অফিসগুলোতে কাটেনি ঈদের আমেজ

রাজধানীর সড়কগুলো একেবারেই ফাঁকা

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ঈদের ছুটির পর বুধবার প্রথম কর্মদিবসে অফিসে গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে কোলাকুলিসহ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিভিন্ন অফিস ও দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল লোকাল অফিস থেকে তোলা ছবি— ফোকাস বাংলা

ঈদুল আজহার তিন দিনের ছুটি শেষ হলেও কাটেনি ঈদের আমেজ। বুধবার ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়সহ অধিকাংশ দপ্তর ও অধিদপ্তর ছিল ফাঁকা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি কম থাকায় পুরোমাত্রায় কাজ শুরু হয়নি। চিরচেনা রাজধানীর অধিকাংশ রাজপথ ছিল একেবারেই ফাঁকা। সঙ্গে যোগ হয়েছিল সারাদিনের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। তাই দরকার ছাড়া কেউ বাইরে বের হননি। এতে নিত্যদিনের ভয়াবহ যানজট আর হাজার হাজার মানুষের কলরবে মুখর ঢাকা রূপ নেয় শান্ত ও নীরব জনপদে।

সরেজমিন দেখা যায়, ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে মন্ত্রী-সচিব থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেই অনেকটা সময় কাটান। অনেকেই মেতে ওঠেন খোশগল্পে। তবে তাদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। কয়েকজন মন্ত্রী বুধবার অফিস করেছেন সচিবালয়ে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী গণমাধ্যমে কথাও বলেছেন। সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ঈদের তিনদিনের ছুটির পর বুধবার অফিস খুললেও বৃহস্পতিবার আবার জাতীয় শোক দিবসের ছুটি, আর তারপর আছে দু'দিনের সাপ্তাহিক ছুটি। তাই অনেকে বুধবারও ছুটি নিয়েছেন। মূলত এ কারণেই ঈদের ছুটির পর প্রথম দিন উপস্থিতি কম। আগামী সপ্তাহে সব অফিসে স্বাভাবিক চিত্র ফিরে আসবে।

এদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখা গেছে, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, তথ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তা কর্মচারীর উপস্থিতি ছিল খুবই কম। যারাও এসেছেন তারা ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে সময় পার করে দুপুরের মধ্যেই সচিবালয় ত্যাগ করেন। সচিবালয়ে মূল ফটক ও অন্য গেটগুলোতে ছিল সুনসান নীরবতা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও তেমন ব্যস্ততা ছিল না। একই অবস্থা ছিল পুরান ঢাকার আদালতপাড়া ও সংসদ সচিবালয়েও।

ঈদের ছুটি শেষে ব্যাংক-বীমাসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুললেও কর্মীদের উপস্থিতি ছিল কম। বিশেষ করে ব্যাংকপাড়ায় এখনও ছুটির আমেজ বিরাজ করছে। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও ঢিলেঢালা লেনদেন শুরু হয় মতিঝিল ব্যাংকপাড়ায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে যান বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা। ব্যাংকগুলোতে সকাল ১০টা থেকে লেনদেন শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। তবে লেনদেনের চাপ ছিল না বললেই চলে।

এদিকে ঈদের আমেজে রাজধানীর সড়কগুলো এখনও অনেকটা ফাঁকা। নেই চিরচেনা যানজট। গণপরিবহনের সংখ্যাও ছিল একেবারে কম। গণপরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের অধিকাংশই এখনও ফেরেননি। আগামী শনিবার থেকে তারা ঢাকায় আসতে শুরু করবেন। রোববারই ঢাকা শহর আগের চিরচেনা রূপে ফিরবে। তবে সব স্থান ফাঁকা থাকলেও রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

বিষয় : ঈদের ছুটি ঈদের আমেজ রাজধানী ফাঁকা