অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী হত্যা

দুই গৃহকর্মীর খোঁজে পুলিশ

মামলা, ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ইডেন মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীনকে হত্যার পর ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন লুট করেছে খুনিরা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গৃহকর্মী রুমা ওরফে রেশমা (৩০) ও স্বপ্না (৩৫) শ্বাসরোধে মাহফুজাকে খুন করে স্বর্ণালঙ্কার, টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়েছেন। এ ঘটনায় গৃহকর্মী সরবরাহকারী হাজারীবাগের রুনুকেও সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর থেকে সম্ভাব্য একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের পাওয়া যায়নি।

হাজারীবাগের রুনুর মাধ্যমে রেশমা দুই মাস আগে এবং স্বপ্না এক মাস আগে এ বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে যোগদান করেছিলেন। রুনু বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মী সরবরাহ করেন। মাহফুজার বাসায় রেশমা, স্বপ্নাসহ তিনজন গৃহকর্মী। অপর গৃহকর্মী রাশিদা (৫৫) ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের নিচ তলায় ছিলেন। লাশ উদ্ধারের সময় পুলিশ তাকে নিউমার্কেট থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। খুনের সঙ্গে তার জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় গতকাল সোমবার তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

গত রোববার রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় নিজের ডুপ্লেক্স বাসায় খুন হন মাহফুজা চৌধুরী। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে খুন করা হয়। এ ঘটনায় গৃহকর্মী রেশমা ও স্বপ্না এবং তাদের সরবরাহকারী রুনুকে অভিযুক্ত করে নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার নিহতের স্বামী ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমত কাদির গামা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামিও রয়েছে।

নিউমার্কেট থানার ওসি আতিকুর রহমান সমকালকে জানান, রোববার রাত থেকেই সন্দেহভাজন রেশমা, স্বপ্না ও রুনুকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সময় অপর গৃহকর্মী রাশিদা ১৫ তলার ফ্ল্যাটে ছিলেন। ঘটনার পর তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে সোমবার গৃহকর্তা ইসমত কাদিরের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে মাহফুজার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্তের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, মাহফুজাকে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। শরীরে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর ১২টার দিকে লাশ নেওয়া হয় নিহতের সাবেক কর্মস্থল ইডেন মহিলা কলেজে। এ সময় কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর নেওয়া হয় এলিফ্যান্ট রোডের বাসায়। বাদ আসর বনানী কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। ২০০৯-২০১২ সালে মাহফুজা (৬৬) ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, নিউমার্কেট থানাধীন এলিফ্যান্ট রোডের সুকন্যা টাওয়ারের ১৫ ও ১৬ তলার ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন ইসমত কাদির গামা। তাদের দুই ছেলের মধ্যে একজন থাকেন যশোর ক্যান্টনমেন্টে, অন্যজন ঢাকার ইন্দিরা রোডে। রোববার সকাল ১০টায় ইসমত কাদির যখন ব্যক্তিগত কাজে বাইরে যান, তখন বাসায় ছিলেন তিন গৃহকর্মী। গৃহকর্মীরা থাকেন ১৫ তলার ফ্ল্যাটে আর তাদের বেডরুম ১৬ তলার ফ্ল্যাটে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মাহফুজার ব্যক্তিগত গাড়ি চালক সুজন শেখ বাসায় গিয়ে মাহফুজার কাছ থেকে মাসিক বেতন নিয়ে আসেন। তখনও তিনি ১৫ তলার ফ্ল্যাটে তিন গৃহকর্মীকে দেখতে পান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইসমত কাদির বাসায় ফিরে ১৬ তলার ফ্ল্যাটের গেট বন্ধ পেয়ে কলিং বেল চাপেন। কোনো সাড়া পাননি। ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের নিচতলা থেকে গৃহকর্মী রাশিদা ওপরে ওঠেন। দরজার লকে চাবি ছিল না। সিটকিনি লাগানো ছিল দরজায়। পরে তিনি খুলে দেন। ইসমত কাদির গৃহকর্মী রেশমা ও স্বপ্নাকে ডাকাডাকি করে না পেয়ে নিচতলায় যান, সেখানেও তাদের পাওয়া যায়নি। এরপরই তিনি নিজের ঘরে গিয়ে দেখেন স্ত্রী মাহফুজা মৃত অবস্থায় খাটে পড়ে রয়েছেন। তার মোবাইল ফোন, স্টিলের আলমারিতে থাকা স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ টাকা পাওয়া যায়নি।

ইসমত কাদির গামা বলেন, মাহফুজাকে খুন করে স্বর্ণ, টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে রেশমা, স্বপ্নাসহ তাদের সহযোগীরা। ফোনটি ব্যবহার করতেন মাহফুজা। কিছুদিন আগে ওই ফোনে রেশমা ও স্বপ্নার ছবি তুলে রাখা হয়েছিল। তাদের ছবি যাতে না পাওয়া যায়, এ কারণে হয়তো ফোনটিও নিয়ে গেছে তারা।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, রেশমার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার মজুরদিয়া এলাকায় এবং স্বপ্নার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা থানার রায়টুটি গ্রামে। তবে গ্রামের বাড়ি সঠিক কি-না তা যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

বিষয় : ইডেন মহিলা কলেজ মাহফুজা চৌধুরী রাজধানী