রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে গৃহকর্তা মুকুন্দ চন্দ্র দাসই তার স্ত্রী ফুলবাঁশী রানী দাস ও তার শিশুকন্যা সুমি রানী দাসকে ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। বড় মেয়ে ঝুমা রানী দাসকেও হত্যার পরিকল্পনা ছিল তার। পরে মুকুন্দ কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দিয়েছে মুকুন্দ দাস।

পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলার কারণ হিসেবে মুকুন্দ জানিয়েছে, দুই মেয়ের পড়ালেখার খরচ, সংসার চালানো আর বাসা ভাড়া দিতে কষ্ট হচ্ছিল তার। নানা সময়ে বিভিন্ন পেশার কাজ করলেও করোনার কারণে প্রায় সবই বন্ধ হয়ে বেকার এবং ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। এ জন্য সে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করে। কিন্তু স্ত্রী-মেয়েদের কে দেখবে? তাই সবাইকে মেরে ফেলার চিন্তা আসে তার মাথায়।

শনিবার ভোরে কামরাঙ্গীরচরের নয়াগাঁও এলাকার বাসা থেকে ৩৪ বছর বয়সী ফুলবাঁশী ও ১২ বছর বয়সী মেয়ে সুমির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় অসুস্থ অবস্থায় মুকুন্দকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে কখনও দিনমজুরের কাজ, কখনও ভ্যানগাড়িতে সবজি বিক্রি, আবার কখনও ঠেলাগাড়ি চালাত।

রোববার স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যায় অভিযুক্ত করে মুকুন্দর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বাদী হয়েছেন নিহত ফুলবাঁশীর বোন বিশাখাবাঁশী রানী দাস। পুলিশ রোববারই হাসপাতাল থেকে মুকুন্দকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। রোববার তার বড় মেয়ে ঝুমা রানী দাস আদালতে বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছে।

কামরাঙ্গীরচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তফা আনোয়ার সমকালকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মুকুন্দ তার আর্থিক অনটনের কথা জানিয়ে বলেছে, এনজিও থেকে ঋণ করেছে। কিন্তু তা পরিশোধ করতে পারছিল না। কিস্তি পরিশোধ করতে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেও ধার-দেনা করেছে। তা পরিশোধেরও চাপ ছিল। লকডাউনে নিজেও কাজকর্ম হারিয়েছে। এতে হতাশ হয়ে পড়ে সে।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, মুকুন্দকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাইলে সে ব্যবস্থাও করা হবে। তা না হলে তদন্তের প্রয়োজনে তাকে হয়তো আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হতে পারে।

পুলিশের অপর এক কর্মকর্তা জানান, স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর মুকুন্দ তাদের দু'জনের মুখেই কীটনাশক ঢেলে দিয়েছিল। ঘটনার সময়ে পলিথিন দিয়ে মেয়ে সুমির মুখ চেপে ধরলে সে ছটফট শুরু করে। তখন বড় মেয়ে ঝুমা রানী দাস ঘুম থেকে জেগে উঠে লাইট জ্বালিয়ে পরিস্থিতি দেখে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। এতে বড় মেয়েটা রক্ষা পায়। তবে মুকুন্দ সঙ্গে সঙ্গে ছারপোকা নিধনের বিষ খেয়ে ফেলে।

নিহতদের এক স্বজন জানান, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে রোববার রাতে ফুলবাঁশী ও সুমির লাশ হস্তান্তর করা হয়। রোববারই তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।