পরিবেশ দূষণের কারণে বর্তমানে নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। পৃথিবীতে প্রতিদিন যে হারে দূষিত হচ্ছে, তাতে অদূরভবিষ্যতে এখানে প্রাণের অস্তিত্বই সংকটের মুখে পড়বে। বিশ্বকে বসবাসযোগ্য করার লক্ষ্যে দূষণমুক্ত বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ভয়েস। সংগঠনটি পরিবেশ রক্ষা ও জনসচেতনতা বাড়াতে দেশের তরুণ সমাজকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

'রক্ষা করি পরিবেশ/আনন্দ সমাবেশ'- এই স্লোগানকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গ্রিন ভয়েস বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নানা কর্মসূচি হাতে নেয়। যার অংশ হিসেবে গ্রিন ভয়েস প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন করে পরিবেশ অলিম্পিয়াড। গ্রিন ভয়েস বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্য থেকে হারিয়ে যেতে থাকা সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য আয়োজন করে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। সংগঠনটি তাদের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আবাসিক হলগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ বৃক্ষরোপণ করে। মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যেই গ্রিন ভয়েস মাসব্যাপী পরিবেশ সম্পর্কিত কর্মসূচি গ্রহণ করে। পরিবেশ দিবসকে কেন্দ্র করে এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রথমবারের মতো পরিবেশ অলিম্পিয়াড, প্লাস্টিকের বোতল দিন গাছ নিন কার্যক্রম, পরিবেশ রক্ষায় শপথ গ্রহণ, মাসব্যাপী গাছ থেকে পেরেক উত্তোলন কার্যক্রম।

'যুবরাই লড়বে/সবুজ পৃথিবী গড়বে'- এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রিন ভয়েস। শুরু থেকেই পরিবেশ দূষণ, ভূমিদস্যু, জলদস্যু, বৃক্ষনিধনকারী, মাঠ বিপর্যস্তকারী, নদী-নালা-খাল-বিল দখলকারী, খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে সংগঠনটি মানুষের কল্যাণে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। তারা তরুণদের পরিবেশ রক্ষায় উৎসাহী, পরিবেশ সচেতন তরুণ সমাজ গড়তে, টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব দেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গ্রিন ভয়েস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে 'পরিবেশ অলিম্পিয়াড' ও 'সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক' প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পরিবেশ সচেতনতায় অংশগ্রহণ করে গ্রিন ভয়েস জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। তাদের সঙ্গে নিয়ে বাকৃবি গ্রিন ভয়েস সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পরিবেশ অলিম্পিয়াডে ১ হাজার ১৬৭ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। এরপরই অনুষ্ঠিত হয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। ১১ ক্যাটাগরির এই প্রতিযোগিতায় মোট ৪৮ জন বিজয়ী হন। ক্যাটাগরিগুলোর মধ্যে ছিল নজরুল-রবীন্দ্রসংগীত, লোকসংগীত, নৃত্য, অভিনয়, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, প্রবন্ধ রচনা, কবিতা আবৃত্তি।