সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে চলতি বছর দেশের ২২টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ২৫ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

বিজ্ঞান বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জুলাই, মানবিক বিভাগের ১৩ আগস্ট এবং বাণিজ্য বিভাগের ২০ আগস্ট। এ বছর ওয়েবসাইটে প্রদত্ত পরীক্ষা কেন্দ্রের তালিকা থেকে শিক্ষার্থী একটি মাত্র কেন্দ্র পছন্দ করতে পারবেন। ভর্তি পরীক্ষার ফি ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। শিক্ষার্থীরা তাঁদের পঠিত বিভাগে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে এবারও যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। ভর্তি পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। www.gstadmission.ac.bd

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো-
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় -ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় - কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় - বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
- রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় - শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় -শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় - হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় - মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় - নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
-যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় - পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় -বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় -রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
-বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
-পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় -চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে GST গুচ্ছভুক্ত ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মাত্র সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তির সুযোগ পাবেন। ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে GST গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় প্রার্থী তাঁর পছন্দ মোতাবেক আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্যতা অনুসারে প্রার্থী আবেদন করবেন। প্রত্যেক শিক্ষার্থী তাঁর এইচএসসি/সমমান পরীক্ষার শাখা (বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্য) মোতাবেক একটি মাত্র ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।
ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য আবেদনের যোগ্যতা ও সময়সূচি :
২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের এসএসসি/সমমান এবং ২০২০ ও ২০২১ সালের এইচএসসি/সমমান, ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (ভোকেশনাল), A লেভেল এবং অন্যান্য সমমান পরীক্ষায় [সমমান নির্ধারণ কমিটি কর্তৃক অনুমোদনক্রমে] উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই শুধু ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবে। বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখা থেকে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত যোগ্যতা সাপেক্ষে যথাক্রমে ইউনিট-A, ইউনিট-B ও ইউনিট-C-তে আবেদন করতে পারবে।
ইউনিট ভিত্তিক আবেদনের যোগ্যতা :
ইউনিট-অ : বিজ্ঞান শাখা থেকে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আবেদনকারীদের এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান উভয় পরীক্ষায় (চতুর্থ বিষয়সহ) নূ্যনতম জিপিএ ৩.৫০সহ সর্বমোট জিপিএ কমপক্ষে ৮.০০ থাকতে হবে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান শাখাসহ মাদ্রাসা বোর্ড (বিজ্ঞান) এবং ভোকেশনাল (এইচএসসি) বিজ্ঞান শাখা হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইউনিট-ই : মানবিক শাখা থেকে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আবেদনকারীদের এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান উভয় পরীক্ষায় (চতুর্থ বিষয়সহ) নূ্যনতম জিপিএ ৩.০০সহ সর্বমোট জিপিএ কমপক্ষে ৬.০০ থাকতে হবে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মানবিক শাখাসহ মিউজিক, গার্হস্থ্য অর্থনীতি এবং মাদ্রাসা বোর্ড (সাধারণ, মুজাব্বিদ) মানবিক শাখা হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইউনিট-ঈ : বাণিজ্য শাখা থেকে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আবেদনকারীদের এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান উভয় পরীক্ষায় (চতুর্থ বিষয়সহ) নূ্যনতম জিপিএ ৩.০০সহ সর্বমোট জিপিএ কমপক্ষে ৬.৫০ থাকতে হবে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বাণিজ্য শাখাসহ ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজ, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (এইচএসসি) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স বাণিজ্য শাখা হিসেবে বিবেচিত হবে।
সব ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর জন্য এখন প্রধান লক্ষ্য কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয়ে চান্সের জন্য ভর্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া। শিক্ষার্থী বন্ধুরা, ভর্তিযুদ্ধে সফলতার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হলো :
- ভর্তিযুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে প্রথমেই দরকার একটি সুন্দর পরিকল্পনা। যথার্থ পরিকল্পনার অভাবে অনেকের ভালো প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও শেষমেশ হতাশ হতে হয়।
- ইতোপূর্বে যাদের বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষা খুব আশানুরূপ হয়নি তাদের হতাশ হলে চলবে না। হাল ছেড়ে দিলে হবে না
- নিজের সামর্থ্যের যাচাই করে লক্ষ্য ঠিক করা উচিত। লক্ষ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজিয়ে অগ্রসর হলে সাফল্য অর্জনের পথ সহজ হয়।
- যতটুকু পড়বেন, তার চেয়ে বেশি প্র্যাকটিস করবেন। নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিযুদ্ধে শক্তিশালী করার জন্য প্রচুর প্রশ্ন সলভ করতে হবে।
- প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় স্বতন্ত্র কিছু নিয়ম মেনে চলে। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে প্রস্তুতি খানিকটা আলাদা হওয়া বাঞ্ছনীয়।
-ভালো ফল হয়নি বলে কখনই হতাশায় ভোগা চলবে না। সামনে যে পরীক্ষা আছে তার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।
- ভর্তির ক্ষেত্রে নিজের আগ্রহকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। অনেককেই দেখা যায়, নিজের ইচ্ছার চেয়ে মা-বাবা, আত্মীয়স্বজনের ইচ্ছাকে বেশি প্রাধান্য দেন। এটা করা যাবে না।
-বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিযুদ্ধে জয়লাভ করতে হলে অনেক রণকৌশল শিখতে হবে। সময় ব্যবস্থাপনা তার মধ্যে অন্যতম। কীভাবে কম সময়ের মধ্যে উত্তর করা যায় তার জন্য প্রয়োজন অনুশীলন। এর জন্য শর্টকাট টেকনিকসহ আরও বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করতে হবে।
- বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দোটানায় ভোগেন। অনেককে দেখা যায় একই সঙ্গে একাধিক বিষয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
- প্রস্তুতি শুরু করার আগে বই নির্বাচন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, আপনি যদি কয়েক দিন পরপর একেক বই থেকে পড়েন, তাহলে সেটা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তাই আগে থেকেই বই নির্বাচন করে পড়া শুরু করুন। এতে আপনি টার্গেট নিয়ে পড়তে পারবেন। আর পরীক্ষার আগে দ্রুত আপনার পড়াশোনাকে গোছাতে পারবেন। একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো- যে বই পড়া শুরু করবেন, সেটা শেষ পর্যন্ত পড়তে চেষ্টা করবেন।
- ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোনো অধ্যায় বাদ দিয়ে পড়ার সুযোগ নেই। সব অধ্যায়ই পড়তে হবে। তবে বিগত বছরের প্রশ্ন দেখে অধ্যায়ের গুরুত্ব জানা যাবে।
- অনুশীলন অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নতুন পড়া পড়তে পড়তে পেছনের পড়া ভুলে গেলে হবে না। পুরোনো পড়াও রিভিশন দিতে হবে।