বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ স্মরণে নির্মিত 'আট স্তম্ভ' ভেঙে ফেলেছে সিটি করপোরেশন। মঙ্গলবার রাতে বুয়েট সংলগ্ন পলাশী চত্বরে এই স্মৃতিফলক নির্মাণ করেছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। তবে বানানোর এক দিন না পেরোতেই বুধবার রাতে সেটি ভেঙে ফেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

গত বছরের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে। আবরার স্মরণে মঙ্গলবার মধ্যরাতে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা স্মৃতিফলকটি নির্মাণ করেন। তবে বুধবার রাতেই বুলডোজার দিয়ে সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফেসবুকে এ ঘটনার একটি ভিডিও পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে লালবাগ থানার ওসি কেএম আশরাফ বলেন, 'এটি ভাঙা-গড়ার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। তবে জায়গাটি সিটি করপোরেশনের। যেহেতু এটি একটি ট্রাফিক আইল্যান্ডে, তাই সেখানে ইট-পাথরের স্তূপ বা অন্য কিছু রাখা হলে সেটি তারা বুঝবে।' শাহবাগ ও নিউমার্কেট থানায় যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।

তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাসের বলেন, এটা সিটি করপোরেশনই ভেঙে ফেলেছে। এর কারণ হচ্ছে, এ ধরনের স্তম্ভ তৈরি করতে হলে সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিতে হয়। তারা অনুমতি না নিয়েই রাতারাতি এটি তৈরি করেছে। কেউ এ ধরনের অনুমতি চাইলে তা একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করতে হয়। তারা সেটি করেনি। আরেকটি কারণ হচ্ছে, এটা রাস্তার মাঝখানে অপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। তারা যেটা করেছে, তাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তাই সিটি করপোরেশন এটা ভেঙে ফেলেছে।

স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন, প্রতীকী শহীদ মিনারের আট স্তম্ভের মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, গণপ্রতিরক্ষা, সম্প্রীতি, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, নদী-বন-বন্দর রক্ষা, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও আগ্রাসন নির্মূলের দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে আবরার স্মরণে এই স্তম্ভের সামনে প্রতিবাদী সমাবেশ করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। সমাবেশে অংশ নেন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান, ডাকসুর সদ্য সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনসহ পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

মন্তব্য করুন