জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রাজধানীতে

ডুবতে পারে অর্ধশতাধিক এলাকা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২০     আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

অমিতোষ পাল

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চলতি বর্ষা মৌসুমে রাজধানীর অর্ধশতাধিক এলাকা নিয়ে প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে আছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। বিভিন্ন করণে ওই সব এলাকায় পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা নেই। থাকলেও বন্ধ হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় ভারি বৃষ্টিপাত হলে ওই সব এলাকায় জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করবে। জলাবদ্ধতার কারণে প্রচণ্ড ভোগান্তিতে পড়তে হবে নগরবাসীকে।

স্থানগুলো উল্লেখ করে বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে দুই সিটি করপোরেশন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় এ রকম এলাকা রয়েছে অন্তত ২৯টি। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় আছে আরও অন্তত ৩০টি। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, করোনা মহামারির কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা এবার অনেকে কমেছে। এ জন্য বৃষ্টিপাতের মাত্রাও বাড়বে। এরই মধ্যে ভারি বৃষ্টিপাতও হয়েছে কয়েক দিন। যে কোনো সময় টানা ভারি বৃষ্টিপাত হলে রাজধানীর জলাবদ্ধতা বিগত বছরগুলোর চিত্রকে ছাড়িয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির পানি নিস্কাশনের যেসব মাধ্যম রয়েছে, সেগুলোর একেকটি একেক সংস্থার। এখন অন্য সংস্থাগুলো তাদের মালিকানাধীন খাল বা নালা সচল রাখতে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যে কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। আবার রাজধানীর একটি বড় অংশে মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কারণে সেখানকার ড্রেন-কালভার্ট ভরে গেছে। ওই সব এলাকায় পানি নিস্কাশনে ব্যাঘাত ঘটছে।

তিনি বলেন, আশকোনার হজক্যাম্প থেকে রেললাইন বরাবর একটি খাল রয়েছে। সেটি সিভিল এভিয়েশনের; কিন্তু খালটি বন্ধ। কে খুঁড়বে, তার দায়িত্বও কেউ নিচ্ছে না। আমরা তাদের বারবার বলেছি। খালটি সচল করেনি।

এখন আমরাই তিন কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছি। কারণ, মানুষ সিভিল এভিয়েশনকে চেনে না। চেনে মেয়রকে।

আতিকুল ইসলাম আরও বলেন, বিভিন্ন স্থানে ঢাকা ওয়াসার ড্রেন আছে। সেগুলো পরিস্কারের জন্য আমি চিঠি দিলে জানিয়েছে, তারা ড্রেন পরিস্কার করতে পারবে না। এখন অন্য সংস্থার খাল এবং ড্রেনও আমাদের পরিস্কার করতে হচ্ছে। অথচ তারা আমাদের কোনো টাকাও দিচ্ছে না।

অনেক চেষ্টা করেও এ ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে নগর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, 'ঢাকাকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে হলে বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিকল্পনা দিয়ে জলাবদ্ধতার সাময়িক সমাধান হলেও টেকসই সমাধান হবে না। কোন এলাকার পানি কোন পথ দিয়ে কীভাবে বের করতে হবে, সে বিষয়ে আগে সব সংস্থার যৌথ পরিকল্পনা করতে হবে। এরপর কাজ শুরু করতে হবে। তা না হলে একেক এলাকা নিয়ে একেক বছর সমস্যায় পড়তে হবে।'

ডিএনসিসির জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা : ডিএনসিসির জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার মধ্যে রয়েছে আশকোনা, বিমানবন্দর সড়কের আর্মি স্টেডিয়াম থেকে বনানী ২৭ নম্বর সড়ক পর্যন্ত, মিরপুর সাংবাদিক কলোনি এলাকা, নয়াটোলা শহীদ আবদুল ওয়াহাব রোড, উত্তর বেগুনবাড়ী, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, পূর্ব মনিপুর, দক্ষিণ মনিপুর, আমতলা, পীরেরবাগ, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৩, বাংলামোটর বিয়াম ভবনের গলি, মধুবাগ প্রধান সড়ক, শাশাববাড়ি, কারওয়ান বাজার টিসিবি ভবনসংলগ্ন এফডিসি থেকে সার্ক ফোয়ারা, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণি, নিকুঞ্জ-১, নিকুঞ্জ-২, পশ্চিম নাখালপাড়া, পাগলারপুল, পূর্ব রাজাবাজার, পশ্চিম রাজাবাজার, বসুন্ধরা সিটির পেছনে, তেজতুরী বাজারের গার্ডেন রোড, গ্রিন রোড এবং উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর।

ডিএসসিসির জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা : ডিএসসিসির তালিকা অনুযায়ী ৩০টি স্থানের মধ্যে রয়েছে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোড ও পশ্চিম ধানমন্ডি ঈদগাহ রোড, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিউমার্কেট সাইকেল স্ট্যান্ড, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনের সামনের ইস্কাটন রোড, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকা, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিমুদ্দিন রোড ও ঢাকা কারাগার সদর দপ্তরের সামনের অংশ, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের গণকটুলী সিটি কলোনির সামনের এলাকা, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবাবগঞ্জ পার্ক, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিগাতলা কাঁচাবাজার মসজিদের পাশের এলাকা, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বংশাল ও ২৮ কেপি ঘোষ স্ট্রিট কসাইটুলী, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের আগাসাদেক রোড, আগামসিহ লেন, আবদুল হাদী লেন, বাংলাদেশ মাঠের সামনের রাস্তা, মাজেদ সরদার রোড ও সিক্কাটুলী; ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী আলাউদ্দিন রোড, নাজিরাবাজার, সিদ্দিকবাজার, আলুবাজার; ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওলাদ হোসেন লেন ও নবরায় লেন; ৭, ৩৯ ও ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিয়াজান গলি, মাদ্রাসা গলি, ঋষিপাড়া, কেএম দাস লেনসংলগ্ন রাস্তা, আর কে মিশন রোড ও অভয় দাস লেন, গোপীবাগ বাজার রোড এবং ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধলপুর স্টাফ কোয়ার্টার ও ১৪ নম্বর আউটফল ধলপুর ওয়াসা রোড।