কর্মশালায় বক্তারা

ত্বক ফর্সাকারী কিছু ক্রিমে অতিমাত্রায় মিথাইল পারদ

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

'দেশীয় বাজারে সহজেই যেসব ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম পাওয়া যায়, এর বেশিরভাগই অতিমাত্রায় মিথাইল পারদযুক্ত। এগুলোর ব্যবহার জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশকে উচ্চমাত্রায় ঝুঁকিতে ফেলছে। তাই এসব পণ্য শনাক্ত করে সরকারকে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।'

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে 'স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর পারদযুক্ত পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব' শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় বক্তারা এমন তথ্য দেন। পরিবেশ অধিদফতর ও এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) এই কর্মশালার আয়োজন করে।

এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক সচিব ও এসডোর চেয়ারম্যান মার্গুব মোর্শেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এসডোর কারিগরি কমিটির প্রধান ও সাবেক অতিরিক্ত আইজি মোকলেসুর রহমান, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক রওশান মমতাজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবুল হাশেম, এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা, বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক (রসায়ন) জোহরা সিদ্দিক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, মিথাইল পারদ একটি নিউরোটপিক্যান্ট। এটি সহজেই রক্ত ও মস্তিষ্কের নালি অতিক্রম করে মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষত অনাগত শিশুর ওপর পারদের হুমকি বেশি। এটি হতাশা, আত্মঘাতী প্রবণতা, পক্ষাঘাত, কিডনি সমস্যা, অ্যালঝেইমার রোগ, কথা বলার সমস্যা ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতাসহ অ্যালার্জি জাতীয় রোগ সৃষ্টি করে। তাই এ জাতীয় পণ্য ব্যবহারে আমাদের সাবধানী হতে হবে। এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি জনসাধারণকেও সচেতন হতে হবে।

মার্গুব মোর্শেদ বলেন, পারদ একটা বিষাক্ত জিনিস। এর ব্যবহার হ্রাস করতে হবে। এমনকি অনেক পর্যায়ে নিষিদ্ধও করতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু আইনের প্রয়োগ করলেই এ সমস্যার সমাধান হবে না। এর জন্য জনগণকে সচেতন করতে হবে।

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রবণতা হলো– একটি মেয়েকে ফর্সা হতে হবে। তাহলে তার ভালো বিয়ে হবে। এ মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। বিশ্বে আজ সুন্দরীর সংজ্ঞা পাল্টে গেছে। এখন সুন্দরী হতে হলে শুধু চামড়ার সৌন্দর্য নয়, শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ বিভিন্ন গুণের অধিকারী হতে হয়। অনেক কালো মেয়েও বিশ্বসুন্দরী হয়েছেন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য আমাদের অমূল্য সম্পদ। তাই রাষ্ট্রকে এ বিষয়ে দায়িত্ব নিতে হবে।