া পৌর মেয়র কেএম জাকির হোসেন, বড়াইগ্রাম থানার ওসি আবু সিদ্দিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এসময় জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার করে টাকা এবং আহতদের চিকিৎসায় সহযোগিতার ঘোষণা দেন।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নিয়ে সড়কে যাতায়াত সচল করতে তারা কাজ করছেন।