চাকরি দেওয়ার নামে ভারতে নারী পাচার, গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

গ্রেপ্তারকৃতরা

গ্রেপ্তারকৃতরা

মালয়েশিয়ায় বেশি বেতনে চাকরি দেওয়ার নাম করে কিশোরী ও তরুণীদের টার্গেট করে ওরা। এরপর নানা প্রলোভনে তাদের পাসপোর্ট তৈরি করে বেনাপোল সীমান্ত পার করে বিক্রি করা হয় ভারতের বিভিন্ন যৌনপল্লীতে। একটি চক্র গত কয়েক বছরে অন্তত ২০ নারীকে এভাবে পাচার করেছে। চক্রের পাঁচ সদস্য রোববার যশোর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের বরাতে সোমবার এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মো. শাহীন, রফিকুল ইসলাম, বিপ্লব ঘোষ, আক্তারুল ও মো. বাবলু।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর সবুজবাগের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পাচারের সময়ে গত বছরের নভেম্বরে বেনাপোল সীমান্ত থেকে উদ্ধারের পর চক্রটি সিআইডির নজরে আসে। এরপর বিভিন্ন সময়ে পাচার চক্রের অন্যতম হোতা মহসিনুজ্জামান ওরফে প্রতীক খন্দকার, তার কথিত স্ত্রী জান্নাতুল জেরিন ও তাদের সহযোগী লিপি আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের পর আরও পাঁচজনকে রোববার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সিআইডি। সেখানে সংস্থাটির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার বলেন, গ্রেপ্তার শাহীন টার্গেট করা নারীদের নিজের গাড়িতে করে বেনাপোল সীমান্তে নিয়ে যেত। সেখানে রফিকুলের বাড়িতে তাদের রাখা হতো। বিপ্লব ঘোষ আটকে রাখা নারীদের সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে। অপর দু'জন পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া নারীদের নৌকা দিয়ে সীমান্ত পারাপারের কাজ করে আসছিল।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের দুই চক্রের যোগসাজশে পাচারের কাজটি চলত। এ পর্যন্ত চক্রটি অন্তত ২০ নারীকে ভারতে পাচার করেছে। পাচার করা নারীদের ভারতের গুজরাটের রাজকোট এলাকায় যৌনপল্লিতে বিক্রি করা হয়।