বিরোধ, দ্বন্দ্ব, সংঘাত- সমাজবাস্তবতার এসব কিছুই বোঝে না সাড়ে তিন বছরের মুহাম্মদ ওয়ালিদ। কিন্তু তাকেই নিজ ঘরে প্রাণ দিতে হলো। ঘাতকের ছুরিকাঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে কচি দেহ। নৃশংসতায় গোটা এলাকার মানুষ হতবাক। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা ইসরাত জাহান। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন স্বজনরা।

নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর শিকারপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিকারপুর গ্রামে। ওয়ালিদ আরব আমিরাত প্রবাসী মুহাম্মদ জাবেদের ছেলে। দুই সপ্তাহ আগে তিনি শারজা গেছেন। ওয়ালিদের দুই চাচাও প্রবাসী। বৃহস্পতিবার বিকেলে জানাজা শেষে তার লাশ দাফন করা হয়েছে। কিন্তু থামেনি কলিজার ধন হারানোর আহাজারি।

কেন এভাবে ওয়ালিদকে হত্যা করা হলো, তা বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। দ্বিধায় এখন পর্যন্ত তারা মামলা করেননি। 

তবে তাদের ধারণা, মা-বাবার প্রতি কারও প্রচণ্ড ক্ষোভ ছিল, ওয়ালিদকে বাড়িতে একা পেয়ে প্রতিশোধ নিয়েছে। এক দিন পার হলেও পুলিশ ঘটনার কূলকিনারা করতে পারেনি।

নিহতের স্বজনরা জানান, ওয়ালিদ মা ইসরাত জাহান ও দাদি রওশন আরা বেগমের সঙ্গে বাড়িতে থাকত। সম্প্রতি মেয়েকে নিয়ে বেড়াতে আসেন তার ফুফু সোনিয়া সুলতানা। বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে ওয়ালিদকে শোবারঘরে রেখে সবাই পুকুরে গোসলে যান। গোসল শেষে ফিরে এসে ঘরের মেঝেতে ক্ষতবিক্ষত ওয়ালিদের নিথর দেহ পান মা। মায়ের আর্তচিৎকারে অন্যরাও ছুটে আসেন। দ্রুত ওয়ালিদকে নগরের অনন্যা আবাসিক এলাকার বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে নেন; ততক্ষণে সব শেষ। কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্যু সনদের আনুষ্ঠানিকতা সারেন।

ওয়ালিদের নানা মুহাম্মদ ইউসুফ বলেন, কে বা কারা আমাদের কলিজার টুকরোর ওপর এমন নৃশংসতা চালাল বুঝতে পারছি না। ও তো কারও কোনো ক্ষতি করেনি। আমার ধারণা, মেয়ে-জামাইয়ের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল। মাসুম শিশুর ওপর নৃশংসতা চালিয়ে সেই ক্ষোভ মিটিয়েছে। আমরা খুনিকে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

শিকারপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল খালেক বলেন, এমন নির্মম ঘটনা আগে কখনও দেখিনি। আশা করছি, পুলিশ দ্রুত খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করবে।

হাটহাজারীর মদুনাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মুহাম্মদ মাহাবুব আলম বলেন, শিশুটির গলা, পেট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আঘাতের ধরন দেখে মনে হচ্ছে, কোনো কারণে পরিবারটির ওপর খুনি খুবই ক্ষুব্ধ ছিল। প্রতিশোধ নিতেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। আমরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছি।