সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ ২০২২-এর সমাপনী পর্ব। অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথি ছিলেন ড. আইনুন নিশাত এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন, দেবব্রত রায় চৌধুরী, নকিব খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পাভেল হক। হাউজ অব ভলান্টিয়ার্স বাংলাদেশ, ওয়াটারএইড বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ ইভেন্টে টেকনিক্যাল পার্টনার হিসেবে ছিল এসটেক্স। 

ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিশ্বে অনেক জায়গায়ই বিভিন্ন ধরনের পরিবেশজনিত সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। আগামী ২০ বছরের মাঝে চাঁদপুর, ফেনীর মতো এলাকাগুলো তলিয়ে যেতে পারে। এই গুরুতর সমস্যাগুলো এখনই চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানে কাজ না করা হলে এই ঝুঁকির মাত্রা দিন দিন বাড়তেই থাকবে। বিজয়ী এবং অংশগ্রহণকারী সবার প্রতি আমার বক্তব্য হলো, জীবনে পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার জন্যই শুধু নিজের সময় অপচয় করো না। বরং কিছু শেখো, জীবনকে উপভোগ করো এবং ভবিষ্যতের পৃথিবীকে ভালো রাখার মতো কাজে নিজেকে নিয়োজিত করো। দেবব্রত রায় চৌধুরী বলেন, 'নেসলে বরাবরই টেকসই উন্নয়ন ও এ সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে। আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে আমার অভিনন্দন। '

ওয়াটারএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, 'নিঃসন্দেহে এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকে একেকজন বিজয়ী। শুধু বিজয় অর্জন না, এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ফলে আমাদের জীবনে কী কী ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে তা উপলব্ধি করাও সমানভাবে জরুরি।' অধ্যাপক ড. তানভীর আহমেদ পুরো কর্মকাণ্ডের কলেবর ও ব্যাপ্তি নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন। এতে তিনি তুলে ধরেন কীভাবে প্রায় আট মাসব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে একজন বিজয়ীকে প্রতি বছর নির্বাচিত করা হয়। অধ্যাপক ড. মহিদুস সামাদ খানও পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত সবাইকে ধন্যবাদের পাশাপাশি স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজের উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জানান।' 

স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা; যার লক্ষ্য খুদে 'পানিবিজ্ঞানী'দের খুঁজে বের করা; যাঁরা বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে সুইডেন ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার ইনস্টিটিউট কর্তৃক স্টকহোমে আয়োজিত স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজে বিশ্বের বাকি দেশগুলো থেকে আগত প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। এ আয়োজনটি প্রতি বছর স্টকহোমে আগস্ট মাসে, বিশ্ব পানি সপ্তাহে আয়োজিত হয়। ৩০টিরও বেশি দেশ থেকে আগত ১৫-২০ বছর বয়সী নবীনরা এতে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

এ বছর কভিড-১৯-এর দরুন সীমিত পরিসরে এর আয়োজন করা হয়। এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ৭৫ টিম রেজিস্ট্রেশন করে। তাদের মাঝ থেকে ১০টি টিমকে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য মনোনীত করা হয়। ১৩ মে অনুষ্ঠানটির চূড়ান্ত পর্ব আয়োজিত হয়। টিমগুলো জুরি বোর্ডের কাছে নিজেদের প্রজেক্ট উপস্থাপন করে এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেয়। অতঃপর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী সেগুফতা মেহজাবীন চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজের অষ্টম পর্বের বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয় এবং ওমর করিম, পুষ্পিতা ঘোষ এবারের আয়োজনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়। 

স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ ২০২৩-এর কার্যক্রম আগামী ডিসেম্বর নাগাদ শুরু হবে। এর বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যাবে www.sjwpbd.org ওয়েবসাইটে।

বিষয় : দূষণমুক্ত বিশ্ব

মন্তব্য করুন