শুধু লুক কিংবা ফিগার নয়, সুস্থ থাকতে বিভিন্ন রকমের ওয়ার্কআউট করেন বলিউড তারকারা। প্রতিদিন নিয়ম করে শরীরচর্চা করেন তাঁরা। কেউ দিনে ৪৫ মিনিট বা কেউ ২ ঘণ্টা জিমে কাটান। সপ্তাহে ছয় দিন জিম আর এক দিন বিশ্রাম; পাশাপাশি থাকে খাবারের দিকেও কড়া নজর। বলিউডের কয়েকজন তারকা শিল্পীর ফিটনেসের কথা জানাচ্ছেন উপমা পারভীন

আলিয়া ভাট
আলিয়া ভাট তাঁর ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই শরীর ফিট রাখতে মেনে চলেন সঠিক ডায়েট ও শরীরচর্চা। সব ধরনের শরীরচর্চার মধ্যে আলিয়াও পছন্দ করেন যোগব্যায়াম করতে। তিনি নিয়মিত যোগব্যায়াম করেন। এখন আলিয়ার যোগব্যায়ামের প্রশিক্ষক অংশুকা পারওয়ানি। আলিয়ার প্রিয় যোগব্যায়াম 'অর্ধমাস্তেন্ত্র পোজ' বা হাফ স্পাইনাল টুইস্ট আসন। জানেন কি, এই আসন স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী? এই ভঙ্গির প্রধান উদ্দেশ্য মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করা। এটি ঘাড় ও কোমরকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এই আসন করার ফলে পিঠের ওপরের অংশের টান পড়ে, যা পিঠের মেদ কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া আলিয়ার এই ভঙ্গি অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো সুস্থ রাখে; ফলে শরীরে আরও ভালোভাবে রক্ত সঞ্চালন ঘটে। পেট ও নিতম্বের পেশির সুস্থতাও ধরে রাখে। আসনটি করার ফলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যাওয়ার কারণেই ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে।


রণবীর সিং
বলিউডের 'খিলজি' খ্যাত অভিনেতা রণবীর সিং। তাঁর টোনড বডি নজর কাড়ে নেটনাগরিকদের। ব্যস্ত সিডিউলের মাঝে শরীর ফিট রাখতে কড়া ডায়েট ফলো করেন এই অভিনেতা। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে রাতের খাবার সবই হয় নিয়ম মেনে। রণবীরের সকালের খাবারের থাকে, ডিমের সাদা অংশ, কাটা ফল কিংবা ফলের রস, সঙ্গে খানিকটা সবজি। এরপরেই দুপুরের খাবারে থাকে গ্রিল্ড মাছ বা মাংস, সঙ্গে ভাত এবং মাছ। রাতে খাবারের আগে থাকে টিফিন, যা সাধারণত জিমের আগেই ইনটেক করেন অভিনেতা। থাকে বাদাম, আলমন্ড কিংবা প্রোটিন সেক জাতীয় ড্রিংক। এরপর ডিনারে থাকে, পরিমাণমতো ভাত, সাথে মাছ কিংবা চিকেন। কড়া ডায়েট এবং দিনে দুবার শরীর চর্চার পাশাপাশি রণবীর মনে করেন, ফিট অ্যান্ড ফাইন শরীর পেতে কিংবা সিক্স প্যাক অ্যাবস যুক্ত টোনড বডি পেতে শুধু এক্সারসাইজ করলেই চলবে না। তার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পান করাও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও ওয়ার্ক আউট রিজিম ফলো করার জন্য রণবীর নিয়মিত ৪৫ মিনিট ধরে ওয়েট ট্রেনিং এবং ৩০ মিনিট ধরে কার্ডিয়ো করেন প্রতিদিন।

