বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস)। ২০০৭ সাল থেকে পৃথক পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী জজ বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়ে আসছে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন (বিজেএসসি)। সম্প্রতি প্রকাশিত সুপারিশপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন কৃতী শিক্ষার্থীর সাফল্যের পথপরিক্রমা নিয়ে লিখেছেন নোমান হারুন।

মোরশেদ মাহমুদ খান
মোরশেদ মাহমুদ খানের বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী হয়েও আইন পড়তে এসেছেন এর প্রতি প্রবল ভালোবাসা থেকে। একাডেমিক পড়ায় মনোযোগী মোরশেদ আইন পড়েছেন নিজের সবটুকু উজাড় করে। সে সময়ের স্মৃতিচারণ করছিলেন এভাবে, 'তখন অন্যকিছু ভাববারও সময় পাইনি।'
স্নাতক শেষে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে নেমে পড়েন। প্রথমবার ভাইভায় বাদ পড়লেন। কিন্তু দমে যাননি। মোরশেদ তাঁর সফলতার মূলমন্ত্র হিসেবে ধরেন পরিশ্রমকে। এর সুফল মিলল দ্বিতীয়বারে এসে। তাঁর মতে, জ্ঞানের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। তাই কোনো বিষয় না জানলে খুঁজে বের করতে হবে; যে জানে তাঁর কাছে ছুটে যেতে হবে। উদ্যমী মোরশেদের স্বপ্নও অনেক দূর। আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের অধিকার বাস্তবায়ন করা।

সঞ্জয় পাল
সঞ্জয়ের সাফল্যের গল্পটা একটু অন্যরকম। তিনি বরাবরই ছিলেন স্কুলপালানো ছেলেদের দলে। নিয়মিত এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে বাড়িতে বকুনি খাওয়া ছিল তাঁর জীবনের নিয়মিত ঘটনা।

সঞ্জয়ের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট ছিল দশম শ্রেণিতে পড়ার বছরটাই। সেই বছর সবাইকে তাক লাগিয়ে ক্লাসে দ্বিতীয় হলেন; এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেলেন। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাননি। উচ্চ মাধ্যমিকের পর ভর্তি হলেন জাবির আইন বিভাগে। সঞ্জয় বিশ্বাস করেন, মানুষের জীবনে সফলতার ৯৫ ভাগই হলো তাঁর নিজের শ্রম ও মেধার সঠিক পরিচর্যা। নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে বিষয়গুলো আত্মস্থ করলে তা দীর্ঘমেয়াদি হয়।

পরাণ ঢালী
পরাণ আইনকে দেখেন একটা শিল্পের মতো। এ শিল্পের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়। তিনি বিশ্বাস করেন, পরিশ্রমীরা কখনও ব্যর্থ হন না। আইনের প্রতি প্রবল আগ্রহ আর ভালোবাসা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয় বেছে নেন। তাছাড়া এ পেশায় অর্জিত জ্ঞান বাস্তব প্রয়োগের সুযোগ বেশি। যেহেতু জুডিশিয়ারির প্রস্তুতির সঙ্গে একাডেমিক পড়াশোনার মিল রয়েছে, তাই একাডেমিক বিষয়গুলোর ওপর জোর দেন তিনি। পরাণের মতে, যারা জুডিশিয়াল সার্ভিসের স্বপ্ন দেখেন বা বিচারক হতে চান, তাঁদের অবশ্যই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে। সেই সঙ্গে লাইব্রেরি ওয়ার্কের ওপরও জোর দেন তিনি।