বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আইনের সংশোধন প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের সংবাদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। 

সোমবার (২৮ নভেম্বর) পার্টির সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। 

বিবৃতিতে তারা বলেন, জ্বালানি খাতে সরকারের গণবিরোধী কার্যকলাপ কিছুটা হলেও লাগাম টেনে ধরতে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ভূমিকা রাখত। দাম বাড়ানোর আগে গণশুনানির আয়োজনে ভোক্তারা তাদের মতামত জানাতে পারত। এটা রহিত করার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়ায় সরকারের পুরোপুরি স্বেচ্ছাচারিতার মুখে পড়বে। 

বিবৃতিতে বলা হয়, এই আইনের কারণে সরকার তড়িঘড়ি করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করতে পারত না- কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে দাম বাড়াতে হতো। কিন্তু এই সংশোধনী সেই ধীরগতির বাধা অপসারণ করে দিল। সরকার এতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। আগে জ্বালানি দানবদের ইনডেমনিটি দেয়ার পর সোমবার নতুন করে নেয়া সিদ্ধান্ত একটা খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আইনটি সংশোধনের চেষ্টা থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিইআরসি আইন, ২০২২-এর খসড়া অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। আইনের সংশোধন প্রস্তাব জাতীয় সংসদে পাস হলে বিশেষ পরিস্থিতিতে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত সরকার নিজেই নিতে পারবে। অর্থাৎ, সরকার নিজেই জ্বালানির দাম বাড়াতে-কমাতে পারবে।

বিদ্যমান আইনে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির দাম বিইআরসি ৯০ দিন সময় নিয়ে নির্ধারণ করে। এই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় ক্ষমতা নিজের হাতে নেওয়ার উদ্যোগ নিল সরকার। যদিও এর আগে বিদ্যমান আইনের লঙ্ঘন ঘটিয়ে মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার, এমন অভিযোগ রয়েছে।