কারিনা কাপুর খান
বলিউডে জনপ্রিয় অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খানের অভিনয় ও সৌন্দর্যের প্রশংসা করে পুরো বিশ্ব। তিনিই ভারতে জিরো ফিগারের ট্রেন্ড এনেছিলেন। বর্তমানে দুই সন্তানের জননী হলেও কারিনা তাঁর ফিটনেস ঠিক আগের মতোই ধরে রেখেছেন। নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি সঠিক ডায়েটের মাধ্যমে কারিনা তাঁর গর্ভাবস্থার মেদ খুব দ্রুত কমিয়েছেন। কারিনা জানান, গর্ভাবস্থায় শরীর সচল রাখা খুব জরুরি। এ জন্য হাঁটা, ওজন প্রশিক্ষণ, সাঁতারসহ ইয়োগা করেছেন। এসবের পাশাপাশি কিক বক্সিং কারিনা অনেক পছন্দ করেন। কারিনা বলেন, 'কিক বক্সিংয়ের অনেক মানসিক স্বাস্থ্য সুবিধা আছে। যা রাগকে শান্ত করে এবং ইতিবাচক শক্তিতে পূর্ণ করে। যদি আপনি এটি আপনার ফিটনেস রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করেন, তাহলে আপনি খুব দ্রুত অতিরিক্ত ওজন কমাতে পারবেন।' তিনি মনে করেন, 'প্রত্যেক নারীর উচিত প্রসবের পর যোগব্যায়াম করা। অবশ্যই ধারাবাহিকতার প্রয়োজন আছে।' কারিনার মতে, আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেন, ওয়ার্কআউট রুটিন তখনই কার্যকর হবে, যখন আপনি এর সঙ্গে সঠিক ডায়েট প্ল্যান অনুসরণ করবেন। কারিনার ডায়েটে কার্বস, ফ্যাট ও প্রোটিনের মিশ্রণ থাকে সমানভাবে।' কারিনার খাবারের তালিকায় ভাত, রুটির পাশাপাশি সবুজ শাক এবং মেথিও থাকে। পাশাপাশি হাইড্রেট থাকেন কারিনা। প্রচুর পরিমাণে পানি ও তাজা ফলের রস পান করেন তিনি।
ক্যাটরিনা কাইফ
ক্যাটরিনা কাইফের ছিপছিপে গড়ন ও উজ্জ্বল ত্বক সবাইকে মুগ্ধ করে। ফিটনেস ধরে রাখতে ক্যাটরিনা কী করেন? শরীরচর্চায় ক্যাটরিনা কখনও ফাঁকি দেন না। শুটিংয়ের ব্যস্ততা থাকুক বা না-থাকুক, ওয়ার্কআউট তিনি করবেনই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা শরীরচর্চা করেন ক্যাটরিনা। প্রতিদিন এক ঘণ্টা কার্ডিও ট্রেনিং করেন ক্যাট। পাশাপাশি স্ট্রেচিং, কিকিং, হিট ওয়ার্কআউটস, পাইলেটসসহ দিনে ৪৫ মিনিট ইয়োগা করেন এই অভিনেত্রী। এ ছাড়া নিয়মিত সাঁতার কাটেন ক্যাটরিনা। শরীরচর্চার এসব নিয়মে কখনও ফাঁকি দেন না ক্যাটরিনা। করোনাকালে যখন জিম বন্ধ ছিল, বাড়িতেই সিটআপ, স্কোয়াট, পুশআপের অভ্যাস করেছেন তিনি। ক্যাটরিনার এখন ফিটনেস ট্রেনার ইয়াসমিন করাচিওয়ালা। ডায়েটের ক্ষেত্রেও ক্যাটরিনা মেনে চলেন সহজ কিছু নিয়ম। সকালে উঠেই চার গ্লাস পানি পান করেন। তারপর কিছু নিউট্রিশন। এরপর শুরু হয় তাঁর ম্যাক্রোবায়োটিক ডায়েট। সেই ডায়েট চার্ট মেনে সকালে খান অল্প করে ওটমিল। সঙ্গে থাকে সবজি আর ফল। এ ছাড়া দিনে প্রচুর পানি পান করেন ক্যাটরিনা।

দীপিকা পাড়ূকোন
সিনেমা পরিবারের সন্তান না হয়েও নিজের প্রতিভার জোরে বলিউডে জায়গা করে নিয়েছেন দীপিকা পাড়ূকোন। দর্শক শুধু তাঁর অভিনয়েই নয়, ফ্যাশন ও ফিটনেস নিয়েও ভাবেন। তবে শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক সুস্থতা নিয়েও সচেতন দীপিকা। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি সরব। দীপিকার ফিটনেস রুটিনে থাকে 'পিলাটিজ'। নিজেকে ফিট রাখতে নিয়মিত পিলাটিজ করেন দীপিকা। তাঁর প্রশিক্ষক জেসমিন করাচিওয়ালা সূত্রে জানা গেছে, 'দীপিকার শারীরিক গঠন পিলাটিজের জন্য আদর্শ। এ ছাড়া রিফরমার মেশিনে ওয়ার্কআউট করতে ভালোবাসেন এই অভিনেত্রী। তবে প্রতিদিন একই রকমের ওয়ার্কআউট করেন না দীপিকা। তার পরিবর্তে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার ওপর। এ ছাড়া তিনি প্রতিবার বদলে ওয়ার্কআউট করতে ভালোবাসেন। দীপিকা প্রতিটি কাজ খুব মন দিয়ে করেন। সেই কাজ খুব ছোট হলেও তিনি সেখানে নিজের অধ্যবসায় দেখান। এক সাক্ষাৎকারে দীপিকা বলেন, 'দশ মিনিটের হাঁটা হোক, বেড়ানো হোক বা স্ট্রেচিং- সবটাই সমান গুরুত্বপূর্ণ।'


শিল্পা শেঠি
শিল্পা শেঠি মানেই স্টানিং লুক। নব্বইয়ের দশক থেকে যিনি পর্দায় সবার মনে ঝড় তুলে ধরে রেখেছেন নিজেকে। তাঁর ফিগার ধরে রাখার রহস্য কী, তা জানানোর জন্য এরই মধ্যে নিজের একটি অ্যাপও প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। ৪৫ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর শারীরিক কসরতবহুল ইয়োগা ও ওয়ার্কওয়াট ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের বদৌলতে অনেকেরই দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। শিল্পা দিনভর নানা কাজে ব্যস্ত থাকলেও নিয়মমতো শরীরচর্চা করেন। পাশাপাশি কড়া ডায়েটে নিজেকে বেঁধে রাখেন। বাইরের খাবার তো নয়ই, বরং সময় পেরিয়ে গেলে খাবারই খান না তিনি। শিল্পা প্রতিদিন সকালে খান টোস্ট ও পনির ভুজিয়া বা উপমা, ডালিয়া, দুটো ইটলি, সাম্বান ও গ্রিন টি। সকাল ১০টার পর খান পেঁপে বা দই দিয়ে মিক্সড ফ্রুট। দুপুরে ভাত বা দুটো রুটি, সঙ্গে ডাল, সবুজ সবজি ও দই। বিকেলে শরীরচর্চার আগে ওটস আধা কাপ, বাদাম বা পপকর্ন। রাতে শিল্পার খাবারের মেনুতে থাকে ভেজিটেবল স্যুপ, সঙ্গে লেবুর পানি।