বইমেলা

বিক্রি ভালো বাংলা একাডেমির

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সমকাল প্রতিবেদক

এবারের মেলা জমেছে প্রথম থেকেই। বিক্রিও ভালো। বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা বিক্রির অঙ্ক নিয়ে মুখ না খুললেও বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, মেলার প্রথম ১০ দিনেই অর্ধকোটি টাকারও বেশি বই বিক্রি করেছে মেলার আয়োজক এ প্রতিষ্ঠান। বাংলা একাডেমির বইয়ের পাঠকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে বিভিন্ন অভিধান। এ ছাড়া চলছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'কারাগারের রোজনামচা' বইটি।

বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশ করেছে ছয় হাজারের মতো বই। এর মধ্যে এখন পাওয়া যায় হাজার দেড়েক বই। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন ও পুনর্মুদ্রিত হয়ে আসা শতাধিক বই। প্রতিদিনই বিক্রি বাড়ছে বাংলা একাডেমির।

সব মিলিয়ে বাংলা একাডেমির সাতটি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে গ্রন্থমেলার দুই প্রাঙ্গণে। এর মধ্যে দুই প্রাঙ্গণে দুটি প্যাভিলিয়ন, চার ইউনিটের দুটি, একাডেমির শিশু-কিশোর উপযোগী বইয়ের জন্য একটি স্টল। একাডেমির সাহিত্য মাসিক 'উত্তরাধিকার'-এর জন্যও রয়েছে আলাদা একটি স্টল। পাশাপাশি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ভবনের নিচতলায় বাংলা একাডেমির নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্রেও বই কিনতে পারছেন পাঠক।

সবক'টি বিক্রয়কেন্দ্র মিলিয়ে ১ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫৬ লাখ ৭৮৭ টাকার বই বিক্রি করেছে বাংলা একাডেমি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে মেলার দ্বিতীয় শুক্রবার ৮ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন নয় লাখ ১৭ হাজার ৪৪১ টাকার বই বিক্রি করে বাংলা একাডেমি।

গত বছরের অমর একুশে গ্রন্থমেলার পর থেকে চলতি গ্রন্থমেলা পর্যন্ত বাংলা একাডেমি থেকে ৩৯টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে মিসরীয় লেখক ও সাংবাদিক মোহসেন আল-আরিশির 'শেখ হাসিনা :যে রূপকথা শুধু রূপকথা নয়' (অনুবাদ :ইসফানদিয়র আরিওন), মলয় বালার 'বাংলার প্রাতিষ্ঠানিক প্রাচ্যচিত্রকলার ধারা', সিরাজুল ইসলামের 'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মা রণাঙ্গনে-ইঙ্গ-চীন ও মার্কিন সহযোগিতা', জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদের '৭ই মার্চের ভাষণ কেন বিশ্ব-ঐতিহ্য সম্পদ :বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ', সমকালের উপসম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত সম্পাদিত 'সাত দশকের হরতাল  ও বাংলাদেশের রাজনীতি', সুরাইয়া বেগম সম্পাদিত 'মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রাণদানকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী', ইউসুফ হাসান অর্কের 'বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্য পালাগান আঙ্গিক বিচার ও বর্ণনাকারীর অবস্থান অনুসন্ধান', শামসুজ্জামান খান সম্পাদিত 'নতুন সময়ের কবিতা', শাহিদা খাতুনের 'কবিয়াল বিজয় সরকারের সংগীত জীবনের বিচিত্র ভুবন', অমলেশ চন্দ্র মণ্ডল ও মো. কামরুল ইসলামের 'কঠিন পদার্থের বলবিদ্যা'। পাশাপাশি প্রকাশিত হয়েছে অসীম সাহা, মাহবুব সাদিক, সানাউল হক খান ও দিলওয়ারের 'নির্বাচিত কবিতা'। ১০২টি বই পুনর্মুদ্রিত করেছে বাংলা একাডেমি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে বাংলা একাডেমির প্যাভিলিয়নের দায়িত্বে থাকা মনি হায়দার সমকালকে বলেন, এ বছর সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ব্যবহারিক বাংলা অভিধান। এ ছাড়া ভালো বিক্রি হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর 'কারাগারের রোজনামচা' এবং মিসরীয় লেখক ও সাংবাদিক মোহসেন আল-আরিশির 'শেখ হাসিনা :যে রূপকথা শুধু রূপকথা নয়'। অজয় দাশগুপ্তের 'সাত দশকের হরতাল ও বাংলাদেশের রাজনীতি' বইটিও ভালো চলছে। অদ্বৈত মল্লবর্মণের 'তিতাস একটি নদীর নাম', হুমায়ুন কবিরের 'নদী ও নারী', মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্নের 'আনোয়ারা' ও কাজী ইমদাদুল হকের 'আব্দুল্লাহ' সংগ্রহ করছেন অনেক পাঠক।

বাংলা একাডেমির বিক্রির বিষয়ে একাডেমির বিক্রয়, বিপণন ও পুনর্মুদ্রণ বিভাগের পরিচালক এবং মেলার সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ সমকালকে বলেন, বাংলা একাডেমি মানসম্মত বই প্রকাশ করে। তার ওপর একাডেমির রয়েছে একটি দক্ষ সম্পাদনা পরিষদ। সুলেখকের সুসম্পাদিত বই, তাই সহজেই আকৃষ্ট করে পাঠককে। অন্য প্রকাশনীগুলোর তুলনায় একাডেমির বইয়ের মূল্য অনেক কম।

লেখক বলছি... মঞ্চ : গতকাল সোমবার মেলার 'লেখক বলছি...' মঞ্চে নিজেদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে পাঠকের মুখোমুখি হন হোসেন উদ্দীন হোসেন, হাবিব আনিসুর রহমান, ড. তাশরিক-ই-হাবিব, মশিউল আলম এবং শিহাব শাহরিয়ার। হোসেন উদ্দীন হোসেন তার 'সাহিত্যের চিত্র বিচিত্র' (সাম্প্রতিক প্রকাশনী), হাবিব আনিসুর রহমান 'কলবাগানের ইশতিয়াক' (পাঞ্জেরী), তাশরিক-ই-হাবিব 'বিশ মিনিট' (আগামী), মশিউল আলম 'ব্লগার ও অন্যান্য গল্প' (প্রথমা) এবং শিহাব শাহরিয়ার 'পড়ে থাকে অহংকার' (অন্যপ্রকাশ) নিয়ে আলোচনা করেন।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল মেলায় ১২৮টি নতুন বই এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে গল্প ২১, উপন্যাস ১৬, প্রবন্ধ ১০, কবিতা ৪৯, ছড়া ২, শিশুসাহিত্য ১, জীবনী ৪, রচনাবলি ১, মুক্তিযুদ্ধ ২, নাটক ১, বিজ্ঞান ৪, ভ্রমণ ৩, ইতিহাস ৫, রাজনীতি ১, স্বাস্থ্য ১, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ২ এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর পাঁচটি নতুন বই।

নতুন বইয়ের মধ্যে রয়েছে- শুভাশিস সিনহার 'রুধিররঙ্গিণী' (বাতিঘর), ড. আবু মাহমুদের 'মার্কসীয় বিশ্ববীক্ষা' (মাওলা ব্রাদার্স), জাহানারা ইমামের 'রচনাসমগ্র' ও সৈয়দ শামসুল হকের 'পীরচাঁনের পালা' (চারুলিপি প্রকাশন), আবুল আহসান চৌধুরীর 'লালনের ঈশ্বর ও অন্যান্য' (জার্নিম্যান), আনিসুজ্জামানের 'স্মরণ ও বরণ' (চন্দ্রাবতী একাডেমি), সায়ীদ আবুবকর সম্পাদিত 'আধুনিক বাংলা কবিতা' (ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ), লিয়াকত আলী লাকীর 'বাংলাদেশের শতবর্ষী নাট্যমঞ্চ' (শিল্পকলা একাডেমি), পবিত্র সরকারের 'গল্পে বাংলা উচ্চারণ' (আলোঘর), মনি হায়দারের 'ইলিশের মাংস' (মাওলা ব্রাদার্স), রুদ্র আরিফের 'মেনিকিনের লাল ইতিহাস' (ঐতিহ্য), কমলেশ রায়ের 'গঙ্কেলের গুপ্তরহস্য' (ভাষাচিত্র) ইত্যাদি।

মেলামঞ্চের আয়োজন : গতকাল গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় 'নৃত্যাচার্য বুলবুল চৌধুরী :জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুপম হায়াৎ। আলোচনায় অংশ নেন আমানুল হক, লুভা নাহিদ চৌধুরী ও শিবলী মহম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কামাল লোহানী।

সন্ধ্যায় কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন গোলাম কিবরিয়া পিনু ও চঞ্চল আশরাফ। আবৃত্তি করেন গোলাম সারোয়ার ও মু. আহসান উল্লাহ ইমাম খান তমাল। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী চন্দনা মজুমদার, শফি মণ্ডল, সেলিম চৌধুরী, পাগলা বাবুল, রুশিয়া খানম ও কোহিনুর আকতার গোলাপী।

আজকের অনুষ্ঠান : আজ মঙ্গলবার মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে 'কবি-অনুবাদক মনিরউদ্দীন ইউসুফ :জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন হাসান হাফিজ। আলোচনায় অংশ নেবেন শফিউল আলম, রেজাউদ্দিন স্টালিন ও মোহাম্মদ আবদুল হাই। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।