ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় ক্ষোভে-লজ্জায় আত্মহত্যা করেছেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার বাসিন্দা রুপা আক্তার (২২)। 

রুপার মা মর্জিনা বেগম সমকালকে জানান, সোমবার সকালে বন্দরের বালিগাঁও এলাকায় ভাড়া বাড়িতে রুপা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। 

চারদিন আগে গত ২ জুন ওই তরুণীর মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। ওই মামলা দায়ের পর অভিযুক্ত  নুরুলের স্ত্রী শ্যামলী বেগম ও ভাগ্নে মো. ইব্রাহিম রুপার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। 

বন্দর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা সমকালকে বলেন, পুলিশ রুপার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর থেকে প্রধান অভিযুক্ত নুরুল আমিন, তার স্ত্রী শ্যামলী বেগম ও ভাগ্নে মো. ইব্রাহিম পলাতক রয়েছে।

নুরুল আমিন বালিগাঁও এলাকার মৃত জামির খানের ছেলে।  

স্থানীয়রা জানান, দিনমজুর রওশন জামিল ও মর্জিনা বেগমের মেয়ে রুপা আক্তারকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন নুরুল। রুপার বাবা-মা কাজের জন্য বাড়ির বাইরে গেলে নুরুল রুপার বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। পাশাপাশি গোপনে ভিডিও ধারণ করে। 

কিছুদিন ধরে রুপা বিয়ের জন্য চাপ দিলে নুরুল টালবাহানা শুরু করেন বলে অভিযোগ রুপার পরিবারের। পরে রূপা তার মাকে সব জানালে মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে গত ২ জুন নুরুল আমিনকে আসামি করে বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পর নুরুলের স্ত্রী শ্যামলী বেগম ও তার ভাগ্নে ইব্রাহিম গত রোববার শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।